মঙ্গলবার, এপ্রিল ২০
Shadow

ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত

প্রাইম ডেস্ক :

সরকারী অর্থায়নে এক লাখ রোহিঙ্গাকে সাময়িকভাবে পুনর্বাসন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য নোয়াখালী জেলার ভাসানচরে ২ হাজার ৩১২ কোটি ১৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। প্রকল্পের কাজ ২০১৯ সালের নবেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী ব্রিফিংয়ে জানান, রোহিঙ্গাদের সাময়িক পুনর্বাসনের জন্য ‘আশ্রয়ণ-৩ নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানাধীন চরঈশ্বর ইউনিয়নের ভাসান চরে ১ লাখ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের আবাসন এবং দ্বীপের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ’ শীর্ষক এ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে ইতোমধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। কিন্তু এত অভিবাসীকে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য সময় দরকার। বর্তমানে অনেক রোহিঙ্গা খোলা আকাশের নিচে অমানবিক পরিবেশে বসবাস করছে। তাছাড়া বিপুলসংখ্যক মানুষের চাপে কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষ ও পরিবেশও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তাদের সাময়িক আশ্রয় দেয়ার জন্য এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। বিদেশী সাহায্যের পরিবর্তে সরকারী অর্থায়নেই কেন রোহিঙ্গাদের জন্য প্রকল্প নেয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার সবসময় বাণিজ্যিক লাভ দেখে প্রকল্প হাতে নেয়না। মিয়ানমারের নাগরিকরা কষ্টে আছেন। আমাদের স্থানীয় মানুষজনরাও কষ্ট করছেন। তবে বিশ^াস করি আমরা নিজেদের টাকায় কাজ শুরু করলেও বিদেশীরা সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসবে।

প্রকল্পের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, নোয়াখালী জেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নে ভাসানচরের অবস্থান। নোয়াখালী থেকে এর দূরত্ব ২১ নটিক্যাল মাইল। আরও বলা হয়েছে, বিপন্ন রোহিঙ্গাদের বিশাল স্রোত দেশের নিরাপত্তা ও পরিবেশ দুটোর জন্যই হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত অসহায় মিয়ানমারের নাগরিকদের কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে বসবাসের স্থান সঙ্কুলান করা কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রতিনিয়ত পাহাড়ী জমি ও বনাঞ্চল নষ্ট হচ্ছে। টেকনাফ ও উখিয়ার স্থানীয় অধিবাসী ৫ লাখ ৭০ হাজার, কিন্তু বর্তমানে নতুন-পুরাতন মিলে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় গ্রহণ করায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পৃথিবী বিখ্যাত পর্যটন এলাকা কক্সবাজারের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলাধীন চরঈশ^র ভাসানচর দ্বীপটিকে জরুরীভিত্তিতে বসবাসের উপযোগী করে সেখানে এক লাখ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিককেও পুনর্বাসনের জন্য এই প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়েছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানাধীন চরঈশ^র ইউনিয়নের ভাসানচরে এক লাখ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা এবং দ্বীপটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা।

১৪ হাজার ৯৯ কোটি টাকার ১৪ প্রকল্প অনুমোদন : মঙ্গলবার একনেকের সভায় ভাসানচরের প্রকল্পসহ মোট ১৪ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ হাজার ৪৮ কোটি টাকা এবং প্রায় ৫১ কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে দেয়া হবে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে,বিদ্যুত বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, ময়মনসিংহ জোন, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৭৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৬০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৫০ কোটি টাকা। সিরাজগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আজিমপুর সরকারী কলোনির অভ্যন্তরে সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৯০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ঢাকার জিগাতলায় সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২৮৮টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ঢাকার সরকারী মতিঝিল কলোনিতে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫৭ কোটি ২২ লাখ টাকা। কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। শেরপুর লঙ্গরপাড়া-শ্রীবর্দী (মামদামারী) সড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। উচ্চ মাধ্যমিক উপবৃত্তি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩২ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.