বুধবার, জুন ৩
Shadow

প্রতিট্রাক আম মাত্র দেড় হাজার টাকা!

নিজস্ব প্রতিবেদক :

তালা উপজেলাসহ উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় দীর্ঘ সময় ধরে তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে গোটা জেলা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি সবজি, ধান ও আমসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিপাকে পড়েছেন আম চাষীরা। ঝরে পড়া আম ট্রাকপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকাতেও বিক্রি করতে পারছেন না কেউ কেউ।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, আম সংগ্রহের আগে ঝড় হওয়ায় চাষীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ল্যাংড়া, হিমসাগর ও আম্রপালী আম কোথাও ৮০ ভাগ কোথাও ৯০ ভাগ এবং কোথাও শতভাগ ঝরে পড়েছে। সর্বমোট ৮৩ ভাগ আমের ক্ষতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় চার হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ২৯৯টি আম বাগানে আম চাষ হচ্ছে। ১৩ হাজার ৯৯ জন চাষী আম উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ে আরও কয়েক হাজার আম চাষী রয়েছেন। চলতি মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪০ হাজার মেট্রিক টন। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আম পাড়া শুরু হওয়ার কথা ছিল।

তালা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে তালা উপজেলায় ৭১৫ হেক্টর জমির এক হাজার ৪৭৫টি বাগানে সাত হাজার ৭০ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়।

গত সপ্তাহে সাতক্ষীরায় কালবৈশাখী ঝড়ে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে পড়া সেই কাঁচা আম ৫ থেকে ১৫ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হয়েছে।

একাধিক আম চাষীরা জানান, ঝরে পড়া আম কেউ কিনতে চাচ্ছে না। দেড় হাজার টাকায়ও এক ট্রাক আম বিক্রি করা কষ্ট কর হয়ে পড়েছে। অথচ এই আমগুলো প্রতি মণ পনেরোশ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা ছিল। অনেকেই ঋণ করে আম চাষে নেমে ছিলেন। তাদের এখন পথে বসার উপক্রম। বেশির ভাগ চাষীর বাগানের প্রায় সব আম ঝরে পড়ে গেছে। এমন অবস্থায় সরকারি সহায়তা দাবি করেছেন তারা।

তালা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আম চাষীরা। লাখ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তারা আম চাষে নেমেছিলেন। তাদের অধিকাংশ আম পড়ে গেছে। ৮৩ ভাগ আমের ক্ষতি নির্ধারণ করা হয়েছে।