মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৪
Shadow

সবার জন্য ভ্যাকসিন

আসেম সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ২৪তম ভার্চুয়াল আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আবার উন্নত বিশ্বের প্রতি অনুন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বকে বিনামূল্যে করোনার টিকা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, এশিয়া-ইউরোপ মিটিং (আসেম) একটি আন্তঃসরকারী প্রক্রিয়া, যা ১৯৯৬ সালে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সংলাপ এবং সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। ইউরোপে ইতোমধ্যে করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায়ও আসন্ন শীতে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে পারে করোনায়। সে অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনামূল্যে কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বিশ্বের ধনী দেশ, বহুমুখী উন্নয়ন ব্যাংক (এমডিবি)সহ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে (আইএফআই) উদার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ৭৫তম ভার্চুয়াল অধিবেশনে কোভিড-১৯-এর টিকা যে দেশই আবিষ্কার ও সফলভাবে প্রয়োগ করুক না কেন, তাকে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কেননা, করোনা ভ্যাকসিনের মেধাস্বত্ব বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে ঘোষিত হলে এর সহজপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। ধনী দেশগুলোর তহবিল প্রাপ্তি সাপেক্ষে তা বিনামূল্যে পাওয়ার পথও সুগম হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োচিত মানবিক আবেদনটি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণে সফল হবে বলেই প্রত্যাশা। জাতিসংঘসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ বিষয়ে অগ্রসর হতে পারে।

সরকার তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা কেনা, সরবরাহ ও বিতরণ নিয়ে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে আনুষ্ঠানিকভাবে। উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডের টিকা উৎপাদন করবে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট, যার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল সম্পন্নের পথে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি নাগাদ সেই টিকার প্রথম চালান আসতে পারে বাংলাদেশে। প্রতিটি টিকার দাম পড়বে ৫ ডলার বা ৪২৫ টাকা। একজন মানুষকে দুই ডোজ করে এই টিকা দেয়া যাবে দেড় কোটি বাংলাদেশীকে। তবে স্বভাবতই ডাক্তার-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা এবং প্রবীণ ব্যক্তিরা টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। পরে পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে সবাইকে। সরকার ইতোপূর্বে সব নাগরিককে বিনামূল্যে টিকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং এজন্য অর্থ বরাদ্দও রেখেছে আলাদাভাবে।

টিকার জন্য সরকার পৃথক অর্থ বরাদ্দ রেখেছে ১২০০ কোটি ডলার। এর বাইরেও বিশ্বব্যাংক, এডিবি, এআইইউবি ও জাইকার কাছে ৫০০ মিলিয়ন ডলার করে অনুদান চেয়ে চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। দেশে বিদ্যমান বিনামূল্যে ইপিআই টিকাদান কর্মসূচীর মতোই বিতরণ ও প্রয়োগ করা হবে এই ভ্যাকসিন। উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশেষ সাফল্য রয়েছে, যার স্বীকৃতি মিলেছে বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক। এখন প্রয়োজন সবার জন্য বিনামূল্যে ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করা। তবে বিনামূল্যে করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে যেন কোন দুর্নীতি-অনিয়ম বা নয়-ছয় না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্টদের।