শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৬
Shadow

বিজয় দিবসেও নীরব খালেদা জিয়া

প্রাইম ডেস্ক :

খালেদা জিয়া

দুর্নীতির মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড স্থগিতের পর বিশেষ বিবেচনায় মুক্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিজয় দিবসকে সামনে রেখে কোনো বিবৃতি দেননি দেশবাসীর উদ্দেশে।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গত মার্চে মুক্তি পেয়ে বিএনপি নেত্রী আছেন গুলশানের বাসভবন ফিরোজায়। এরপর থেকে তিনি বলতে গেলে একেবারেই নীরব। প্রায় তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনে এমনকি কখনও হয়নি।দলের নেত্রী কারাগারের বাইরে, তবু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। এবার বিজয় দিবসে দলের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়েছেন তিনিই।বিজয়ের ৪৯ তম বার্ষিকীতে বিএনপির খালেদা জিয়ার বিবৃতি না থাকার বিষয়ে দলের চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ম্যাডামের এ রকম নিশ্চুপ থাকা; বিজয় দিবসে, স্বাধীনতা দিবসে শুভেচ্ছা দিতে না পারায় আমরা সবাই মর্মাহত। দলের নেতা-কর্মীরাও মনোকষ্টে আছে।‘তাকে মূলত সব কিছুতে বাধা দিয়ে রাখা হয়েছে। এর আর কোনো ব্যাখ্যা নাই।’২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর সেখান থেকেই দলের নানা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। দলের নেতারা গিয়ে কথা বলে এসে চেয়ারপারসনের অবস্থান জানিয়েছেন। ওই বছরের জুনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর মাধ্যমে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান।তবে ঘরে ফিরে রাজনীতি নিয়ে একেবারেই মাথা ঘামাচ্ছেন না বিএনপি নেত্রী। কোনো দলীয় বৈঠকে তিনি অংশ নিয়েছেন, এমন ঘটনা ঘটেনি একবারও। দলের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য, বিবৃতি কিছুই দেননি।সরকারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে সাময়িক মুক্তি দেয়ার সময় দুটি শর্তের কথা বলা হয়। ১. তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না, ২. তিনি চিকিৎসা নেবেন নিজের ঘরে। তিনি রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে পারবেন না, এমন কোনো শর্তের কথা বলেনি কোনো পক্ষই।বিজয় দিবসে শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের কাছে খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রশ্ন রাখেন সাংবাদিকরা।জবাবে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির কাজে লাগায়। কিন্তু তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মনে ধারণ করেন না। তারা খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি করে রেখে গণতন্ত্র নষ্ট করেছে। তাকে কোনো কিছুর সঙ্গে যুক্ত হতে দিচ্ছে না।’বিজয় দিবসে খালেদা জিয়ার সব শেষ বিবৃতি আসে ২০১৭ সালে ১৬ ডিসেম্বর। সেদিন তিনি দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে সবার সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।কারাগারে যাওয়ার দুই বছর পর গত ২৫ মার্চ সাময়িক মুক্তি পান খালেদা জিয়া। আইনি লড়াই ও দলের আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর পরিবারের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারের নির্বাহী আদেশে ৬ মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে মুক্তি দেওয়া হয় বিএনপি প্রধানকে। সেপ্টেম্বরে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পুনরায় আবেদনের প্রেক্ষিতে মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়ে দেয়া হয়।মুক্তির পর আগস্টে দলের স্থায়ী কমিটির নেতারা ফিরোজায় দলের নেত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। দলের পক্ষ থেকে একে বলা হয়েছে ‘সুখ-দুঃখের আলাপ’ হিসেবে।সেখানে রাজনৈতিক কথা হয়েছে বলে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হলে পরের দিন বিএনপির পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে নেতাদের কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি বা তিনিও কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রদান করেননি।…কোনো প্রকার তথ্য যাচাই ছাড়া এ ধরনের দায়িত্বহীন সংবাদ পরিবেশন করলে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।’