শুক্রবার, এপ্রিল ২৩
Shadow

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দুর্গামণ্ডপ সিকদার বাড়িতে ৬৫১টি প্রতিমা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাগেরহাটে ৬০৫টি মণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রতিমাশিল্পীরা।

কোনো কোনো মন্দিরে প্রতিমা তৈরি পুরোপুরি শেষ হয়েছে। আবার কোনটিতে চলছে দেব-দেবীকে রঙিন করার কাজ।

তবে এ বছরও দেশের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও সবচেয়ে বেশি প্রতিমা নিয়ে সিকদার বাড়ির দুর্গা উৎসব হতে যাচ্ছে। এবার এই মণ্ডপে ৬৫১টি প্রতিমা নিয়ে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দুর্গা উৎসবের আয়োজন করেছে।

১৯ সেপ্টেম্বর শুভ মহালয়া অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দূর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২৯ সেপ্টেম্বর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৫ দিনব্যাপী এ উৎসব।

এ বছর বাগেরহাট জেলার বেশ কয়েকটি মন্দিরে শতাধিক প্রতিমার মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। এদের মধ্যে সিকদার বাড়ি ছাড়াও চুলকাঠি বনিকপাড়া, ফকিরহাট, কাড়াপাড়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপ অন্যতম।

এ বছর পূজামণ্ডপগুলোকে একটু বিশেষভাবে সাজানো হচ্ছে।
গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও জেলার বৃহৎ আয়োজন বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের সিকদার বাড়িতে।

গত বছরের চেয়ে আরও অর্ধশত প্রতিমা বাড়িয়ে এবার ৬৫১টি প্রতিমা নিয়ে দুর্গোৎসব আয়োজন করা হয়েছে  সিকদার বাড়িতে। গত ৭ বছর ধরে ব্যবসায়ী লিটন সিকদার নিজ বাড়িতে এই দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছেন।

লিটন সিকদারের দাবি, প্রতিমার সংখ্যার দিক দিয়ে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পূজা মণ্ডপ। গত বছর এখানে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয় ৬০১টি প্রতিমা দিয়ে। এ বছর তার সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬৫১টিতে।

তিনি জানান, ২০১০ সাল থেকে নিজ বাড়িতে দুর্গাপূজার এই আয়োজন শুরু হয়। প্রথমবার ২০১টি প্রতিমা দিয়ে শুরু হয় পূজা। প্রতিবছর দেশের ও দেশের বাইরের দর্শনার্থীরা অসংখ্য প্রতিমার সমন্বয়ে সিকদার বাড়ির দুর্গাপূজা দেখতে এখানে জড়ো হয়।

এবার ৬৫১টি প্রতিমা মণ্ডপে স্থান পেয়েছে যা দেখতে আরও ব্যতিক্রম বলে দাবি করেন লিটন সিকদার।

সিকদার বাড়ির প্রতিমাশিল্পী মিলন বাছাড় বলেন, রামায়ণ ও মহাভারতের দেব-দেবীর নানা কাহিনী অবলম্বনে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। প্রায় পাঁচ মাস ধরে ১৫ জন কারিগর দিনরাত ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। এখন শেষ সময়ে রং তুলির কাজ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, সিকদারবাড়ির এমন দুর্গাপূজা আয়োজনে আমরা দারুণ খুশি। দূর্গোৎসবে এখানে সব ধর্মের মানুষ মিলিত হয়।

প্রতিমা তৈরি দেখতে আসা সুমনা সাহা জানান, মা দুর্গার আগমন উপলক্ষে আমরা উচ্ছ্বসিত। বছরে একবারই মা আসেন। তাই এসময়কে আমরা উপভোগ করতে চাই।

হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বাগেরহাট জেলা সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট মিলন কুমার ব্যানার্জি জানান, দুর্গোৎসবে আমাদের সকল প্রস্তুতি ভালোভাবে চলছে। বিগত বছরের তুলনায় এবছর আরও আড়ম্বরপূর্ণ হবে আমাদের এ অনুষ্ঠান।

‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার।’ তাই উৎসবে বাগেরহাটের সকল ধর্মের মানুষ সমানভাবে আনন্দ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় বলেন, এবছর বাগেরহাটের ৯ উপজেলা ও ৩ পৌরসভার ৬০৬টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে এ উৎসব। ৯ উপজেলার মধ্যে চিতলমারী উপজেলায় সব থেকে বেশি ১৩৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, দূর্গোৎসবে জেলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সব রকম প্রস্তুতি নিয়েছি। জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে কমপক্ষে একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী বেশি সংখ্যক পুলিশ সদস্যও মোতায়েন করা হবে।

পুলিশের পাশাপাশি আনসার-ভিডিপির সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন উল্লেখ করে পঙ্কজ চন্দ্র রায় বলেন, পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম ও মোবাইল নম্বর প্রিন্ট করে প্রত্যেক মণ্ডপের গায়ে লাগানো থাকবে। যাতে করে কোনো সমস্যা হলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.