বুধবার, এপ্রিল ১৪
Shadow

গ্রামে কর্মসংস্থান

ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরমুখী মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রতি মাসে ঢাকা শহরে ৫০ হাজার মানুষ আসছে গ্রাম থেকে। ফলে বস্তির সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে, শহর থেকে গ্রামে যাওয়া মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমছে। ঢাকার জনসংখ্যা বর্তমানে ১ কোটি ৫৯ লাখ। ২০৩৫ সালে এ শহরের জনসংখ্যা ২ কোটি ৬০ লাখ হওয়ার ধারণা করা হচ্ছে। মানুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যানবাহনের সংখ্যাও বাড়ছে বলে মহাভারাক্রান্ত দশায় পৌঁছে গেছে ঢাকা। এমন হতাশাব্যঞ্জক পরিস্থিতিতে আশার বাণী শোনালেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেছেন, কয়েক বছর পর চাকরির জন্য আর শহরে আসতে হবে না। গ্রামে গ্রামেই মিলবে চাকরি। সরকার গ্রামকে সেভাবেই ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে একটি অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ সুসংবাদ দেন।

বাংলাদেশের বড় বড় শহর জনসংখ্যার ভারে ক্রমেই ন্যুব্জ হয়ে পড়ছে। গ্রাম ছেড়ে শহরের দিকে ছুটছে মানুষ। আর এ ছোটার হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। গ্রামে কর্মসংস্থানের অভাব, অন্যদিকে শহরে কর্মসংস্থানের সুযোগ, স্বাস্থ্য শিক্ষাসহ নানা সুযোগ-সুবিধা এবং নাগরিক জীবনের আরাম আয়েশের কথা চিন্তা করেই শহরের প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে মানুষের। জনসংখ্যার ভারে সবচেয়ে বেশি ন্যুব্জ ঢাকা মহানগরী। মানুষের পদভারে দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে রাজধানী ঢাকা। দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্প্রতি বসবাস অযোগ্যতায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১০টি শহরের একটি তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ঢাকা মহানগরী। অপরাধ প্রবণতার হার, সহিংসতার সম্ভাব্য হুমকি, স্বাস্থ্যসেবার গুণগতমান, চলাচলে বিধিনিষেধের মাত্রা, তাপমাত্রা, পরিবহন নেটওয়ার্ক প্রভৃতি বিষয় বিবেচনায় এনে ওই তালিকাটি করা হয়। জনসংখ্যার অত্যধিক চাপের কারণেই যে ঢাকা মহানগরীতে উপরোক্ত বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নানাবিধ সমস্যার সূত্রপাত তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এটা ঠিক যে দেশের শতভাগ গ্রামে বিদ্যুত পৌঁছে গেলে গ্রামভিত্তিক ছোট ছোট শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। ফলে বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে গ্রামীণ জনগণের জীবনযাত্রার মানও বেড়ে যাবে। তখন মানুষ শহরে আসতে নিরুৎসাহিত হবে। ইতোমধ্যে শহরের ছোঁয়া পেয়েছে গ্রামগুলো। অনেক গ্রাম হয়ে উঠেছে আধা শহর। শহরের সুবিধা এখন বহু গ্রামেই পৌঁছে গেছে। অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার বড় ধরনের উন্নয়ন ঘটেছে। বিদ্যুত ব্যবস্থাও অনেকাংশে বর্তমান। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুত এবং সৌর বিদ্যুত ব্যবস্থার উন্নতির কারণে গ্রামে বিদ্যুত পাওয়া এখন সহজতর হয়েছে। আগে টিভি সেটের কিছুটা কমতি ছিল গ্রামে। এখন অবস্থাসম্পন্ন গ্রামবাসীর বাড়িতে তো বটেই, মধ্যবিত্ত এমনকি নি¤œ মধ্যবিত্ত বহু পরিবারেও রয়েছে টেলিভিশন। অনেক শিক্ষার্থী ব্যবহার করছে কম্পিউটার। তবে গ্রামাঞ্চলে এখনও পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। সরকার এ বিষয়ে সম্পূর্ণ সচেতন বলেই গ্রামে ১০ হাজার ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে ১৪শ’টি প্রকল্প চালু আছে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে গ্রাম-পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যাওয়ারই কথা। এছাড়া ১০০টি বিশেষ ইকোনমিক জোনও গ্রামীণ এলাকাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী। ফলে আগামীতে পল্লী এলাকায় কর্মসংস্থানের বিপুল সুযোগ সৃষ্টি হবে। সেক্ষেত্রে শহরমুখী মানুষের ঢল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.