প্রাথমিকে পোশাক জুতা ব্যাগ

২০২০-২১ সালকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ হিসেবে। তেমন উৎসব আর আয়োজনকে সামনে রেখে হরেক রকম প্রকল্পও কার্যকর করার ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সূচকে গত দশ বছরে সময়োপযোগী এবং প্রাসঙ্গিক কর্মপ্রবাহকে যুক্ত করে শিক্ষা ব্যবস্থার মান বাড়ানো সরকারের একটি নিরন্তর কার্যক্রম। বিশেষ করে প্রাইমারী শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্ষুদে প্রজন্মের জ্ঞানের ভিত্তি গড়তে আধুনিক সব ধরনের বিদ্যা অর্জনকে সমধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তিতেও শিশুদের পারদর্শী করে তুলতে সরকারী পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। বিনামূল্যে বই বিতরণ থেকে শুরু করে উপবৃত্তি প্রদানও এক অবিস্মরণীয় কর্মদ্যোতনা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষকে আরও স্মরণীয় করতে এসব শিশু এবার পাবে স্কুল ব্যাগ, পোশাক এবং জুতা। সেই লক্ষ্যমাত্রায় বছরের শুরুতে এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে মাথাপিছু ৫০০ টাকা করে দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদে প্রতিমন্ত্রী সরকারের এমন শিক্ষার্থীবান্ধক কর্মসূচী সবাইকে অবহিত করেন। কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা অভাবনীয় এই উপহার পেতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পালনের গণমুখী কর্মপ্রকল্পের আওতায়।

শিক্ষার্থীদের আনন্দ উপভোগের মাত্রায়ও সরকার যুগান্তকারী প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের মানসিক বিকাশ, পড়াশোনায় যথার্থ মনোসংযোগ ছাড়াও সুন্দর পরিবেশে উৎফুল্ল থাকার এমন সব উপকরণও সংশ্লিষ্টদের মাঝে বিতরণ করা হবে। যাতে শিক্ষা কার্যক্রম তাদের ওপর চাপের বদলে আনন্দ আর খুশির খোরাক হতে পারে। শিক্ষা যে কোন মানুষের মৌলিক অধিকারই শুধু নয়, তাকে আয়ত্তে আনতে বিভিন্ন জ্ঞানোদ্দীপক কর্মসূচীতেও তার অংশীদারিত্ব অত্যন্ত জরুরী। যা একটি দক্ষ মানব সম্পদ তৈরির প্রাথমিক ভিত্তি। বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার হার নজরকাড়াভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সমতাভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে ছাত্রছাত্রীর সমঅংশ গ্রহণ আজ বিশ্বসভায়ও স্বীকৃত ও নন্দিত। আর সেটা সম্ভব হয়েছে উন্নয়ন দশকের অবারিত ও মুক্ত কর্মপ্রবাহের নিরবচ্ছিন্ন গতিতে। তবে যে কোন মহৎ ও বৃহৎ কর্মপ্রকল্প বিভিন্ন রকম বাধাবিপত্তিকে মোকাবেলা করেই এগিয়ে যেতে হয়। জনহিতকর কার্যক্রমে সময়ক্ষেপণ, জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতার জালে আটকে পড়ার নজিরও কম নেই। কর্মপরিকল্পনার মাঝপথে সঙ্কট তৈরি হতেও সময় লাগে না। তাই গণমুখী এসব কল্যাণকর ব্যবস্থাপনায় সর্বক্ষণিক নজরদারি যেমন আবশ্যক, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তাদের সচেতন দায়বদ্ধতাও বিশেষভাবে কাম্য। কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট আনন্দযোগে যেন কোন ধরনের বিপত্তির অবকাশ তৈরি হতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখাও নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। বর্তমানে বাংলাদেশ নিরক্ষরতার অভিশাপকে জয় করে গণশিক্ষার হারকে অনেকখানি বাড়িয়ে দিতে সমর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে আমাদের স্বাক্ষরতার হার প্রায় ৭৪ শতাংশ। এটা অর্জন করতে গিয়ে বর্তমান সরকার সংশ্লিষ্ট বিভাগ, অধিদফতর এবং মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গণমুখী শিক্ষা কার্যক্রমের প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন কর্মযোগকে নিরন্তর এগিয়ে দিয়েছে। যার সুফল বর্তমানে দৃশ্যমানও হচ্ছে। আগামীর বাংলাদেশ এই লক্ষ্যে ক্রমাগত সামনের দিকে ধাবমান। সরকার নির্ধারিত শিক্ষাবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচীও সংশ্লিষ্টদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক শক্তির ভূমিকা রাখবে নিরন্তর।