মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯
Shadow

সাইবার হামলার ঝুঁকিমুক্ত হোক বাংলাদেশ

প্রাইম ডেস্ক :

বাংলাদেশ সাইবার হামলার বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে মর্মে গতকাল দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের ব্যাংক ব্যবস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে দিয়েছে। আধুনিক ও সভ্য জগতে এটিএম বুথ ব্যবহার করে আমরা অনেকাংশেই উপকৃত হচ্ছি। কিন্তু সাইবার হামলার বিষয়টি নিয়ে সত্যিই নিরাপত্তাহীনতার কথা আমাদের  উৎকণ্ঠিত করে তোলে। সতর্ক করে দিয়েছে। প্রকাশিত খবরটিতে বলা হয়েছে, ফায়ারওয়াল দুর্বলতায় সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। একথা আমরাও মানি ও বিশ্বাস করি। কারণ অতীতে বহুবার বাংলাদেশে সাইবার আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রমাণ রয়েছে। এ পর্যন্ত ৭৯১ বার এই সাইবার হামলার ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে। কাজেই যারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত তারা নির্ভয়ে এই সাইবার হামলার ঘটনা ঘটানোর সুযোগ পাচ্ছে বলে আমরা মনে করি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে এই সাইবার হামলার ঘটনার সঙ্গে একটি বিদেশি চক্র দীর্ঘদিন ধরে জড়িত রয়েছে। এই বিদেশি চক্রটি শুধু যে সাইবার হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা আমরা মনে করি না। এরা নানা ফন্দিফিকির করে চলেছে বাংলাদেশে। আমাদের দেশের সহজ-সরল লোকজনকে নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সর্বস্বান্ত করছে। এমনকি প্রাণে মেরে ফেলার মতোও বহু ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে বহু প্রতারক বিদেশিকে গ্রেফতার করতেও সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৭০০ বিদেশিকে বাংলাদেশে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব বিদেশিকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ রয়েছে বর্তমান সরকারের। আমরা সরকারের এই মহতি উদ্যোগের আশু বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

দেশে সাইবার হামলার আশঙ্কার কথা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে সরকারের কর্মকর্তারাও একটু নড়েচড়ে বসেছেন। তারা সর্বদা সতর্ক থাকছেন। গত সপ্তাহে দেশের আর্থিক খাতের অনলাইন সিস্টেমে একটি ম্যালওয়্যার সফটওয়ার বা ভাইরাসের সন্ধান পায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। সতর্কতা হিসেবে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ ব্যাপারে সতর্ক পদক্ষেপ নেয়। পাশাপাশি সীমিত করা হয় এটিএম বুথ ও অনলাইন লেনদেন। একইসঙ্গে আরোপ করা হয় বাড়তি সতর্কতা। শুধু বাংলাদেশের আর্থিক খাত নয়, বিশ্বব্যাপী আর্থিক খাতে সাইবার হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কাও করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সাইবার ইউনিটের এমন এক সতর্কতা জারি করেছে। বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়েছে জোরালো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা ছাড়াও ক্রেডিট-ডেবিট কার্ড জালিয়াতির বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে অতীতে। প্রযুক্তিগত উন্নতির কারণে গত দুই দশকে দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রমে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। অনলাইন ব্যাংকিং, এটিএম কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং ইত্যাদি সেবার মাধ্যমে ব্যাংকগুলো তাদের ব্যাংকিং সেবাকে গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। নেওয়া হয়েছে সাইবার হামলার মতো ঘটনা এড়াতে জোরালো পদক্ষেপ। যার ফলে বাংলাদেশে আগের মতো তেমন সুবিধা করতে পারছে না অপরাধীরা। এটা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার বদৌলতেই সম্ভব হয়েছে বলে আমরা মনে করি। তবে দেখা যাচ্ছে, এসব ক্ষেত্রে নানা জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনাও ঘটছে। এসব রোধে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্কতামূলক জোরালো ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছাড়াও প্রতিটি ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সাইবার বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া জরুরি প্রয়োজন। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলেছেন, দেশের তিনটি ইন্টারনেট প্রটোকলে ম্যালওয়্যার ভাইরাসের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। এখন জরুরি কাজ হলো এ ভাইরাসটি অকেজো করে দেওয়া। এ লক্ষ্যে বিসিসির গাইডলাইন অনুযায়ী সবাইকে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি অপরিচিত, আকর্ষণীয় বা লোভনীয় অফার রয়েছে এমন কোনো ই-মেইল বা ফেসবুক বার্তায় ক্লিক না করার পরামর্শ দিয়েছে বিসিসি। কারণ এগুলোর মধ্যেই থাকতে পারে ভাইরাসটি, যা ক্লিক করলেই তা সচল হয়ে উঠবে এবং ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আমরা আশা করব, সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে সরকার। ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে সব ধরনের অপরাধমুক্ত। কাজেই এই সাইবার হামলা রোধে নিতে হবে কার্যকর জোরালো পদক্ষেপ। যাতে এই অপরাধ করে তারা রক্ষা না পায়। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে সাইবারের মতো অপরাধ জিইয়ে থাকবে আর আমরা তা নীরবে সহ্য করে যাব এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। সাইবারের মতো অপরাধ থেকে মুক্ত করতে হবে বাংলাদেশকে। নতুন প্রজন্মকে একটি নির্ভেজাল, বিশুদ্ধ ও অপরাধমুক্ত সোনার বাংলা উপহার দিতে হবে। সেলক্ষে বতমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতে সেটাই হোক সবার প্রত্যয় ও অঙ্গীকার।