শনিবার, জানুয়ারি ১৬
Shadow

আদালতে দেয়া জবানবন্দি আমার না: ফরহাদ মজহার

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার দাবি করেছেন, তিনি আদালতে যে জবানবন্দি দিয়েছেন তা তার না। তাকে চাপ দিয়ে সব কিছু বলানো হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেছেন, গুম করার উদ্দেশ্যে তাকে তুলে নেয়া হয়েছিল। শনিবার সন্ধ্যায় শ্যামলীতে নিজ বাসভবনে ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ৭ ডিসেম্বর অপরাধ বিষয়ক মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন ও মিথ্যা মামলা করে বিভ্রান্ত ও হয়রানির করার অভিযোগ আনায় ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী মানবাধিকারকর্মী ফরিদা আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করার আদেশ দেন আদালত। ওই দিনই মামলার বাদীর নারাজি দাখিলের জন্য সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে পুলিশের দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম এ আদেশ দেন। এরপর শনিবার হঠাৎ ডাকা এই সংবাদ সম্মেলনে ফরহাদ মজহার বলেন, আমি নাটক করিনি, আমাকে যা বলা হয়েছে, তাই করেছি। আদালতে দেয়া জবানবন্দি আমার না। আমাকে যা লিখে দেয়া হয়েছে, আমি তাই আদালতে দিয়েছি।

সাংবাদিকরা প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ মজহার বলেন, আজই শেষ না, আরও কথা হবে। আমি শুধু আমার একার জন্য বসিনি। দেশে যারা গুম হয়েছে, তাদের জন্যও আপনাদের সঙ্গে বসেছি।

‘গুম’ করার উদ্দেশ্যে তাকে ধরে নেয়া হয়েছিল দাবি করে ফরহাদ মজহার বলেছেন, সেখান থেকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোরাল ভূমিকা রেখেছে, তবে পরে চাপ দিয়ে ও মারধর করে তার কাছ থেকে ‘মিথ্যা’ স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে।

ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, চোখের সমস্যার জন্য ওষুধ কিনতে ভোরে বাসা থেকে বের হলে তিনজন লোক তাকে জোর করে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে চোখ বন্ধ করে ফেলে। সে সময় ফোন তার হাতে স্ত্রী ফরিদা আখতারকে ডায়াল করা অবস্থায় থাকায় প্রথম ফোনটি তার কাছে যায়। এরপর বাঁচার জন্য টেলিফোন করা, টাকা পাঠানোসহ অপহরণকারীরা যা কিছু করতে বলে আমি তা করি।

তিনি বলেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত অবস্থায় আমাকে আদাবর থানায় নিয়ে আসা হয়। প্রতিশ্রুতি দিয়েও আমাকে আমার পরিবারের কাছে যেতে দেয়া হয়নি। অনেকক্ষণ থানায় বসিয়ে রেখে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। ডিবি অফিসে বিধ্বস্ত অবস্থায় আমাকে জেরা ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার জন্য একটি লিখিত কপি দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, আমি প্রচণ্ড বিভ্রান্ত অবস্থায় আদলতকে বলতে পারিনি যে, আমার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। আমার ভীতি ও ট্রমা এখনও কাটেনি। ডিবি অফিস আমাকে দিয়ে যা লিখে নিয়েছে, আমি তাই আপনাকে দিচ্ছি। এরপর তার (আদালত) অনুমতি নিয়ে তার (বিচারক) কক্ষের একটি সোফায় আমি এলিয়ে পড়ি।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মাহাবুবুল ইসলাম আদালতে ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়নি মর্মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। একই সঙ্গে মিথ্যা অপহরণের মামলা করে বিভ্রান্ত ও হয়রানি করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় ফরহাদ মজহার ও ১০৯ ধারায় তার স্ত্রী ফরিদা আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি চান তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তার বলেন, তদন্তকালে বিভিন্ন জনের জবানবন্দিসহ অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ বলছে, অপহরণ বিষয়ে ফরহাদ মজহার সত্য তথ্য দেননি। তার স্ত্রী ফরিদা আক্তার অপহরণের মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তার স্ত্রী মিথ্যা অভিযোগ করলেও পরবর্তী সময়ে তা প্রত্যাহার করেননি।

গত ৩ জুলাই ভোররাতে মোহাম্মদপুর লিংক রোডের হক গার্ডেনের নিজ বাসা থেকে বের হন ফরহাদ মজহার। এরপর ভোর ৫টা ২৯ মিনিটে তিনি তার স্ত্রীকে ফোন করে জানান, ‘ফরিদা, ওরা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ পরে তার স্ত্রী আদাবর থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতে র‌্যাব-৬ যশোর নওয়াপাড়া থেকে তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে আদাবর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তাকে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ফরহাদ মজহার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তার স্ত্রীর করা যে জিডিটি মামলা আকারে নেয়া হয় তার পরিপ্রেক্ষিতে ভিকটিম হিসেবে ফরহাদ মজহার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.