শুক্রবার, মে ৭
Shadow

অস্থির চালের বাজার

চালের দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বস্তুত গত তিন দিনে মোটা চালসহ সবধরনের চালের দাম কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেড়েছে। সরকার অবশ্য বলছে, পাইকারি বা খুচরা বাজারে চালের কোনো ঘাটতি নেই। ব্যবসায়ীদের একটি চক্র পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করছে। আমরা আগেও দেখেছি, অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গঠনসহ নানা উপায়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রয়াস চালিয়ে থাকে। প্রশ্ন হল, সরকার যদি ব্যবসায়ীদের কারসাজির বিষয়টি বুঝতেই পারে, তাহলে কেন এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না? ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে চালের দাম সহনশীল মাত্রায় আনতে না পারলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীসহ দেশের সিংহভাগ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
বাজারে পণ্যমূল্য নির্ভর করে চাহিদা ও জোগানোর ওপর। জোগান কমে গেলে অথবা চাহিদা বৃদ্ধি পেলে পণ্যের দাম বাড়ে, যা সাধারণত চালসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ক্ষেত্রে আরও বেশি প্রযোজ্য। যদিও সরকার সরাসরি বাজারে চাল বিক্রি করে না, তবে ভিজিডি, ভিজিএফ, ওএমএসের মাধ্যমে দরিদ্র শ্রেণীর মানুষের কাছে চাল পৌঁছানো হয়। এ বছর হাওরে আগাম বন্যা ও ব্লাস্টরোগসহ অন্যান্য কারণে বোরো উৎপাদন কম হয়েছে। তাছাড়া বন্যায় আমনের চাষাবাদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় সরকারের উচিত ছিল সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়া। কিন্তু সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে তারা চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে মিডিয়ার নেতিবাচক প্রচারণা ও অসাধু ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা লাভের প্রবণতা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। এর ফল হয়েছে বিষম। চালে দাম বাড়তে বাড়তে বর্তমানে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। অহেতুক কারও দিকে অভিযোগের তীর না ছুঁড়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে চালের বাজারে আজ এ অস্থিরতা পরিলক্ষিত হতো না, তা বলাইবাহুল্য।
বিশ্বে বাংলাদেশেই মোটা চালের দাম সর্বাধিক। তবে এর পেছনে থাকা কারণগুলো অজানা নয়। এখন সরকার কিভাবে এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে, সেটাই দেখার বিষয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গতকাল থেকে খোলাবাজারে চাল বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে কেজিপ্রতি এর দাম ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করায় এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে বলেই মনে হয়। অন্যদিকে আগামী বুধবার থেকে সারা দেশে ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণের ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’ চালু হওয়ার কথা। অন্যদিকে তিন লাখ টন চাল রফতানি চূড়ান্ত করতে মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধি দল শনিবার বাংলাদেশে এসেছে। এছাড়া আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর খাদ্যমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে মিল মালিকদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার এবং মিল মালিকরা পরস্পরের দিকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করলে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন নয় বলে আমরা মনে করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.