শনিবার, জানুয়ারি ২৩
Shadow

বিনামূল্যে চিকিৎসা

দেশে সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মীর তেমন অভাব নেই। তা সত্ত্বেও অসচ্ছল ও হতদরিদ্রদের এক প্রকার চিকিৎসা সঙ্কট রয়ে গেছে। কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র থাকলেও বোধগম্য কারণেই অনেক জটিল রোগের চিকিৎসা সেই সব সেবাকেন্দ্রে হয় না। উপরন্তু বর্তমানে চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়ে গেছে। গত দুই দশকে দেশে স্বাস্থ্য সেবার ব্যয় বেড়েছে প্রায় চারগুণ। মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম একটি হলো চিকিৎসাসেবা। গ্রামের কৃষক ও হতদরিদ্র মানুষ তাদের চিকিৎসার জন্য নির্ভর করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কেন্দ্রগুলোর ওপর। কিন্তু এগুলো নানা রকম সঙ্কট অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় আক্রান্ত। বড় সঙ্কট হলো লোকবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদির। আবার যাওবা আছে তারও সদ্ব্যবহার হয় না। যে লোকবল নিয়োজিত আছে তাদেরও কর্মস্থলে যথাযথ দায়িত্ব পালন নিশ্চিত হচ্ছে না। দেশের তৃণমূলে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার অভাব নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোগীকে পরিবারের সদস্য মনে করে চিকিৎসা প্রদানের পরামর্শও দিয়েছেন বহুবার। আবার চিকিৎসা খাতের প্রতিটি সেবার মূল্য নির্ধারণেও তার নির্দেশ রয়েছে। এই নির্দেশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি বাড়তি পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে নিরুৎসাহিত করা, ওষুধের দাম নির্ধারণ ও মনিটরিং করা, এ্যান্টিবায়োটিকের যত্রতত্র ব্যবহার বন্ধ করা, অযথা দামী ওষুধ প্রদানে চিকিৎসকদের সতর্ক করা ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অসচ্ছল রোগীরা উপকৃত হতে পরে। দরিদ্র মানুষের কল্যাণ সাধনই যেহেতু শেখ হাসিনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, তাই গরিব জনসাধারণের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করেছেন। দরিদ্রদের জন্য প্রবর্তন করা হয়েছে ‘শেখ হাসিনা হেলথ কেয়ার কর্মসূচী।’ গরিব জনগোষ্ঠীর মধ্যে পঞ্চাশটি রোগের চিকিৎসা বিনামূল্যে নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচীও নেয়া হয়েছিল গত বছর। কিন্তু দরিদ্রের স্বাস্থ্য সেবার গাফিলতির হার বরং আরও বেড়েছে। বাস্তবে দেখা যায়, সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রায়ই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়। গরিবের জন্য বিনামূল্যে দেয়া ওষুধপত্রও তাদের ঠিকমতো দেয়া হয় না। অনাদর, অবহেলার বিষয় তো বলাই বাহুল্যমাত্র। দেশের স্বাস্থ্যসেবা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ধনী ব্যক্তিরাও অর্থের বিনিময়ে সুচিকিৎসা পান না দেশের নামী-দামী সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালগুলোর কাছ থেকে। তাই যাদের সঙ্গতি রয়েছে, তারা বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। কিন্তু গরিবদের তো যাওয়ার মতো বিকল্প জায়গা নেই। তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল সরকারী হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি কেন্দ্রগুলো। বিদ্যমান অবস্থায় সরকারী হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য নির্দেশনা অবশেষে জারি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশ কতটা কার্যকর হবে তা নির্ভর করবে কর্তৃপক্ষের তদারকির ওপর। সরকারী হাসপাতালসমূহে সাধারণ মানুষেরও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে সহায়ক ভূমিকা রাখার এ নির্দেশনা সাধারণ হতদরিদ্র মানুষের কাছে আশার আলোকতবর্তিকা হিসেবে ধরা দিচ্ছে। চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা শতভাগ কার্যকর করা জরুরী। এ জন্য কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালাতে হবে। চিকিৎসা উপকরণসমূহের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরী। একই সঙ্গে আগত রোগীদের হয়রানি ও দুর্ভোগ কমানো না গেলে অবহেলা হ্রাস পাবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রে যে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, তার কার্যকর বাস্তবায়ন চিকিৎসা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। হাসপাতালগুলো দালালচক্র মুক্ত হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে হয়রানি বন্ধ করার জন্য শুধু বিধিবিধান নয়, যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে চিকিৎসা খাতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.