শুক্রবার, এপ্রিল ২৩
Shadow

অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা

দেশে অপরাধীরা কি আবার মাথাচাড়া দিয়া উঠিতেছে? সামপ্রতিককালে সংখ্যালঘুদের ওপর যেমন হামলার খবর পাওয়া যাইতেছে, তেমনি পাওয়া যাইতেছে দুর্ধর্ষ ডাকাতি এবং হত্যাকাণ্ডের খবরও। রংপুরের ঘটনার রেশ না কাটিতেই বাগেরহাটের চিতলমারীতে দুইটি সংখ্যালঘু পরিবারের বসতঘরে তালা লাগাইয়া অগ্নিসংযোগ করিয়াছে দুর্বৃত্তরা। আর গতকালের খবর অনুযায়ী রাজধানীর বনানীতে একজন ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হইয়াছে গুলি করিয়া। এই খুনিরা এককথায় ভয়ঙ্কর। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়াছে, মুখোশধারী চার হামলাকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকিয়া ফিল্মি কায়দায় হত্যা করিয়া পালাইয়াছে। তাহাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে গুরুতর আহত হইয়াছেন ঐ প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মকর্তা। পুলিশের ধারণা, খুনিরা সবাই বয়সে তরুণ। তাহারা এই সময়ের গ্যাংস্টারও হইতে পারে। তাহারা কথায় কথায় সহপাঠী ও বন্ধু-বান্ধবদেরও হত্যা করিতে কুণ্ঠিত হইতেছে না। এই তরুণ খুনি ও সন্ত্রাসীদের লাগাম টানিয়া ধরিতে না পারিলে আগামী দিনগুলিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো নাজুক হইয়া উঠিতে পারে।
গতকাল পত্র-পত্রিকায় মানিকগঞ্জের ডাকাতির খবরও ছাপা হইয়াছে গুরুত্বসহকারে। তাহাতে বলা হইয়াছে যে, ৭/৮জন ডাকাত অস্ত্রের মুখে একটি জুয়েলার্সের দোকান হইতে প্রায় ছয় কোটি টাকার স্বর্ণালঙ্কার লুট করিয়াছে। পুলিশ তাহাদের ধরিতে তল্লাশি চৌকি বসায়। এই সময় ডাকাতের গুলিতে দুই পুলিশ গুলিবিদ্ধ ও একজন আহত হন। এইখানেও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, স্বর্ণ লুটপাটকারীরা সশস্ত্র যুবক এবং তাহাদের অধিকাংশই মুখোশ পরিহিত। অর্থাত্ সামপ্রতিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কোথাও যেন একটি যোগসূত্রতা আছে। অপরাধীরা দেশকে অস্থিতিশীল করিতে ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ রুদ্ধ করিতে পরিকল্পিতভাবে হামলার ঘটনা ঘটাইতে পারে। তাহাদের ব্যাপারে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হইবে। কেহ কেহ ইহাকে পরিকল্পিত ডাকাতি বলিয়াও আখ্যায়িত করিয়াছেন। তাই বিষয়টি তদন্ত করিয়া দেখা প্রয়োজন। এই ধরনের অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করিয়া তাহাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে না পারিলে জনমনে আতঙ্ক দেখা দেওয়াটাই স্বাভাবিক।
সাধারণত দেখা যায়, যখনই দেশে কোনো নির্বাচনের সময় ঘনাইয়া আসে, তখন আন্ডারওয়ার্ল্ড  বেপরোয়া হইয়া ওঠে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবার কথা। ইহার পরই আসিবে প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচন। এইসব নির্বাচনকে ঘিরিয়া যেমন রাজনৈতিক খুন-খারাবির আশঙ্কা রহিয়াছে, তেমনি নানাভাবে সমাজে অস্থিতিশীলতা তৈরির মহড়াও চলিতে পারে। ছড়াইয়া দেওয়া হইতে পারে পরিকল্পিত সহিংসতা ও সামপ্রদায়িকতার বিষবাষ্প। তাই ভয়ঙ্কর খুন-ডাকাতির মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা আমাদের এখন যে বার্তা দিতেছে, তাহাতে শঙ্কিত হইবার যথেষ্ট কারণ রহিয়াছে। এই ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সজাগ ও সতর্ক হইতে হইবে। সন্ত্রাসী ও অপরাধীর ব্যাপারে নিতে হইবে জিরো টলারেন্স নীতি। তবেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হইয়া আসিতে পারে। এইক্ষেত্রে র্যাবের সাহসী ও ইতিবাচক ভূমিকাও একান্তভাবে প্রত্যাশিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.