বুধবার, জুন ৩
Shadow

শিশুদের উপর করোনার প্রভাব

দেশে দেশে করোনা আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং লকডাউনের কারণে নানা নেতিবাচক প্রভাব পড়িতেছে সমাজে। ইহাতে ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছে শিশু ও তরুণরাও। তাহারা বয়সের কারণে এমনিতেই সংবেদনশীল। এই সময় ঘরে এক প্রকার বন্দিজীবন কাটাইবার কারণে তাহারা রহিয়াছে অত্যধিক মানসিক চাপে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শিশুকেন্দ্রিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন ১৩টি উন্নয়নশীল দেশে ‘চিলড্রেন ভয়েসেস ইন দ্য টাইম অব কোভিড-১৯’ শীর্ষক এক জরিপ পরিচালনা করিয়াছে। এই জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, করোনা দুর্যোগকালে শতকরা ৯১ ভাগ শিশু ও তরুণ মানসিক চাপ ও যন্ত্রণার মধ্যে রহিয়াছে। ইহার মধ্যে শতকরা ৭৫ ভাগ শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব আরোপের কারণে মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। মহামারির সময়ে তাহাদের জীবনে ছন্দপতনের জন্য এই জরিপে মোটা দাগে তিনটি কারণকে চিহ্নিত করা হইয়াছে। কারণগুলি হইল—শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকা, সামাজিক দূরত্বের কারণে মানসিক বেদনা ও পরিবারের আর্থিক অনটন বাড়িয়া যাওয়া।

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় শুধু উন্নয়নশীল বিশ্ব নহে, উন্নত বিশ্বেও শিশুদের মানসিক চাপ মোকাবিলায় অভিভাবকরা হিমশিম খাইতেছেন। স্পেনে এখন শিশুদের নিয়ম করিয়া ঘরের বাহিরে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হইতেছে। বয়সের কারণে শিশুরা এমনিতেই চঞ্চল হইয়া থাকে। বাহিরে বন্ধুবান্ধবের সহিত দেখা করা ও খেলাধুলা করিবার জন্য তাহারা থাকে উদ্গ্রীব। অথচ আজ তাহাদের স্কুল বন্ধ। গান শিখা, আর্ট শিখার ক্লাসও বন্ধ। ইহার পাশাপাশি করোনা আতঙ্ক তো আছেই। তাই এই সময় শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে অধিক নজর দেওয়া প্রয়োজন। শিশু ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলিতেছেন, এই সময় শিশুদের যথাসম্ভব হাসিখুশি রাখিবার উদ্যোগ লইতে হইবে অভিভাকদের। তাহাদের বকাঝকা করা যাইবে না। আর প্রতিদিন এক ঘণ্টার জন্য হইলেও বাড়ির ছাদে বা পার্শ্ববর্তী খোলামেলা জায়গায় তাহাদের লইয়া যাইতে হইবে। তবে অবশ্যই স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে এবং বজায় রাখিতে হইবে সামাজিক দূরত্ব।

শুধু করোনাকালেই নহে, স্বাভাবিক সময়েও শিশুদের শারীরিক ও মানসিকভাবে বাড়িয়া উঠিবার প্রতি আমাদের যত্নশীল হইতে হইবে। কেননা এই শিশুরাই আগামীর কর্ণধার। তাহারাই একসময় দেশ পরিচালনা করিবে; কিন্তু আমরা দেখি রেললাইনের ধারে, বস্তিতে শিশুরা অবহেলা ও অনাদরে বড়ো হইয়া উঠিতেছে। এমনকি অনেক সচ্ছল পরিবারের শিশুরাও ভুগিতেছে নানা মানসিক অবসাদে। দেশ-বিদেশ না ঘুরাইয়া তাহাদের কেবল মোবাইল গেমস, ভিডিও গেমস, কম্পিউটার ও টেলিভিশনে ব্যস্ত রাখা হইতেছে। এই সময় শিশু ও তরুণদের মানসিক চাপমুক্ত রাখিতে ও একঘেয়েমি কাটাইতে গল্প বলা ও বিভিন্ন ইনডোর গেমসে অংশগ্রহণ করিয়া তাহাদের সহিত আনন্দময় সময় কাটানো যায়। তাহাদের অতিরিক্ত রাগ, বিরক্তি, হতাশা, ভয় ও দুষ্টামির ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকিতে হইবে। তাহাদের নূতন ছবি আঁকা, নূতন গান বা নাচ শিখানো বা যাহার যাহাতে আগ্রহ আছে তাহা ঘরে বসিয়া চর্চার প্রতি আমাদের প্রাধান্য দেওয়া উচিত।