বৃহস্পতিবার, মে ২৮
Shadow

দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিন

দেশে করোনা পরীক্ষায় দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি ভুল ফলের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে। এ ছাড়া করোনা প্রাদুর্ভাবের পর অন্য রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে, বেড়েছে চিকিৎসাহীনতায় মৃত্যু। ভুক্তভোগীরা বলছেন, করোনা উপসর্গবাহীদের চাইলেই পরীক্ষা করানো যাচ্ছে না। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে যাদের পরীক্ষা হচ্ছে, তাদেরও দুই থেকে তিন দিন ঘুরতে হচ্ছে। এতে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রথম থেকেই সতর্ক করে আসছিল যে, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হচ্ছে পরীক্ষা। তাই যত বেশি পরীক্ষা হবে, শনাক্ত হবে এবং অন্যরা তখন সংক্রমণ থেকে বেঁচে থাকতে পারবে।

অভিযোগ উঠেছে, সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় করোনার পরীক্ষা নিয়ে এমন পরিস্থিতি হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমস্যার বিশালতা অনুধাবন করতে পারেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিছুটা দেরিতে পরীক্ষা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি এবং নমুনার মানের ব্যাপারে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘বিষয়গুলো দ্রুত পর্যালোচনা করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিটি ল্যাবরেটরি হতে হবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মান অনুযায়ী। তা না হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে, পরীক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।’

এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সরকারি-বেসরকারি বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান যন্ত্রপাতি ও জনশক্তি সমন্বয় করে ভাইরাস পরীক্ষার ব্যাপক পরিকাঠামো প্রস্তুত করা প্রয়োজন। তা ছাড়া শুধু পরিকাঠামো থাকলেই চলবে না, যে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করবেন তাদের নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত পিপিই, ফেসশিল্ড এসব সরঞ্জামের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করতে হবে। মোট কথা করোনা ভাইরাসের মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা হলো ব্যাপক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা। যা চীন করেছিল এবং তারা সফল হয়েছিল। আমরা চাই করোনা পরীক্ষা নিয়ে যেসব গলদ হচ্ছে সরকার অবিলম্বে এ দিকে নজর দেবে। করোনার উপসর্গ নিয়ে বা সন্দেহ নিয়ে যে কোনো রোগী যেন সহজেই পরীক্ষা করাতে পারে সেজন্য যা যা করার প্রয়োজন সরকার তা করবে এমনটাই প্রত্যাশা।