শুক্রবার, জানুয়ারি ২২
Shadow

সড়ক দুর্ঘটনা যেভাবে কমানো যেতে পারে

আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ যুবায়ের :

সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমানে আমাদের দেশে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো স্থানে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। সমপ্রতি আমার বন্ধুর মা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নিজের সুস্থ-সচল হাত সারা জীবনের জন্য হারালেন। আমি নিজেও সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আমার প্রিয় মানুষকে হারিয়েছি। নিজে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী ছিলাম। সড়ক দুর্ঘটনা কি এভাবে চলতেই থাকবে? না, তা চলতে দেওয়া যায় না। তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা কেন ঘটছে তা নিয়ে খানিকটা আলোচনা করি।

রাস্তায় প্রচুর জ্যাম থাকে। সব ড্রাইভার চিন্তা করেন, কিছু আয় না করলে দিন শেষে মালিককে তার পাওনা বুঝিয়ে দেব কীভাবে? এ চিন্তা থেকে অনেক ড্রাইভার এলোমেলো গাড়ি চালান। কিছু ছেলে আছে যারা হেল্পার থেকে ড্রাইভার সেজেছে। কোনোভাবে হয়তো লাইসেন্সের ব্যবস্থাও করেছে। লাইসেন্স কোনোভাবে ব্যবস্থা করা যায়, কিন্তু গাড়ি কোনোভাবে চালানো যায় না। ফলে এসব আনাড়িরা ড্রাইভার সেজে নিজেও মরছে, অন্যদেরও মারছে। বড় কোনো দলের সমাবেশ হলে বা কোনো প্রোগ্রাম থাকলে অথবা মর্যাদাসম্পন্ন কোনো অতিথি এলে রাস্তা অনেক সময় ধরে বন্ধ রাখা হয়। এতে করে ড্রাইভার-যাত্রী উভয়েই হাঁপিয়ে ওঠেন। রাস্তা ফ্রি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ড্রাইভার-যাত্রী কেউ নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় নেওয়ার মতো সুযোগ পান না। এলোপাতাড়ি গাড়ি চলতে শুরু করে। এই এলোপাতাড়ি ড্রাইভিং অনেক সময় এলোমেলো করে দেয় গোছানো জীবনকে।

আদরের ঘরের দুলালদের হাতে বাবা-মা গাড়ি বা বাইক তুলে দিয়েছেন। এতে করেও দুর্ঘটনা ঘটছে। রং সাইডে গাড়ি চালানো এক ধরনের অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। পথচারী নিজগতিতে চলছেন। পেছন থেকে রং সাইডে চলা গাড়ি পথচারীকে আঘাত করছে। এভাবে অনেকেই আহত বা নিহত হচ্ছেন। রাস্তার যে বেহাল অবস্থা, অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তা ডুবে যায়। খানাখন্দ দেখতে না পেয়ে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

দূরদূরান্তের গাড়িগুলোর ড্রাইভাররা নিজেদের অনেক পণ্ডিত ভাবেন। অনেকে গাড়ি ড্রাইভ করছেন এক হাতে অন্য হাতে মোবাইলে খুব ফুর্তির সঙ্গে কথা বলছেন। এভাবেও অনেক অ্যাক্সিডেন্ট হচ্ছে।

অনেক ড্রাইভার নেশাগ্রস্ত, অসুস্থ বা ক্লান্ত অবস্থায় ড্রাইভিং করেন। সড়ক দুর্ঘটনার এটাও একটা কারণ।

বর্তমানে জিনিসপত্রের দামের যে ঊর্ধ্বগতি। সে অনুযায়ী ড্রাইভারদের আয় হচ্ছে না। তাই তারা তাদের আয়বৃদ্ধির জন্য কখনো কখনো নিজের প্রাণ বিলিয়ে দিচ্ছেন এবং যাত্রীদেরও মারছেন। যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং এবং গাড়ি ঘোরানো মানুষের জন্য বিপদ বয়ে আনছে। ডিজিটাল ট্র্যাফিক সিগন্যালের মাধ্যমে গাড়ি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া প্রয়োজন নেশাগ্রস্ত বা ড্রাইভিং করার মতো শারীরিক অবস্থা না থাকা সত্ত্বেও যারা ড্রাইভিং করবেন, তাদের লাইসেন্স বাতিল করা। শখের বসে কেউ যেন গাড়ি চালাতে না পারে। আনাড়ি শখ করে যারা গাড়ি চালাবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সামান্য বৃষ্টিতেই উন্নয়নশীল দেশে রাস্তা ডুবে যাওয়া বেমানান। তাই রাস্তা যেন অধিক বর্ষণেও না ডোবে, সেই পদক্ষেপ কথায় নয়, বাস্তবে নেওয়া।

যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং করলে বা গাড়ি ঘোরানোর চেষ্টা করলে সেই ড্রাইভারদের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। লং রোডে অনেক সময় হাইওয়ে পুলিশ খুঁজে পাওয়া যায় না। তারা যেন নিয়মমাফিক দায়িত্ব পালন করেন, তা মনিটরিং করা। রাস্তায় দায়িত্বরত পুলিশদের আরো ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে রাস্তায় নামানো। সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধের আরো নিশ্চয়ই সুচিন্তিত অনেক পথ আছে। সদিচ্ছা থাকলে উপায়ের পথ বের হয়। সদিচ্ছা প্রয়োজন সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে।

n লেখক :গবেষক, ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি

Leave a Reply

Your email address will not be published.