মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯
Shadow

সর্বোচ্চ বৈদেশিক সাহায্য: নতুন রেকর্ড দেশের ইতিহাসে

প্রাইম ডেস্ক :

করোনাভাইরাসের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে শ্লথগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশ ইতিহাসের সর্বোচ্চ বৈদেশিক সাহায্য পেয়েছে গত অর্থবছর। সদ্য সমাপ্ত এই অর্থবছরে ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশকে ৭২৭ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি পরিমাণ বৈদেশিক সাহায্য দিয়েছে। বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমাণ ৬১ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বেশি পরিমাণ বৈদেশিক সাহায্য কোন অর্থবছরে সরকার পায়নি।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উন্নয়ন সহযোগীরা মূলত করোনার কারণে বাজেট সহায়তা হিসাবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বৈদেশিক সাহায্য হিসাবে দিয়েছে। যা আগের (২০১৮-১৯) অর্থবছরের চেয়ে ৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ১১.১৬ শতাংশ বেশি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরেও রেকর্ড পরিমাণ ৬৫৪ কোটি মার্কিন ডলারের বৈদেশিক সাহায্য পেয়েছিল শেখ হাসিনা সরকার। গত অর্থবছরে প্রাপ্ত বৈদেশিক সাহায্য সেই রেকর্ডকেও ছাপিয়ে যায়। তৈরি হয় নতুন রেকর্ড।

সবচেয়ে আশাপ্রদ বিষয় হলো, এই প্রথম কোন বছরে বৈদেশিক সাহায্যপ্রাপ্তি লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। অতীতে বাংলাদেশে কোন সরকারের আমলে বৈদেশিক সাহায্যপ্রাপ্তি লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়ায়নি। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বিদেশী দাতাদের কাছ থেকে প্রকল্প সাহায্য বাবদ ৭১০ কোটি মার্কিন ডলার প্রাপ্তির আশা করেছিল। আর প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ৭২৭ কোটি ১৯ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২.৩৯ শতাংশ বা ১৭ কোটি মার্কিন ডলার বেশি।

অথচ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা শঙ্কায় ছিলেন করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কম হওয়ায় এ বছর বৈদেশিক সাহায্য কমে যেতে পারে। কিন্তু তাদের আশঙ্কা ঠিক হয়নি। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ বৈদেশিক সাহায্য এসেছে গত অর্থবছরে। করোনা মহামারীর কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাবস্থা দেখা দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাও স্থবির হয়ে পড়ে। ওই স্থবিরতা কাটিয়ে অর্থনীতি চাঙ্গা করার জন্যই মূলত বাজেট সহায়তা হিসাবে উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশকে এ বছর বেশি পরিমাণ অর্থ সাহায্য দিয়েছে। অন্যান্য বছরের মতো, শুধু দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েই তারা বসে থাকেনি। বরং দ্রুত ওই প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড় করে দিয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারী হিসাবে দেখা দেয়ার পরপরই উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশকে অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে ১৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়। এরমধ্যে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) ৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ৫০ কোটি ডলার, বিশ্বব্যাংক ২৫ কোটি ডলার এবং নবগঠিত এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ব্যাংক ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। প্রতিশ্রুত এই অর্থ প্রাপ্তির জন্য কোন শর্ত ছিল না। দাতারা এই অর্থ বাজেট সহায়তা হিসাবে সরকারকে দেয়। বাজেট সহায়তা হওয়ার কারণে ওই অর্থ কোন নির্দিষ্ট খাতে ব্যয়ের জন্য সরকারের কোন বাধ্যবাধকতা থাকে না। সরকার যে কোন প্রয়োজনে ওই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে।

অন্যদিকে, উন্নয়ন সহযোগীরা তাদের দেয়া নতুন সকল প্রতিশ্রুত অর্থই গত জুন মাসে ছাড় করে। আগের প্রতিশ্রুতি থেকে ছাড় করা অর্থ নিয়ে সব মিলিয়ে জুন মাসে দাতাদের অর্থ ছাড়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০৩ কোটি ৪৬ লাখ। ফলে সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সর্বোচ্চ রেকর্ড সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব অবশ্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও প্রতিফলিত হয়। জুন মাসে এসে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়।

এর আগে গত মে মাস পর্যন্ত দাতাদের অর্থ ছাড়ের পরিমাণ ছিল ৫২৩ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। সবমিলিয়ে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ ছাড়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭২৭ কোটি মার্কিন ডলার।

আবার এই জুন মাসেই হচ্ছে দাতাদের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সৌভাগ্যের মাস। জুন মাসেই দাতারা সবচেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতি দেয় সরকারকে। এই মাসেই সরকার দাতাদের কাছ থেকে সবমিলিয়ে ৫১৯ কোটি ৬৫ লাখ মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি পায়। যার মধ্যদিয়ে গত অর্থবছরের সরকারের প্রাপ্ত বৈদেশিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতির অঙ্ক ৯৫৫ কোটি ৪৪ লাখ মার্কিন ডলারে গিয়ে উঠে। ওই অর্থবছরে সরকার সাড়ে নয় শ’ কোটি ডলারের বেশি প্রতিশ্রুতি পেলেও তা আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরকে ছাড়াতে পারেনি। ওই অর্থবছরে বাংলাদেশ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৯৯০ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলারের বিদেশী সাহায্যের প্রতিশ্রুতি পেয়েছিল।

বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তিতে রেকর্ড সৃষ্টি করলেও, গত অর্থবছরে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ভয়ঙ্কর ছোবল পড়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে। করোনাভাইরাসের আঘাতে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (আরএডিপি) বাস্তবায়নেও দেখা যায় বেহালদশা। সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ক্ষেত্রেই এর বাস্তবায়নের হার ৬০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ১৫ দশমিক ০৩ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে। অবশ্য সেতু বিভাগ সংশোধিত এডিপির প্রায় পুরোটাই বাস্তবায়ন করেছে। তাদের বাস্তবায়ন ৯৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। সব মিলিয়ে গত অর্থবছর সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৮০ দশমিক ২৮ শতাংশ, যা স্বাধীনতার পর থেকে সর্বনিম্ন।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরে সবচেয়ে কম আরএডিপি বাস্তবায়ন করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। এ বিভাগের ছয়টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ২৩০ কোটি ৫২ লাখ টাকা। জুন মাস তথা অর্থবছর শেষে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৩৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের হার মাত্র ১৫ দশমিক ০৩ শতাংশ। এই অর্থবছরে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৪ প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ৪৪৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, বাস্তবায়ন হার ৩৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ৪৬৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। অর্থবছর শেষে এই মন্ত্রণালয় এসব প্রকল্পে ব্যয় করেছে ২১৭ কোটি টাকা, বাস্তবায়নের হার ৪৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

পিছিয়ে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে- জননিরাপত্তা বিভাগ (৫১ শতাংশ), আইন ও বিচার বিভাগ (৫১ দশমিক ৮৪ শতাংশ), আইএমইডি (৪৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ), সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় (৫৮ দশমিক ২১ শতাংশ), যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় (৫৬ দশমিক ১১ শতাংশ), আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (৫০ দশমিক ৫০ শতাংশ), বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন (৪৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ), ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (৫৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (৪৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ)।

সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়নে এগিয়ে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ॥ করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই সর্বোচ্চ ৯৯ দশমিক ৬০ শতাংশ সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়ন করেছে সেতু বিভাগ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিল্প মন্ত্রণালয় ৯৯ দশমিক ১৭ শতাংশ ও তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৯৮ দশমিক ৪১ শতাংশ সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়ন করেছে। এছাড়া আরও ছয়টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ৯০ শতাংশের বেশি সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়ন করেছে। এগুলো হলো- বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় (৯৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ), দুর্যোগ ব্যস্থপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় (৯৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ), কৃষি মন্ত্রণালয় (৯৩ দশমিক ৩০ শতাংশ), পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (৯১ দশমিক ৩৮ শতাংশ), বিদ্যুত বিভাগ (৯০ দশমিক ২৮ শতাংশ), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ (৯০ দশমিক ০৯ শতাংশ)।

৮০ শতাংশের বেশি সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়-বিভাগগুলো হলো- জ্বালনি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ (৮৯ দশমিক ১৫ শতাংশ), বাণিজ্য মন্ত্রণালয় (৮৮ দশমিক ০১ শতাংশ), নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (৮৭ দশমিক ৮০ শতাংশ), ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ (৮৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ), পরিবেশ-বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় (৮৬ দশমিক ২৫ শতাংশ), অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (৮৬ দশমিক ০৬ শতাংশ), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ (৮৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ), তথ্য মন্ত্রণালয় (৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ), মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় (৮৪ দশমিক ৯১ শতাংশ), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় (৮৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ), জাতীয় সংসদ সচিবালয় (৮৪ দশমিক ৬১ শতাংশ) ও স্থানীয় সরকার বিভাগ (৮১ দশমিক ৫৫ শতাংশ)।

এ প্রসঙ্গে আইএমইডি’র কর্মকর্তারা জানান, গত অর্থবছরের সংশোধিত এডিপি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে অনুমোদন পায় মার্চ মাসের শেষ দিকে। তারপর আর তেমন কাজ করা যায়নি। কেন না ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে সাধারণ ছুটি শুরু হয়। ফলে এপ্রিল, মে ও জুন- এই তিন মাসে বলতে গেলে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে কোন কাজই হয়নি। বেশিরভাগ প্রকল্পের কাজ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়েছে সার্বিক সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়নের ওপর।

তবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপি সর্বোচ্চ বাস্তবায়িত হয়েছিল। এর কারণ হলো, প্রথমববারের মতো পরিকল্পনা মন্ত্রী বিভাগীয় পর্যায়ে প্রকল্প পরিচালক ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করেছিলেন। আইএমইডি সচিব নিজেও প্রতিমাসে ডিসিদের নিয়ে দু’টি করে উন্নয়ন সভা করেছেন। আইএমইডির মহাপরিচালকরা পিডিদের সঙ্গে প্রতিমাসে কমপক্ষে ছয়টি করে বৈঠক করেছেন। ফলে ওই বছর এডিপি বাস্তবায়নে ব্যাপক গতি পেয়েছিল। এবার করোনার ধাক্কায় সেগুলো কিছুই করা যায়নি। ফলে বাস্তবায়নও কমে গেছে।

চলতি অর্থবছরে এডিপির আকার ছিল দুই লাখ ১৫ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭১ হাজার আট শ’ কোটি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১২ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। কিন্তু মাঝ পথে এসে গত মার্চ মাসে কাটছাঁট করে বরাদ্দ কমিয়ে সংশোধিত এডিপির আকার ধরা হয় দুই লাখ এক হাজার ১৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৬২ হাজার কোটি ও সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে আট হাজার ২৭৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অর্থবছর শেষে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করতে পেরেছে এক লাখ ৬১ হাজার ৫২৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ফলে অব্যয়িত রয়ে যায় প্রায় ৩৯ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা।

গত কয়েক বছরের সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়নের চিত্র ॥ সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে আরএডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৮০ দশমিক ২৮ শতাংশ, যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এর আগে আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেকর্ড ৯৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৯৪ দশমিক ১১ শতাংশ। এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৮৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল ৯২ দশমিক ৭২ শতাংশ।