শনিবার, আগস্ট ৮
Shadow

বড় ভাইকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল ঘাতক রাজিব

প্রাইম ডেস্ক :

রাজধানীর মুগদায় হাত খরচের ১০০ টাকা না পেয়ে বড় ভাই জীবন ঘোষকে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে মাদকাসক্ত ছোট ভাই রাজিব ঘোষ।

গ্রেফতারের পর পুলিশ তাকে শনিবার ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলামের খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ধারায় হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ভাইকে হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় ঘাতক রাজিব।

রাজিব ঘোষ জানায়, মুগদা হাসপাতালের সামনে তার বাবার একটি মিষ্টির দোকান রয়েছে। জীবন ফুড ফ্যাক্টরি নামের ওই মিষ্টি দোকানে সেও কাজ করতো। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সে দোকানে কাজ করছিল। দাদা (বড় ভাই) জীবন ঘোষ ক্যাশে বসেছিল। সে তখন দাদার কাছে ১০০ টাকা চায়। দাদা টাকা দিতে চায়নি। দুজনের মধ্যে এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রাগ করে দোকানের সামনে থেকে ইট নিয়ে দাদার (জীবন ঘোষ) মাথার পেছনের দিকে আঘাত করে সে। এতে দাদা (জীবন) মাটিতে পড়ে যায় । এরপর আরও একটি আঘাত করে সে। মাথা থেকে রক্ত বের হচ্ছিল। তখন রক্ত থামানোর জন্য মাথায় গামছা চেপে ধরে সে। তাতেও রক্ত থামেনি। পরে দাদা নড়াচড়া না করতে দেখে টানাহেঁচড়া করে সে। এরপর ভয় পেয়ে যায় সে। গামছা দাদার গলার কাছে রেখে সে দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যায়। বাসায় গিয়ে ঘটনা কাউকে বলেনি। পরে পুলিশ বাসায় দিয়ে তাকে সন্দেহ করে ধরে নিয়ে যায়।

পুলিশের সবুজবাগ জোনের এসি মো. রাশেদ হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ঝড়ের সময় মুগদা হাসপাতালের সামনে মিষ্টির দোকানের ভেতর জীবন ঘোষের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা ধারণা করি ছোট ভাই রাজিব ঘোষ তার বড় ভাই জীবন ঘোষকে খুন করে থাকতে পারে। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে ভাই হত্যার দায় স্বীকার করে। শনিবার সে আদালতের কাছেও ভাই হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে তার বাবা নারায়ন ঘোষ বাদি হয়ে মুগ্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তিনি বলেন, জীবন ঘোষ এ দোকানটি চালাতো। আর রাজিব ঘোষ তাকে সহযোগিতা করতো। বৃহস্পতিবার ইফতারি বিক্রি করে রাজিব ঘোষ বাসায় আসে। তার মা দরজা খুলে দিলে সে তাড়াহুড়ো করে বাথরুমে গিয়ে গোসল করে। জীবন ঘোষ কোথায় জিজ্ঞাস করলে সে জানায়, দোকান তালা দিয়ে চলে এসেছে। জীবন ঘোষ বাসায় না আসায় রাত পৌনে ৮টায় তার মোবাইলে ফোন দেই। কিন্তু জীবনের মোবাইল বন্ধ দেখায়।

নারায়ন ঘোষ বলেন, আমি তখন ভেবেছি, বৃষ্টির মধ্যে সে কোথাও আটকা পড়েছে। মোবাইলে হয়তো চার্জ নেই। রাত ৯টায়ও সে বাসায় না ফেরায় আমি ডুপ্লিকেট চাবি বাসা থেকে নিয়ে রাজিবকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে যাই। রাজিব সার্টার খুলে লাইট দিয়ে চিৎকার করে বলে বাবা দাদা নাই। আমি তখন দেখলাম জীবন দোকানের মেঝেতে পড়ে আছে। চারপাশে রক্ত আর রক্ত। এরপর মুগদা থানায় খবর দেই। পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে।

মুগ্দা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা বলেন, রাজিব ঘোষ মাদকাসক্ত ছিল। একাধিকবার তাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। সে প্রতিদিন নিজেদের দোকান থেকে হাত খরচের কথা বলে মাদকের জন্য টাকা নিয়ে যেতো। এ নিয়ে দুই ভাই জীবন ও রাজিবের মধ্যে একাধিকবার ঝগড়া ও মনোমালিন্য হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঝড়ের সময় রাজিব তার ভাই জীবনের কাছ থেকে টাকা নিতে গেলে বাধা দেন। এর পরেই সে তাকে খুন করে।