মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯
Shadow

কোভিড ভ্যাকসিন : দেশে দেশে তোড়জোড়

প্রাইম ডেস্ক :

নিজেরা আবিষ্কার না করলেও কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন উৎপাদনে দেশে দেশে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, ব্রাজিল, কানাডা এবং ভারত গণহারে টিকা উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে। রাষ্ট্রগুলো শুধু নিজেদের জন্যই নয় বরং প্রতিবেশী দেশেও উৎপাদিত টিকা সরবরাহ করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে ভ্যাকসিন পাওয়ার আশা যত দৃঢ় হচ্ছে ততই দেশগুলো ভ্যাকসিনের অগ্রিম অর্ডার দিচ্ছে। কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও চলতি সপ্তাহে দেশেও এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

গত তিনদিন করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে আলোচনা হয়েছে তাতে অক্সফোর্ডের আবিষ্কৃত ভ্যাকসিনের পাশাপাশি এসেছে রাশিয়ার ভ্যাকসিনের নাম। তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল শেষ করার আগেই ভ্যাকসিনের ঘোষণা দেয়ার পরপরও কোন কোন দেশ রাশিয়ার ভ্যাকসিনের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। যদিও রাষ্ট্রগুলো ব্রিটিশ এ্যাস্ট্রেজেনেকা এবং মার্কিন মর্ডানার ওপর আরও আগে থেকে ভরসা রাখছে। ইতোমধ্যে আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান, ইসরাইল টিকার অগ্রিম চুক্তি করার সঙ্গে আর্থিক সহায়তাও দিয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই সুবিধা বাংলাদেশ গ্রহণ করছে কি না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে জানানো হয়েছে বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থা বিনামূল্যে টিকা দেয়ার জন্য যে ৯২ দেশের যে তালিকা করেছে সেখানে বাংলাদেশের নাম রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে চাহিদা অনুযায়ী টিকা পাওয়া যাবে কি না। স্বাভাবিক নিয়মে উৎপাদনকারীদের সঙ্গে যারা অগ্রিম চুক্তি করেছে তারাই আগে টিকা পাবে। যেহেতু বিশে^ এখন করোনাভাইরাসের টিকা মানেই সোনার হরিণ সেজন্য দেশগুলো অগ্রিম ব্যবস্থা করছে। হিন্দুস্থান টাইমস এর এক খবরে বলা হয়েছে মেক্সিকো এবং আর্জেটিনা অক্সফোর্ডের টিকা উৎপাদনের জন্য এ্যাস্ট্রেজেনেকার সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। দেশ দুটি লাতিন আমেরিকার জন্য ১৫০ মিলিয়ন থেকে ২৫০ মিলিয়ন টিকা উৎপাদন করবে। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট আলব্রেতো ফার্নানডেজ এবং মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কেলো এবরার্ড ভিন্ন ভিন্ন টুইট এ খবর জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মেক্সিকোর ধনকুবের কার্লেস স্লিম ফাউন্ডেশন এর খরচ বহন করবে। হিন্দুস্থান টাইমস এই খবরে আরও জানায়, অক্সফোর্ডের টিকার তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের ফলাফল আগামী নবেম্বর নাগাদ হাতে আসবে। আগামী বছরের শুরুতে এই টিকা পাওয়া যাবে। ফলে আগে ভাগেই দেশ দুটি লাতিন আমেরিকার ১০টি দেশের জন্য টিকা উৎপাদনের উদ্যোগ নিল।

শুধু লাতিন আমেরিকা নয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশগুলোর জন্য করোনার টিকা সংগ্রহে একই সঙ্গে কাজ করছে। সেখানে দেশগুলো টিকা আবিষ্কার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন পেয়ে যায় তার জন্য চুক্তি করাসহ নানা ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নও পৃথক প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

বিশ^জুড়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলেও দক্ষিণ এশিয়ার চিত্র ভিন্ন। সাত দেশের সম্মিলিত সার্ককে করোনা মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদি শনিবার ঘোষণা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা আশ^াস দিলে তিনি গণহারে টিকার উৎপাদন শুরু করবে। ভারতের পুনের সিরাম ইনস্টিটিউট এর মধ্যেই অক্সফোর্ডের টিকা উৎপাদনে অস্ট্রেজেনেকার সঙ্গে চুক্তি করেছে। এছাড়া ভারত অক্সফোর্ডের তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে অংশ নিয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে ভারত, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে করোনার সংক্রমণ বেশি। এছাড়া দেশগুলো করোনা নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দেখিয়েছে।

রাশিয়ার কাছ থেকে টিকা কিনতে যোগাযোগ শুরু করেছে ভিয়েতনাম। তৃতীয়ধাপের ট্রায়াল শেষ হওয়ার আগেই রাশিয়া উৎপাদনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হলেও রাশিয়া এই ভ্যাকসিনকে নিরাপদ এবং শতভাগ কার্যকর বলে দাবি করছে। বিবিসি’র এক খবরে ভিয়েতনামের টিকা কেনার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি উঠে আসে। এছাড়া সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশ চীন এবং ব্রিটেনের টিকার তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে অংশ নিচ্ছে।

বাংলাদেশ ভ্যাকসিন পাওয়ার প্রক্রিয়াতে কত দূর এগিয়ে রয়েছে এমন প্রশ্নে গত সপ্তাহে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন চলতি সপ্তাহে ভ্যাকসিন কেনা এবং তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ বিষয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ভ্যাকসিন কেনার জন্য চুক্তি যেমন করতে হবে তেমনি অগ্রিম অর্থও দিতে হবে। এছাড়া ভ্যাকসিনের দামের বিষয়টি এখনও কেউ স্পষ্ট করেনি। তবে বাংলাদেশ কোন পদক্ষেপ না নিলে ডব্লিউএইচও, গ্লোবাল এ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন এ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই) এবং বিল গেটস এ্যান্ড মেলিন্দা গেটস ফাউন্ডেশনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।