শনিবার, আগস্ট ৮
Shadow

শ্রীপুরে মানবিক করোনা সম্মুখ যোদ্ধা ডাঃ দোলন

আ: আজিজ, শ্রীপুর :
গাজীপুর জেলার শিল্পায়নে ঘনবসতি হিসেবে পরিচিত শ্রীপুর উপজেলা। প্রায় ৮লাখ মানুষ অধ্যুষিত এই উপজেলায় ৫০শয্যার সরকারী হাসপাতাল থাকলেও জনবল পাওয়া যায়নি দীর্ঘদিনেও। করোনার এই সংকটকালীন মুহুর্তে সীমিত জনবল দিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এছাড়াও কয়েকজন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এই সংকটে একজন মানুষ মানবিকতার পরিচয় দিয়ে শ্রীপুর বাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি মানবিক চিকিৎসক এএসএম ফাতেহ আকরাম দোলন। তিনি একাই করোনা রোগীদের ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বর্হিবিভাগে প্রতিদিন প্রায় ২শতাধিক রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন।

তার পরিচয় তিনি শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক। গত মার্চ হতে তিনি একনাগারে রাত দিন সমান করে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন রোগীদের। হাসপাতালে অন্যান্য চিকিৎসকরা করেনার পর কাজে ফাঁকি দিলেও ভোর থেকে গভীর রাত হাসপাতালে সব ধরনের রোগী কাছে পাচ্ছেন এই চিকিৎসককে। এছাড়াও করোনা রোগীদের চিকিৎসা, ফলোআপ, আইসোলেশন ও কর্মরত স্বাস্থ্য কর্মীদের খোঁজ খবর রাখার মাধ্যমেই দিন কেটে যাচ্ছে তার।

২০১১ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি ৩২তম বিসিএসের মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগে যোগদান করেন ২০১৩সালে। এর পর ২০১৮ সালের নভেম্বরে আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে যোগদান করেন শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে । তার মানবিকতার কাজটি মূলত শুরু হয় করোনাকালে। অন্যান্য চিকিৎসকরা বিব্রত হলে তিনি অনেকটা চ্যালেঞ্জের সাথে করোনার উপস্বর্গধারীদের চিকিৎসার দায়িত্বটি তিনি একাই গ্রহন করেন। এছাড়াও করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের কাজটি সাহসিকতার সাথে তিনিই প্রথম শুরু করেন। উপজেলায় শনাক্ত হওয়া প্রায় ৪শত করোনা রোগীর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বটাও তাকে নিতে হয়েছে। এখন প্রতিদিন বর্হিবিভাগে প্রায় দুই শতাধিক রোগীর ব্যবস্থাপত্র তাকে দিতে হচ্ছে। যেন নিজে একাই টেনে নিচ্ছেন সরকারী এই চিকিৎসালয়কে। এছাড়াও চিকিৎসা নিতে এসে অসহায় হয়ে যাওয়া রোগীদের চিকিৎসার তদারকি করে সকলের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি।

মানবিতকার দৃষ্টান্ত গড়া এই চিকিৎসকের ভাষ্য, উপজেলার প্রতিটি নাগরিকের সরকারী চিকিৎসা নিশ্চিতে তিনি বদ্ধপরিকর। দীর্ঘ কয়েকমাস পরিবার থেকে দূরে থেকে করোনার এই দুর্যোগকালীণ সময়ে নিজের সবটাই রোগীদের কল্যানে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্হিবিভাগে রোগী দেখার পাশাপাশি করোনা রোগীদের চিকিৎসা সহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বটাও তাকে দেখতে হচ্ছে। এতে তার কাছে দিন রাত এখন সমান।

তিনি আরো জানান, সকল ধরনের সীমাবদ্ধতার মধ্যেই কাজ করতে হবে। মানবিকতার পেশা হিসেবে পরিচিত চিকিৎসাসেবায় একজন চিকিৎসক আন্তরিক হলে সমাজের মানুষগুলো উপকৃত হয়। মানব সেবার মাধ্যমেই ¯্রষ্টার সান্যিধ্য লাভ করা সম্ভব। তাই এই দুর্যোগে চিকিৎসকদের সরকারী চাকুরীজীবি হিসেবে না ভেবে মানবিক হয়ে উঠতে হবে।