মঙ্গলবার, এপ্রিল ২০
Shadow

দেশের রফতানিতে আইসিটিই সবচেয়ে বড় অবদান রাখবে :প্রধানমন্ত্রী

প্রাইম ডেস্ক :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ভবিষ্যতে আইসিটি খাতই দেশের রফতানিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তিনি যশোরে ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’র উদ্বোধনকালে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে আমাদের উৎপাদিত পণ্য ভবিষতে আমাদের রফতানিতে সব থেকে বড় অবদান রাখবে। কাজেই আমাদের ছেলে-মেয়েদের সেভাবেই আমরা প্রশিক্ষণ দিতে চাই।

রোববার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আইটি যশোরে ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উন্নয়নের ছোঁয়াকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয়াই তার সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক জেলাতে আমরা একটা করে হাইটেক পার্ক করে দেবো। সরকার আশা করছে, ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি খাতের আয় ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে এবং জিডিপিতে সফ্টওয়্যার ও আইসিটি সেবাখাতের অবদান ৫ শতাংশে উন্নীত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের ৪৬ বছরের মধ্যে প্রায় ২৯ বছর হেলায় হারিয়ে গেছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখেনি তারা, এমনকি বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে একের পর এক ষড়যন্ত্র অব্যহত রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে, মানুষ তখন কম্পিউটার ব্যবহার করতেন না। কেউ কেউ শখ করে কম্পিউটার কিনলেও শো’পিসের মতো সাজিয়ে রাখতেন আর ব্যবহার করতেন টাইপরাইটার মেশিন হিসেবে।

তিনিই ছাত্রলীগের হাতে কম্পিউটার তুলে দিয়ে পার্টির কাজে এর পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এর আগে ক্ষমতায় থাকা বিএনপি সরকার প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে খেয়াল করেনি, শুধুমাত্র হাওয়া ভবন খুলে অনিয়ম-দুর্নীতি করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। তখনতো হাওয়া ভবন খুলে দুর্নীতির একটা আখড়া করা হয়েছিল। সরকারের বিরুদ্ধে আরেকটা সরকার সেখানে ছিল। ১৯৯৯ সালের ১৭ জুলাই আমাদের বিনিয়োগ বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম আমরা একটা হাইটেক পার্ক করবো। কালিয়াকৈরে বিশাল জায়গা থাকাতে সেখানেই এই পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হলো। জয়ই (প্রধানমন্ত্রীর ছেলে এবং আইসিটি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়) আমাকে পরামর্শ দিল। সেখানে একটি হাইটেক পার্ক করলে আমাদের কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, রফতানি বৃদ্ধিসহ অনেক কাজ আমরা করতে পারবো।

শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু সেই সময় আমাদের এত আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল না, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও আমাদের সীমিত ছিল। তাই চিন্তা করলাম সেখানে কেউ বিনিয়োগ করতে এলে তাকে আমরা সুযোগ দেব বা কারো সঙ্গে যৌথভাবে এটা আমরা করবো। দুর্ভাগ্যটা হলো ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারলাম না। বিএনপি ক্ষমতায় আসলো এবং যথারীতি অন্যান্য কাজের মত এই কাজটিও পরিত্যক্ত পড়ে থাকলো। তারা আর কোন উদ্যোগ নেয়নি। বরং আল্লাহর কাছে শোকর করি যে এটা নিয়ে যে হাউজিং করে ফেলেনি বা হাওয়া ভবন সেটা যে দখল করে নেয় নাই। এইটুকুই আমাদের একটা সাত্ত্বনা। আগেই যেহেতু জায়গাটা চিহ্নিত করে ফেলেছিলাম কাজেই জায়গাটা আর নিতে পারে নাই।

অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন। গণভবনে এসময় ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী অনুষ্ঠানে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.