বুধবার, নভেম্বর ২৫
Shadow

বিএনপির সন্ত্রাসের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে

প্রাইম ডেস্ক :

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপির উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কোনভাবেই বরদাশত করা হবে না। অতীতের ন্যায় আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে প্রস্তুত। এখন বিএনপি কোন ধরনের গণতন্ত্র নিয়ম-কানুন ও বিধি-নিষেধ তোয়াক্কা না করে তাদের নাশকতামূলক চরিত্রকে আঁকড়ে ধরে রাখছে। রাজধানীতে বাসে আগুনের ঘটনা প্রমাণ করে বিএনপি তাদের চিরাচরিত সন্ত্রাসী পন্থা পরিহার করতে পারেনি। বিএনপি যদি এসব নাশকতামূলক কর্মকান্ড পরিহার না করে, তবে আওয়ামী লীগ তাদের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত দলীয় সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি পূর্ব পরিকল্পিত নীলনক্সা অনুযায়ী রাজধানীতে বাসে আগুন দিয়ে নাশকতা করেছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনার এই মানবিক সঙ্কটের ভেতরেও বিএনপি তাদের ধারাবাহিক নাশকতামূলক কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু আমরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলতে চাই, বিএনপি’র এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কোনভাবেই বরদাশত করা হবে না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে কয়েকটি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঢাকা-১৮ নির্বাচনী এলাকার তিনটি স্থানসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আগুন সন্ত্রাস চালানো হয়েছে। সেই পুরনো আগুন সন্ত্রাসের সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি এটা তারা (বিএনপি) আগের মতো শুরু করেছে। এরমধ্যে একটি ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে পুলিশের কাছে আছে, এখানে বিএনপি কর্মীদের উপস্থিতি চেহারা দেখলে বুঝা যায়। কৌশলটা ছিল এমন যে, বাসের ভেতরে যাত্রী সেজে বসে থেকে আগুন লাগানোর সময় ‘আগুন আগুন’ বলে যাত্রী সেজে পেছনের দরজা দিয়ে বেড়িয়ে যায়।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বাসে অগ্নিকান্ডের যে ঘটনা ঘটেছে, বিএনপির কাজই হচ্ছে এসব। নির্বাচনের আগে হম্বি-তম্ভী করবে, আর ভোটের দিন আর নেই। এই নাশকতা প্রমাণ করেছে বিএনপি তাদের চিরাচরিত সন্ত্রাসী পথ পরিহার করতে পারেনি। তাদের নীলনক্সা অনুযায়ী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী এবং বৃহস্পতিবার রাজধানীতে নাশকতার ঘটনা ঘটেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির এ ধরনের সন্ত্রাসী চরিত্র ও নাশকতামূলক কর্মকান্ডের কারণে জনগণ তাদের বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে, নিরীহ মানুষের জীবন ও সম্পদহানীর মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা তারা করে যাচ্ছে, এটা বিএনপির পুরনো অভ্যাস। হঠাৎ এই নাশকতা প্রমাণ করে বিএনপি তাদের চিরাচরিত সন্ত্রাসী পন্থা পরিহার করতে পারেনি।

বিএনপির রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যা ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতা দখল করেছিল এবং রাজনীতিতে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর জেল-জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল তাদের একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এখনও বিএনপি কোন ধরনের গণতান্ত্রিক নিয়ম-কানুন বিধি-নিষেধের তোয়াক্কা না করে তাদের নাশকতামূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবারের ঘটনা সেটাই প্রমাণ করে।

ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপ-নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পূর্ণ হওয়ায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে, প্রচারও চালাবে কিন্তু নির্বাচনের সময় এজেন্ট দেবে না। কারণ তাদের কৌশলই হচ্ছে নির্বাচনকে বিতর্কিত করা। বিএনপি জানে জনগণের ভোটে তারা জিততে পারবে না। এ উপ-নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। কিন্তু পুরনো আগুন সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি ঘটানো হয়েছে। আগে যারা আগুন সন্ত্রাস চালাতো তারাই আবার আগুন সন্ত্রাস চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, ভোট গণনা শেষে জণগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হলে বিএনপি নেতারা বলে সরকার কারচুপি করে হারিয়ে দিয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে জিতলে বিএনপি বলে আরও বেশি ভোটে জিততাম, আর হারলে বলে সরকার হারিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশন হারিয়ে দিয়েছে! এই হচ্ছে তাদের অবস্থা। যে কোন নির্বাচন এলেই বিএনপি হৈ-চৈ করে মাঠ গরম করে অথচ ভোটের দিন তাদের আর মাঠে দেখা যায় না।

কুমিল্লা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি জেতার পর বলল যে, আরও বেশি ভোটে জিততাম যদি সরকারী দল কারচুপি না করত! সিলেটের বেলাতেও একই বক্তব্য আরও বেশি ভোটে জিততাম! আসলে বিএনপি জিতলে বলে আরও বেশি ভোটে জিততাম, আর হারলে তো সরকার হারিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশন হারিয়ে দিয়েছে ? এই হচ্ছে বিএনপির প্রকৃত অবস্থা।

নির্বাচনে জিততে নয়, বরং নির্বাচনকে বিতর্কিত করার লক্ষ্যেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে দাবি করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, এটা কি সাংবাদিকরা বিশ্বাস করবে? কোন মিডিয়াই বলেনি ভোটে জালিয়াতি, দখলবাজি হয়েছে, কারচুপি হয়েছে। এমনকি আমাদের কট্টরপন্থী সমালোচকরাও এই নির্বাচন নিয়ে এমন কথা বলতে পারেনি। শুধু বিএনপির মুখেই এসব কথা।

তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে তখন, যখন বিএনপিকে জেতার নিশ্চয়তা দেয়া হবে। বিএনপি জানে যে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও সঙ্কট মোকাবেলায় তার যে সাহসী নেতৃত্ব, বৈশ্বিক মহামারীতে অন্য দেশের তুলনায় আমরা অনেক ভাল আছি। শেখ হাসিনার মতো নেতৃত্ব আছে বলেই তার জনপ্রিয়তা অনেক বেড়ে গেছে। বিএনপি জানে জনগণের ভোটে তারা জিততে পারবে না। সেজন্যই নির্বাচনকে বিতর্কিত করতেই তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, উপ-নির্বাচনের কোথাও কারচুপি হয়েছে একটা উদাহরণ দেন? এই নির্জলা মিথ্যাচারের রাজনীতি ও অপরাজনীতি যতদিন বিএনপি ত্যাগ না করবে ততদিন তারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে আরও বেশি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে। উপ-নির্বাচনে ভোট কম পড়া প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনে আমরা যা আশা করেছি, সেই পরিমাণ ভোট পড়েনি। ঢাকা-৫ এর চেয়ে কম ভোট পড়েছে। তবে সিরাজগঞ্জ-১ আসনে ৫১ ভাগ ভোট পড়েছে, অথচ সেটা কেউ বলে না। বাংলাদেশ থেকে কি সিরাজগঞ্জ বিচ্ছিন্ন ? তিনি বলেন, ঢাকা শহরের একটা কারণ আছে। এখনও করোনাভাইরাসের কারণে অনেকেই ভোট কেন্দ্রে আসে না। এছাড়া এই নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হচ্ছে না মনে করে অনেকে ভোট কেন্দ্রে যায় না। এই চিত্রটা কেউ তুলে ধরে না।

বিএনপিকে নাশকতার পথ পরিহার করে ইতিবাচক রাজনীতির ধারায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, অপকর্মের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা না করে বারবার সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে বিএনপি। আমরা তাদের কাছে আবারও আহ্বান জানাই, সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক কর্মকান্ড বাদ দিয়ে ইতিবাচক রাজনীতির ধারায় ফিরে আসুন। নাশকতামূলক কর্মকান্ড পরিহার করুন। না হলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আপনাদের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওসার, শাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনোয়ার হোসেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, ঢাকা-১৮ আসনের নবনির্বাচিত এমপি হাবিব হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।