মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৪
Shadow

কফিল পদ্ধতি বিলুপ্ত হচ্ছে

করোনাভাইরাস কবলিত বিশ্বে দীর্ঘদিন লকডাউন-শাটডাউনে বিশ্ব অর্থনীতি যখন বিপর্যস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত এবং শ্রমবাজারে বিরাজ করছে শঙ্কা, তখন একটি সুসংবাদ মিলেছে সৌদি আরব থেকে। বহু বিতর্কিত কফিল পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার। বিগত সাত দশক ধরে প্রচলিত কফিল পদ্ধতি বা কাফালা প্রথা অনেকটা ‘দাস প্রথার’ মতো। এর মাধ্যমে কার্যত শ্রমিকের সর্বেসর্বা হতেন তার নিয়োগকর্তা তথা মালিক। এর ফলে নিয়োগকৃত শ্রমিক মালিকের ইচ্ছা তথা লিখিত অনুমোদনের বাইরে অন্য কোথাও কাজ করতে পারতেন না। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে এবং তা নবায়ন না করলে তাকে বাধ্য হয়ে ফিরে আসতে হতো দেশে। ফলে শ্রমিকরাও সর্বদা থাকতেন ভয়ে ভয়ে। তাদের ‘স্বাধীনতা’ ইচ্ছা-অনিচ্ছা বলতে কিছু ছিল না। অতঃপর কফিল পদ্ধতি বাতিলের ফলে প্রবাসী শ্রমিকদের অভিভাবক হবে সৌদি আরবের শ্রম মন্ত্রণালয়। নিয়োগকর্তা মালিক নন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৪ মে সৌদি মন্ত্রিসভায় কফিল পদ্ধতি বাতিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরই পরিণতি হিসেবে ২০২১ সালের প্রথমার্ধেই বাস্তবায়ন করা হবে সিদ্ধান্তটি। ফলে সে দেশে অবস্থানরত অন্তত ১ কোটি প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমজীবী উপকৃত হবেন এবং থেকে যেতে পারবেন সে দেশে। এর পাশাপাশি তারা পছন্দনীয় জায়গায় বা কর্মস্থলে চাকরিও করতে পারবেন। প্রবাসীদের অর্থ লোপাট বা অবৈধ ঘোষিত হবার আশঙ্কাও থাকবে না। সর্বোপরি সে দেশের শ্রম আইন অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরি প্রাপ্তিসহ নির্ধারিত বেতন-ভাতা-ভিসাও সুনিশ্চিত হবে। কফিল পদ্ধতি বাতিলের পাশাপাশি মালিক-শ্রমিকের মধ্যে নতুন ধরনের চুক্তির কথাও ভাবা হচ্ছে, যা হবে আধুনিক উন্নত ও ইতিবাচক। নিয়োগকারী এবং শ্রমিকদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে। শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা ও ন্যায্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।

বিশ্বজুড়ে আবারও করোনা মহামারী সংক্রমণের প্রকোপ বাড়ছে। বাংলাদেশেও দ্বিতীয় ঢেউ সম্পর্কে সরকার ও দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটি। অথচ করোনা প্রতিষেধক ভ্যাকসিনের কোন খবর নেই। এ অবস্থায় দেশে দেশে নতুন করে করোনা প্রতিরোধে আপাত কার্যকর লকডাউন বা শাটডাউনের কথা ভাবা হচ্ছে। কোথাও কোথাও যেমন– ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ায় সীমিত পরিসরে তা প্রয়োগও করা হচ্ছে। ফলে বিদেশের শ্রমবাজারে নতুন করে শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সত্যি বলতে কি তা শুরু হয়েছে করোনা মহামারীর প্রায় শুরু থেকেই। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া থেকে দুই লাখের বেশি শ্রমিক দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এখন তারা আকামা, ভিসা ও টিকেটের জটিলতায় নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরেও যেতে পারছেন না। ঢাকার সৌদি দূতাবাস ও বিমান অফিসে ভিসা এবং টিকেটপ্রত্যাশী শ্রমজীবীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ ও হাহাকারের চিত্র প্রায়ই দৃশ্যমান। কুয়েত ও ওমান থেকে কোটা আইনে আগামী এক বছরে দেশে ফিরতে হবে কয়েক লাখ বাংলাদেশী শ্রমজীবীকে। বিদেশে অবস্থানরত অনেক শ্রমজীবীও কর্মহীন হয়ে পড়ায় দেশে ফেরার প্রতীক্ষায়। যদিও তাদের কষ্টার্জিত অর্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে দিন দিন, ৪১ বিলিয়ন ডলারের বেশি। যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। প্রবাসীদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এখন সময় এসেছে প্রবাসীদের জন্যও কিছু করার ও ভাবার। দেশে দক্ষতা উন্নয়ন ও অভিবাসন ব্যয় অনেক বেশি। দালাল নির্ভরতা বাড়ছে অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার জন্য। বিদেশ ফেরতদের নিয়েও সামাজিক অর্থনৈতিক সঙ্কটের আশঙ্কা রয়েছে। সে অবস্থায় সরকারকে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে বিদেশ ফেরতদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার জন্য। খুঁজতে হবে নতুন শ্রমবাজার। দেশেও সৃষ্টি করতে হবে নতুন কর্মসংস্থান। ফলপ্রসূ অবদান রাখতে হবে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংককে।