শনিবার, জানুয়ারি ১৬
Shadow

শ্রীপুরে রশি দিয়ে বেঁধে দুই শ্রমিককে নির্যাতন

 

 গাজীপুর প্রতিনিধি : শ্রীপুরের কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামে অবস্থিত গেলি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানায় জানালার গ্রিলের সঙ্গে দুই হাত উঁচু করে রশি দিয়ে বেঁধে দুই শ্রমিককে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে ।

নির্যাতিত ওই দুই শ্রমিক হলেন খুলনা জেলার দৌলতপুরের গিলাতলা গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে রাসু হোসেন (২৬) ও পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি থানার চরবলেশ্বর গ্রামের খলিল মিয়ার ছেলে শাহিন আলম (২২)। তাঁরা ওই কারখানায় এক্সট্রা পদে চাকরি করতেন।

কারখানার প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকেরা জানান, ওই দুই কর্মী কারখানার পাশে হাবিবুর রহমান ও মহসিনের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তাঁরা দুজন যাঁর যাঁর বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। সোমবার ভোরে কারখানার কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ ওরফে শিপন পাটোয়ারী ও কেওয়া পূর্ব খণ্ড গ্রামের কবির হোসেনের নির্দেশে কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের দিয়ে তাঁদের ঘুম থেকে তুলে কারখানায় নিয়ে আসা হয়। কারখানায় চুরির অপবাদ দিয়ে কবির হোসেনের সহায়তায় কর্মকর্তারা তাঁদের রশি দিয়ে বেঁধে মুখে কাপড় গুঁজে কারখানার ভেতর বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে শাহিন চেতনা হারান। তাঁর চেতনা ফিরলে সকাল নয়টার দিকে কারখানা থেকে বের করে প্রধান ফটকের সামনে গলায় চোর লেখা কাগজ ঝুলিয়ে একটি কক্ষের জানালার গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে অনেক উৎসুক লোক সেখানে জড়ো হয়। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় কারখানা কর্তৃপক্ষ তাঁদের বাঁধন খুলে কারখানায় নিয়ে জোর করে কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তাঁদের চাকরিচ্যুতির নোটিশ ধরিয়ে দেয়। এ সময় কারখানা কর্তৃপক্ষ তাঁদের বকেয়া বেতন পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করে। কবিরের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁদের ভয়ভীতি দেখিয়ে দ্রুত এলাকা থেকে চলে যাওয়ার আদেশ দেন। তাঁদের দেওয়া নোটিশে লেখা আছে, ‘কোম্পানির মাল চুরির দায়ে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হলো এবং তাঁদের সতর্ক করে দেওয়া হলো, কোম্পানির মাল চুরির দায়ে তাঁদের এই এলাকা ছেড়ে যেতে হবে। পরবর্তী সময়ে তাঁদের এই এলাকায় দেখা গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোম্পানির মাল চুরির দায়ে তাঁদের কোনো বেতন দেওয়া হবে না।’

কারখানার শ্রমিক শাহিন ও রাসু চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করেন, তাঁরা দু’জনই যার যার বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। সোমবার ভোরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের ঘুম থেকে তুলে কারখানার নিয়ে যায়। পরে চুরির অপবাদ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে গলায় চোর লেখা কাগজ ঝুলিয়ে জানালার গ্রীলের সাথে বেঁধে রাখে। তারা আরো জানায়, শাহিনের ভাড়া বাসার সামনে থেকে কারখানার একটি সীসার দন্ড পাওয়ায় তাকে চোর সাব্যস্ত করে এবং তাদের উপর নির্যাতন চালানো হয়।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার এসআই নাজমুল হাসান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে যাদের মারধর করা হয়েছে ওই শ্রমিকদের পাওয়া যায়নি।

এসআই আরো বলেন, ওই কারখানাটি চাইনিজ মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত। কারখানা শ্রমিকদের দেখাশুনা করে কর্তৃপক্ষের নিয়োগকৃত বাংলাদেশের দুইজন দোভাষী। ওই দুই দোভাষী এসএস রড় চুরির অপরাধে ওই শ্রমিকদের চড় থাপ্পর দিয়ে মুসলেকা রেখে ছেড়ে দেয়। এ ব্যাপারে কোন অভিযোগকারী পাওয়া যায় নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.