মঙ্গলবার, মার্চ ২
Shadow

শিশু আদালত বয়স্কদের আদালতে পরিণত হয়েছে: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক :

শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার বিচার কোন আইনে বা কোন আদালতে হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে শিশু আইন-২০১৩ সংশোধন করতে সরকারকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ রবিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।   হাইকোর্ট এ বিষয়ে শুনানিকালে বলেন, ‘শিশু আদালত এখন বয়স্কদের আদালতে পরিণত হয়েছে। ভিকটিম শিশু। অথচ প্রাপ্তবয়স্কদের বিচার হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা, আইনের অস্পষ্টতা দূর করা হোক। আপনাদের ডেকেছি আমাদের এই অনুভূতি জানানোর জন্য। আদালতের তলবে সমাজকল্যাণ সচিব জিল্লার রহমান এবং আইন মন্ত্রণালয়ের আইন প্রণয়ন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের (ড্রাফটিং উইং) সচিব মোহাম্মদ সহিদুল হক হাজির হলে আদালত এসব কথা বলেন। তবে ড্রাফটিং উইং-এর সচিব মোহাম্মদ সহিদুল হক আদালতকে বলেছেন, আশা করি এ সময়ের মধ্যেই আইন সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করতে পারবো।

গত ২৯ অক্টোবর হাইকোর্ট এই দুই সচিবকে তলব করেন। গতকাল বিকেলে ওই দুই সচিব হাইকোর্টে হাজির হন। হাইকোর্ট তাদের কাছে জানতে চান, আইনের অস্পষ্টতা দূর করতে সমস্যা কোথায়? আদালত বলেন, আমরা দেখছি, শুধুই চিঠি চালাচালি হচ্ছে। আমাদের আশা হলো দ্রæত বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেবেন। এসময় সচিব সহিদুল হক বলেন, আইন সংশোধনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে এর আগেই আইন সংশোধন হলে ভাল হতো। কিন্তু তা হয়নি। এজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। সচিব সহিদুল হক আইন সংশোধনের জন্য ২ মাস সময় চান । এরপর সমাজকল্যাণ সচিব বলেন, আমরা আইন সংশোধনের একটি খসড়া ভেটিং-এর জন্য গত ৭ মে পাঠিয়েছি আইন মন্ত্রণালয়ে। এখনও সেটা ফেরত আসেনি। আমাদের কাছে ফেরত আসার সাতদিনের মধ্যেই চ‚ড়ান্ত করতে পারবো। এরপর আদালত আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়ে আদেশ দেন। এ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, কোনো অপরাধী যদি শিশু হয় তাহলে তার মামলা শিশু আদালতে পাঠাতে পারেন। আদালত বলেন, নতুন কোনো বিশেষ আইন হলে সে আইনের মামলা বিচারের আগে বিচারক, তদন্ত কর্মকর্তা, আইনজীবী সকলের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে ঢাকা, কক্সবাজার ও রংপুরে করা পৃথক চার মামলায় বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। চারটি মামলার মধ্যে দুটি করা হয় শিশু আইনে, অপর দুটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে। পৃথক দুই আইনে দায়ের হওয়া  মামলার সাজাও আলাদা। শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি প্রাপ্ত বয়স্ক হলে তার বিচার কোন আইনে বা কোন আদালতে হবে সে-বিষয়ে গতবছর ১৪ আগস্ট তিন সচিবের কাছে ব্যাখ্যা চান হাইকোর্ট। গতবছর ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হলেও কেউই ব্যাখ্যা দাখিল করেননি। এরপর আদালত অবমাননার রুল জারি করা হলে সচিবরা জানান, শিগগিরই আইনের অস্পষ্টতা দূর করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.