রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮
Shadow

আজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর

আজ ১৫ নভেম্বর (বুধবার), সিডরের ১০ বছর। ২০০৭ সালের এ রাতে শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াল সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় অঞ্চল লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল। উপকূলীয় অঞ্চলের শত-শত মানুষের জীবন প্রদীপ নিভে যায়। এখনো নিখোঁজ রয়েছে বহু মানুষ। মারা গিয়ে ছিল হাজার হাজার গবাদি পশু। আগের দিনও যে জনপদ ছিল মানুষের কোলাহলে মুখরিত, মাঠ জুড়ে ছিল কাঁচা-পাকা সোনালি ধানের সমারোহ, পরের দিনই সেই চির চেনা জনপথ পালটে যায়।

দিনটিকে স্মরণ করতে স্বজন হারা মানুষেরা মিলাদ মাহফিল, দোয়া মনাজাত, কোরআনখানি ও নানাবিধ আয়োজন করে থাকে।

১০ বছর পরে সেই স্মৃতি আজও যারা বেঁচে আছেন এবং তাদের মধ্যে যারা আত্মীয় স্বজন হারিয়েছেন সেই বিভীষিকাময় দিনটি মনে পড়লেই আঁতকে ওঠেন। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপে সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। নিম্নচাপটি কয়েক বার গতি পরিবর্তন করে মধ্যরাতে অগ্নিমুর্তি ধারন করে। রাতে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানে ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা উপকূলীয় অঞ্চলে।

ঝড়ের তীব্রতা কমে যাওয়ার পর শুরু হয় স্বজনদের খোঁজাখুজি। যে দিকে চোখ যায় শুধু লাশ আর লাশ উপকূলের বাতাসের কানপাতলেই মৃত্যু পথযাত্রি শত মানুষের চিৎকার আর স্বজনদের আহাজারি ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও সেদিনের দুঃসহ স্মৃতি আজও জেগে আছে স্বজনহারাদের মাঝে। দুঃখ স্বপ্নের মত আজও তাড়া করে তাদের।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বরিশাল অঞ্চলের কার্যালয় জানিয়েছে, দেশের উপকূল সুরক্ষায় বর্তমানে ১২৩টি পোল্ডারের অধীনে পাউবোর পাঁচ হাজার ১০৭ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ৯৫৭ কিলোমিটার হচ্ছে সমুদ্র-তীরবর্তী বাঁধ।

সমুদ্রের তীরবর্তী এই বাঁধের সিংহভাগই বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার আওতায়। সূত্র আরও জানায়, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের সিডরে উপকূলীয় অঞ্চলের দুই হাজার ৩৪১ কিলোমিটার বাঁধ আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিস্তহয়।

যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৭০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ছয় জেলার প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সম্পূর্ণ এবং এক হাজার ৪০০ কিলোমিটার বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.