মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৪
Shadow

ভাল কাজের স্বীকৃতি

করোনা সংকটে বাংলাদেশও বিপন্নতার শিকার হলেও শেষ অবধি তা কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টায় লিপ্ত। অনেকাংশে উন্নয়নের ক্রমবর্ধমান ধারাবাহিকতায় কর্মচাঞ্চল্যে ফিরে আসার দৃশ্যও সবাইকে আশ্বস্ত করছে। বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান তার নিয়মিত কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে এনেছে। ফলে গণমানুষের মধ্যে কর্মস্পৃহা বাড়ার লক্ষণ মিলছে। এরই মধ্যে নতুন এক প্রাপ্তির সংবাদ সবাইকে মুগ্ধ করেছে। সরকারী কর্মকর্তাদের কাজের ক্ষেত্রে দক্ষতা, সততা, নিষ্ঠা এবং সক্ষমতার প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের স্বীকৃতিকে জনসমক্ষে তুলে ধরেছে। সরকারী চাকরি মানেই জীবন এগিয়ে নেয়ার এক অনবদ্য হাতিয়ার। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এই চাকরি পাওয়ার সৌভাগ্যবানেরা তাদের মেধা, মনন ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের নিরিখেই এমন দুর্লভ স্বীকৃতি পান। তার উপর আছে পদোন্নতির অনন্য প্রাপ্তি। সরকারী কর্মকর্তারা নিজ পদে আসীন থেকে ব্যক্তিক ক্ষমতা আর যোগ্যতায় পুরস্কার প্রাপ্তির চমকপ্রদ ও আকর্ষণীয় স্বীকৃতি পাওয়ার দৃশ্য আমাদের আশান্বিত করে। উচ্চপদে আসীন হওয়া থেকে শুরু করে কর্মক্ষমতা প্রমাণ করা ছাড়াও নীতি নৈতিকতাকে আমলে নিয়েই কোন সরকারী কর্মকর্তার আসন মজবুত হয়। তার আগে বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর যাচাই বাছাইয়ের ধাপ অতিক্রম করে সরকারী কর্মক্ষেত্রে অনুপ্রবেশের ছাড়পত্র পায়। এমন যাত্রাপথও সহজ এবং নির্বিঘœ হয় না। তারপর থেকেই নিজেকে প্রমাণ করার যে প্রতিযোগিতা সেখানেও টিকে থাকাটা এক কঠিন পরিক্রমায়। নতুন করে তাদের যোগ্যতার যথার্থ স্বীকৃতি মেলাটাও এক অভাবনীয় অর্জন। তেমন প্রাপ্তি সরকারী কর্মকর্তাদের প্রতি আমাদের সম্মান, শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা তৈরি করে। শুধু তাই নয়, অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিতও করে। একই সঙ্গে বিপরীত পরিস্থিতির শিকার হতেও সময় লাগে না। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের খবরও আমাদের আশাহত এবং ক্ষুব্ধ করে।

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০১৯-এর জন্য এবার নির্বাচিত হয়েছেন একজন জেলা প্রশাসক। একটি জেলার দায়িত্বে থাকা একজন উচ্চপদস্থ প্রশাসক তার নিঃস্বার্থ এবং নিঃশর্ত কর্মই শুধু নয়, মানবিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতায় কি মাত্রার তার পদমর্যাদাকে অক্ষুণ্ণ রেখেছেন সেখানে তাকে সেরা বিবেচনায় আনতে নির্বাচক ম-লীকে ভাবতেও হয়নি। এভাবে শ্রেষ্ঠ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পুরস্কারও পেয়ে যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। সুনামগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন নাহার রুমাও শ্রেষ্ঠত্ব বিবেচনায় বিচারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। নারীরাও আজ সমান তালে তার পুরুষ সহকর্মীর পাশাপাশি নিজের অবস্থান শক্ত করছেন অনবদ্য কর্মদক্ষতা আর ব্যক্তিক নীতি নিষ্ঠতায়। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সরকারী কর্মকর্তাদের তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে এভাবে পুরস্কৃত করা হয় প্রতিবছর।

সরকার দুর্নীতি প্রতিরোধে যে শূন্য সহিষ্ণুতা দেখায় সেখানে কর্মকর্তাদের কর্তব্যনিষ্ঠা নানামাত্রিকে মজবুত হতে থাকে। সামাজিক অপরাধ, দুর্নীতির মতো কালো ব্যাধি সামগ্রিক বলয়ের ওপর এক চরম অশনিসংকেত। যা উন্নয়নের গতিশীলতাকে বিঘ্নিত করে, এগিয়ে যাওয়া কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ছাড়াও অর্থ ও সময় অপচয়ের চিত্রও আমাদের হতাশ করে। সে সব ঘৃণ্য কর্মকা-কে রুখে দিতে সরকার নিজ দলের কর্মীদের প্রতিও শূন্য সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করে যাচ্ছে। তেমন অবস্থার মধ্যে যারা সমস্ত বাধা-বিঘ্র জয় করে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করে যাচ্ছেন তারা শুধু পুরস্কার নয়, সকলের ভালবাসা আর প্রশংসারও দাবিদার।