শনিবার, আগস্ট ৮
Shadow

পটুয়াখালীতে নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ১২ সেতু

প্রাইম ডেস্ক :
উন্নয়নের মহাসড়কে এখন পটুয়াখালী জেলা। কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র, পায়রা বন্দর, পায়রা ব্রিজ, পায়রা তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র, শেখ হাসিনা সেনানিবাস, সাবমেরিন ল্যান্ডিং স্টেশনসহ একাধিক মহাপ্রকল্পের কাজ চলছে এ জেলায়। সরকারের এসব উন্নয়ন কর্মকান্ডের কারণে জেলা শহরটি এখন অনেকটাই ব্যস্ততম একটি শহরে পরিণত হয়েছে। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে অদূরেই থাইল্যান্ড কিংবা সিঙ্গাপুরে আদলে একটি উন্নত শহরে পরিণত হবে পটুয়াখালী। এমন ভাবনা সামনে রেখে পটুয়াখালী জেলা শহরের সঙ্গে এর আশপাশের ইউনিয়নগুলোকে আরও কাছাকাছি সংযুক্ত নিরসনে শহরের জলাবদ্ধতা করতে খালগুলোকে প্রবাহমান করতে বেশ কিছু আধুনিক এবং দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইড)। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের আইবিআরপি প্রকল্প পরিচালক আব্দুল হাই জানান, প্রধানমন্ত্রীর শতবর্ষ পরিকল্পনাকে বাস্তরে রূপ দিতে গ্রামেও শহরের সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করা এবং খাল ও জলাধারগুলোকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই আমরা এই ব্রিজগুলো নির্মাণ করছি। আশা করা যায় ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এসব সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারব।
পটুয়াখালী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস ছত্তার জানান, সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নকে জেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করার পাশপাশি জেলার ঐতিহ্যবাহী বহালগাছিয়া খালকে আবারও তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সদর উপজেলার পেছনের বাঁধটি অপসারণ করে সেখানে ৮১ মিটার দীর্ঘ একটি দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। একইভাবে বহালগাছিয়া খালের উপর নির্মিত গরুর বাঁধ অপসারণ করে সেখানেও ৮১ মিটার দীর্ঘ একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। যা অনেকটা হাতিরঝিলের ব্রিজগুলোর মতো সকলকে আকর্ষণ করবে। এছাড়া মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের সঙ্গে পটুয়াখালী পৌর শহরকে সংযুক্ত করতে কুরিরখাল এলাকায় একটি ৪৫ মিটারের সেতু নির্মিত হবে। এর ফলে জেলা শহরের সঙ্গে ছোটবিঘাই, বড়বিঘাই, মরিচবুনিয়া এবং মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের নতুন একটি সংযোগ স্থাপন হবে। একইভাবে পটুয়াখালী পৌরসভার সঙ্গে কালিকাপুর ইউনিয়নের নতুন সংযোগ স্থাপন এবং ফুলতলা খালটি প্রবাহমান করতে বাঁধ অপসারণ করে সেখানে ৪৫ মিটারের একটি ব্রিজ নির্মাণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এমন গুরুত্ব বিবেচনা করে মোট ১২টি সেতু নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করে যাবতীয় কার্য সম্পাদন করা হচ্ছে। এসব সেতু নির্মিত হলে এই অঞ্চলের মানুষের সড়ক যোগাযোগ যেমন সহজ হবে পাশপাশি খালগুলো আবারও তার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে পাবে। জলাবদ্ধতা দূর হবে পটুয়াখালী জেলা শহরের। খালের দখল হওয়া জমি পুনরুদ্বার করে কৃষি কাজে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে বলেও জানান নির্বাহী প্রকৌশলী।