বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২১
Shadow

হাসড়কে নৈশকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার রেজুরমোড় এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে গত বুধবার রাতে একটি বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়াছে। ডাকাতদের হামলায় বাসের যাত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক আহত হইয়াছেন। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হারুন উর রশিদ জানাইয়াছেন, রাত ১১টার দিকে ২৪ জন যাত্রী লইয়া বাসটি ঢাকা হইতে রাজশাহী যাওয়ার পথে গুরুদাসপুরের কাছিকাটা টোলপ্লাজা পার হওয়ার পরপরই যাত্রীবেশী ডাকাতচক্রের কবলে পড়ে। ডাকাতরা চালককে জিম্মি করিয়া যাত্রীদের নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুটিয়া নেয় এবং এক যাত্রীকে ছুরিকাঘাত করে। নির্বিঘ্নে ডাকাতি সম্পন্ন করিয়া তাহারা বাস হইতে নামিয়া যায়। উদ্বেগের বিষয় হইল, মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটিল মহাসড়কে। প্রথম ঘটনাটি ঘটিয়াছিল গত শনিবার গভীর রাত্রে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যমতে, বুড়িমারী হইতে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়িয়া আসা একটি যাত্রীবাহী বাসে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। যাত্রীবেশী ডাকাত দল বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বি-ব্লক হইতে ডাকাতি শুরু করিয়া শেরপুর উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের রাজাপুর এলাকায় নামিয়া যায়। বগুড়ার শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মো. এরফান জানাইয়াছেন যে, ডাকাতকবলিত বাসটিতে ৩০জন যাত্রী ছিল। ওই বাসে বিদেশি নাগরিকও ছিল বলিয়া জানা যায়।

উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে বাংলাদেশের ছুটিয়া চলা যে এখন আর কথার কথা মাত্র নহে, আমাদের মহাসড়কগুলির রাত্রিকালীন ব্যস্ততার দিকে তাকাইলেই তাহা সহজে বোঝা যায়। কোনো কোনো মহাসড়ক ইতোমধ্যে চারলেনে উন্নীত হইয়াছে। তাহার পরও মহাসড়কগুলিতে ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই অবস্থা। সর্বাপেক্ষা তাত্পর্যপূর্ণ দিকটি হইল, ছুটিয়া চলার এই রুদ্ধশ্বাস ব্যস্ততার চাপে দিনরাত্রি একাকার হইয়া গিয়াছে। বলিলে অত্যুক্তি হইবে না যে, দিনে যত মানুষ যাতায়াত করেন, সম্ভবত সময় বাঁচাইবার জন্য রাত্রেও সমসংখ্যক যাত্রীর চাপ লাগিয়া থাকে সড়ক-মহাসড়কগুলিতে। যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণেই দিনের মত রাত্রেও অসংখ্য নৈশকোচ চলাচল করে বিভিন্ন মহাসড়কে। এই সকল বাসে যাতায়াতকারী বিপুলসংখ্যক যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তার বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ—মহাসড়কে পরপর দুইটি ডাকাতির ঘটনা তাহা আমাদের নূতন করিয়া স্মরণ করাইয়া দিল মাত্র। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে, মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা এইবারই যে প্রথম ঘটিল তাহা নহে। ইতোপূর্বে কার্ভার্ড ভ্যান এবং পণ্যবাহী ট্রাকেও উপর্যুপরি ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়াছে। ঘটিয়াছে প্রাণহানির ঘটনাও। নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলনও করিয়াছেন ভুক্তভোগী পরিবহন শ্রমিক ও মালিকগণ। তবে নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমাদের হাইওয়ে পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট থানাগুলি বসিয়া নাই। মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলির নিরাপত্তা বিধানে তাহারা যথাসাধ্য চেষ্টা চালাইয়া আসিতেছেন। আমরা যতদূর জানি, তাহাদের জনবল ও যানবাহনের সমস্যা আছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলিকে এইদিকে মনোযোগ দিতে হইবে জরুরি ভিত্তিতে। নিশ্চিত করিতে হইবে মহাসড়কগুলিতে নৈশকালীন নিরাপত্তা। উন্নয়নের গতিকে বাধামুক্ত রাখিতে হইলে ইহার বিকল্প নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.