শনিবার, আগস্ট ৮
Shadow

১৫০০ টাকা বকেয়া ভাড়ার জন্য বৃদ্ধের দোকান বিক্রি করে দিল স্কুল শিক্ষক

শ্রীপুর প্রতিনিধি :

গাজীপুরের শ্রীপুরের মুলাইদ গ্রামের আমতলী এলাকায় মাত্র ১৫শত টাকা ভাড়া  বকেয়া থাকায় আলী হোসেন নামের ৮০বছর বয়সী  এক অসহায় বৃদ্ধের টং দোকান বিক্রি করে দিয়েছে এক স্কুল শিক্ষক। এ ঘটনায় বৃদ্ধ বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার স্ত্রীর  বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম মল্লিক ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া গ্রামের মফিজ মল্লিকের ছেলে। তার স্ত্রীর  হেলেনা মল্লিক শ্রীপুরের মুলাইদ তালতলি গ্রামের হেলাল উদ্দিনের  মেয়ে। মুজাহিদুল ইসলাম মল্লিক ভালুকা উপজেলার সোনারবাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গাজীপুরের শ্রীপুরের  শশুর বাড়ীতে বসতবাড়ী স্থাপন করে পরিবার সহ বসবাস করে আসছেন।
বৃদ্ধ আলী হোসেনের ভাষ্য, তার ভিটেমাটি নেই,তিনি রোগাক্রান্ত হওয়ায় কাজ করতে পারেননা। একসময় ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করলেও সামান্য সঞ্চয় জোগাড় করে গত ২বছর আগে স্থানীয় স্কুল শিক্ষকের আমতলী মোড়ের একটি শিল্প কারখানার সামনে কয়েকফুট জায়গা মাসে একহাজার পাচশত টাকায় ভাড়া নিয়ে নিজের খরচে একটি টং দোকান ঘর স্থাপন করেন। এতে তার যে আয় হতো তাতে কোনমতে পাঁচ সদস্যের সংসারের দু মুঠো আহারের যোগান হতো। তার পরিবারের একমাত্র আয়ের ব্যবস্থা ছিল এই ক্ষুদ্র দোকান ঘিরে। তবে মূল সমস্যায় তিনি পড়েন করোনাকালীন সময়ে। লকডাউন থাকায় তিনি দোকানে ক্ষুৃদ্র ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেনি,ফলে ভাড়া বাকী পড়েছিল ৩মাসের। ৪হাজার পাচশত টাকার জন্য ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এই স্কুল শিক্ষক ও তার স্ত্রী। বারবার হুমকী দেয়ায় কয়েকদিন আগে ৩হাজার টাকাও পরিশোধ করেন। বাকী টাকা পরিশোধে সময় প্রার্থনা করেন। এতেও  ক্ষান্ত হননি এই স্কুল শিক্ষক। তিনি স্থানীয় শহীদ মিয়ার কাছে মালামাল সহ দোকান বিক্রি করে দেন।
তিনি আরো জানান, ১৫শত টাকার জন্য স্কুল শিক্ষক তার সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছেন। দোকানের বিভিন্ন মালামাল সহ তার ৭০হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। এখন জীবন বাঁচাতে হয়তো ফের ভিক্ষাবৃত্তিতে নামতে হবে।
 তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন জানান, সামান্য ভাড়া নিয়ে বৃদ্ধের এই দোকান বিক্রি করে দেয়া সত্যিই অমানবিক। তিনি নিজেও স্কুল শিক্ষককে বকেয়া ভাড়া পরিশোধ সাপেক্ষে দোকানের তালা খুলে দিতে বলেছিলেন, কিন্তু সে কথা স্কুল শিক্ষক মানেনি।
অভিযুক্ত শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম মল্লিকের ভাষ্য, জমি নিয়ে তার সমস্যা থাকায় তিনি এই বৃদ্ধকে উচ্ছেদ করেছেন। স্থানীয় কিছু ব্যাক্তি হয়ত তাকে ইন্ধন দিয়ে ঘটনা ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করছেন।
শ্রীপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক মাইনউদ্দিন জানান,তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনকরে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন।একজন অসহায় লোকের দোকান বিক্রি করে খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই স্কুল শিক্ষক। তাকে বুঝানো হয়েছে তিনি যাতে বৃদ্ধের সবকিছু বুঝিয়ে দেন। নাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।