শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫
Shadow

যে দেশে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে দেখা মাত্র গুলির নির্দেশ আছে!

প্রাইম ডেস্ক :

মহামারি করোনাভাইরাসে বিধ্বস্ত পুরো দুনিয়া।  বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই করোনা আঘাত হেনেছে।  প্রতিদিনই জানা যাচ্ছে দেশভিত্তিক করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান। শুধু ব্যতিক্রম একটি মাত্র দেশ। তার নাম উত্তর কোরিয়া। তার কারণ সেই দেশের প্রধান কিম জং উন। তাঁর অঙ্গুলিহেলনে গোটা দেশ চলে।

কে কী খাবেন, কে কী পরবেন, এমনকী কে কেমন চুল কাটবেন তাও ঠিক করে দেন কিম।  তাই কতজন করোনায় আক্রান্ত হলেন এই দেশে বা মারা গেলেন কতজন কেউ তা জানে না। কারণ এই বিষয়ে রয়েছে কঠোর নির্দেশনা। এমন অবস্থায় উত্তর কোরিয়ায় করোনা নিয়ে একটি তথ্য ফাঁস করে দিলেন এক মার্কিন সেনাকর্তা। তার দাবি, সংক্রমণ রুখতে করোনা আক্রান্তদের গুলি করে মারছে পিয়ংইয়ং।
সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার রবার্ট আব্রাহাম। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ  আয়োজিত একটি অনলাইন কনফারেন্সে অংশ নেন আব্রাহাম।
সেখানেই তিনি বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণ রুখতে এক মর্মান্তিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন উত্তর কোরিয়ার স্বৈরাচারি শাসক কিম জং উন। করোনা আক্রান্ত কোনও ব্যক্তির চিকিৎসার বদলে, দেখা মাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর জন্য একটি বিশেষ বাহিনীও তৈরি করেছে কিমের দেশ। তারাই করোনা আক্রান্তকে গুলি করে হত্যার দায়িত্বে।
বিশ্বের অন্যতম আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া দেশ উত্তর কোরিয়া। তাদের একমাত্র সহযোগী দেশ প্রতিবেশী চিন। সেদেশ থেকেই প্রয়োজনের ৮৫ শতাংশ সামগ্রী আমদানি করে পিয়ংইয়ং। কিন্তু করোনা ঠেকাতে জানুয়ারি মাসের শুরুতেই চিন সীমান্ত বন্ধ করে দেয় উত্তর কোরিয়া।
জুন মাসে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে বলেও সেদেশের সরকারি সংবাদমাধ্যমে ঘোষণা করা হয়। এর পাশাপাশি চিন সীমান্তের ২ কিলোমিটার আগে নতুন বাফার জোন তৈরি করা হয়। এর ফলে সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান অনেকটাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে জিনিসপত্রের দামে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই এখন কিমের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এখনই কোনও বড় সামরিক পদক্ষেপ করবে না পিয়ংইয়ং। কিন্তু সিএসআইএস-এর প্রকাশ করা একটি স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করে মিসাইল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া।
এই নতুন মিসাইলটি সমুদ্রে লুকিয়ে থাকা সাবমেরিন থেকে ছোড়া সম্ভব। বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের কাছে এমন মিসাইল রয়েছে। অর্থাৎ মহামারির মধ্যেও সেনার ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছে কিমের দেশ।