শুক্রবার, এপ্রিল ২৩
Shadow

‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ : রাজনীতির মহাকাব্য’ গ্রন্থের পাঠ উন্মোচন

প্রাইম ডেস্ক :

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ থেকে ২৬টি বাক্য বাছাই করে প্রতিটি বাক্যের ওপর দেশের খ্যাতিমান লেখক বুদ্ধিজীবীদের বিশ্লেষণ সংকলিত করে প্রকাশিত ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ : রাজনীতির মহাকাব্য’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক এবং এর ই-বুক ও মোবাইল অ্যাপের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (১৩ নভেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরিষদের সভাকক্ষে সভা শুরুর পূর্বে তিনি বইটির মোড়ক উম্মোচন, বইটির ডিজিটাল ভার্সন ই-বুক এবং মোবাইল অ্যাপের উদ্বোধন করেন।

২২৪ পৃষ্ঠার ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ : রাজনীতির মহাকাব্য’ গ্রন্থের মুখবন্ধ রচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ থেকে বাছাইকৃত ২৬টি বাক্যের বিশ্লেষণ করেছন দেশের খ্যাতিমান লেখক, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকবৃন্দ। বইটিতে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিক্ষাবিদ ও সমাজবিশ্লেষক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, এমিরিটাস প্রফেসর আনিসুজ্জামান, আব্দুল গাফফার চৌধুরী, কামাল লোহনী, প্রফেসর মুনতাসীর মামুন, হাসান আজিজুল হক, অজয় রায়, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, আবেদ খান, ডা. এস এ মালেক, আনিসুল হক, সেলিনা হোসেন প্রমুখ লিখেছেন।

মুখবন্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লিখেছেন, ‌‘জাতির পিতার এই কালজয়ী ভাষণে ধ্বনিত হয়েছিল বাংলার গণমানুষের প্রাণের দাবি। এ ভাষণে বাঙ্গালির প্রতি পাকিস্থানী শোষকগোষ্ঠীর হত্যা-নিপীড়ন-নির্যাতনের চিত্র মূর্ত হয়ে ওঠে। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের আবশ্যকতা ও আকাক্সক্ষা ছিল এ ভাষণের মূল লক্ষ্য। শত্রুর মোকাবিলায় তিনি বাঙ্গালি জাতিকে নির্দেশ দেন, ‘তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাক। স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্বে ৭ই মার্চের এই ভাষণ গোটা জাতিকে ঔপনিবেশিক পাকিস্থানী শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করে। জাতির পিতার এই সম্মোহনী ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে বাঙ্গালি জাতি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।’

‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ: রাজনীতির মহাকাব্য’ গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। বইটির পরিকল্পক ও প্রধান উপদেষ্টা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। প্রচ্ছদ এঁকেছেন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক অধ্যাপক হাশেম খান।

বইটির মোড়ক উন্মোচন, ই-বুক ও মোবাইল অ্যাপ উদ্বোধনের পর উচ্ছাস প্রকাশ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালি জাতির সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ষড়যন্ত্রকারীরা পরিকল্পিতভাবে দীর্ঘদিন আমাদের দুটো প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধু, জয় বাংলা, ৭ই মার্চের ভাষণ, মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সোনার বাংলার আধুনিক রূপ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তখন তরুণ প্রজন্মকেও সামনে এগিয়ে যেতে, তাদের আত্মবিশ্বাস সুদৃঢ় করতে এবং তাদেরকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার জন্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের গৌরবগাঁথা পৌঁছে দেওয়া একান্ত কর্তব্য ভেবেছি।

তিনি বলেন, দেশের প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গের চিন্তাধারার সমাবেশ ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণটি নিয়ে আমরা ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ: রাজনীতির মহাকাব্য’ শীর্ষক বিশ্লেষণধর্মী বইটির যেমন প্রিন্টেড ভার্সন করেছি, তেমনি তরুণ প্রজন্মের কাছে ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমেও যেন এই ভাষণটি ছড়িয়ে দেয়া যায় সে লক্ষ্যে বইটির একটি ই-বুক ও মোবাইল অ্যাপ তৈরী করেছি।

উল্লেখ্য যে, মোবাইল অ্যাপে ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ: রাজনীতির মহাকাব্য’ বইটির পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের কালার ভার্সন এবং ৭ই মার্চের ভাষণকে ১২ ভাষায় অনুদিত করে প্রকাশিত ‘পয়েট অব পলিটিক্স’ বইটির ই-বুকও সংযোজন করা হয়েছে। সেইবই এর অ্যাপ্লিকেশন অথবা ওয়েবসাইটেও ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ: রাজনীতির মহাকাব্য’ বইটির ‘ই-বুক’ পড়া যাবে। আর বইটির ওপর অবমুক্তকৃত মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ‘7th March Speech Analysis’ নামে গুগল প্লে-স্টোর হতে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যাবে। মোবাইল অ্যাপটি ডাউনলোড করতে ভিজিট করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.