শুক্রবার, এপ্রিল ২৩
Shadow

নেপথ্যের সেই কুশীলব কাহারা?

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ‘বাংলাটিলা’ এলাকায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করিতে গিয়া ভূমিধসে ৫ কিশোরসহ ৬ জনের মৃত্যু হইয়াছে। নিহত পাঁচ কিশোরই স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটিয়াছে গত মঙ্গলবার ভোরে। সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার নিশ্চিত করিয়াছেন যে, ‘বাংলাটিলা’ এলাকায় পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ। তাহা সত্ত্বেও কোমলমতি এই কিশোরদের পাথর উত্তোলন করিতে কে বা কাহারা প্ররোচিত করিয়াছে তাহা এখনো জানা যায় নাই। যথারীতি প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ হইতে দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হইয়াছে। তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হইবে কিনা কিংবা হইলেও প্রকৃত অপরাধীদের আদৌ আইনের আওতায় আনা সম্ভব হইবে কিনা বলা মুশকিল। কারণ অত্রাঞ্চলে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন যেমন নূতন নহে, তেমনি আকস্মিক নহে এই ধরনের প্রাণহানির ঘটনাও। প্রায়শ তাহা সংবাদপত্রের শিরোনামও হয়। কিন্তু প্রতিকার যে হয় না—মাদ্রাসার শিশুশিক্ষার্থীরা মরিয়া তাহা আবারও প্রমাণ করিয়া গেল।

জানা যায়, গত ২৩ জানুয়ারি হইতে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকালে মারা গিয়াছেন ২২ জন। আহত হইয়াছেন অনেকেই। হতাহতদের প্রায় সকলেই স্থানীয় হতদরিদ্র মানুষ। যত্রতত্র যথেচ্ছভাবে পাথর উত্তোলনের কারণে শুধু যে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটিতেছে তাহাই নহে, সেইসঙ্গে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছে পরিবেশগত ভারসাম্যও। ফলে প্রায়শ ভূমিধসের ঘটনা ঘটিতেছে। ‘বাংলাটিলা’র সাম্প্রতিক পাহাড়ধসই তাহার একমাত্র উদাহরণ নহে। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়িয়া দিনের পর দিন এই ধ্বংসযজ্ঞ চলিতেছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের কঠোর নজরদারির তোয়াক্কা না করিয়া ভুক্তভোগী শ্রমিক কিংবা গুটিকয় মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর পক্ষে যে অব্যাহতভাবে এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ চালাইয়া যাওয়া সম্ভব নহে—তাহা বুঝিবার জন্য বিশেষজ্ঞ হইবার প্রয়োজন পড়ে না। প্রশ্ন হইল, নেপথ্যের সেই কুশীলব কাহারা? তাহারা কি সত্যিই প্রশাসনের অপরিচিত? অন্য পরিচয় যাহাই হউক, নেপথ্যের এই মানুষগুলি যে অত্যন্ত ক্ষমতাশালী তাহাতে সন্দেহের অবকাশ নাই বলিলেই চলে। তাহা না হইলে পাথর-কোয়ারিবহির্ভূত এলাকায় বছরের পর বছর ধরিয়া পাথর উত্তোলন চলে কীভাবে?

অভিযোগ আছে যে, অদৃশ্য এই প্রভাবশালীরা স্থানীয় প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করিয়া অবাধে এই অবৈধ কাজ চালাইয়া যাইতেছেন। এই অভিযোগ যেমন উড়াইয়া দেওয়া যাইবে না, তেমনি এই কথা বলাও সমীচীন হইবে না যে, অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন কখনো কিছুই করে নাই। ইহা সুবিদিত যে, বিভিন্ন সময়ে পুলিশি অভিযান চালাইয়া পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহূত মেশিনপত্র জব্দ বা ধ্বংস করা হইয়াছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজাও দেওয়া হইয়াছে আটককৃতদের। কিন্তু অবৈধ তত্পরতা বন্ধ হয় নাই। কেন হয় নাই তাহা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই ভালো বলিতে পারিবেন। তবে এইসকল অভিযানের আন্তরিকতা লইয়া জনমনে সংশয় রহিয়াছে। সেই সংশয় দূর করিবার দায়িত্ব প্রশাসনকেই নিতে হইবে। আমরা কেবল এইটুকুই বলিব যে, অনতিবিলম্বে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ করিতে হইবে এবং যত প্রভাবশালীই হউক না কেন, বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাইতে হইবে প্রকৃত অপরাধীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.