শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৬
Shadow

বিদ্যালয় জুড়েই সবুজের ছায়া

শ্রীপুর প্রতিনিধি :

“নির্মল বায়ু, দীর্ঘ আয়ু” এ বিশ্বাসকে লালন করে গাজীপুরের শ্রীপুরে হাজী আব্দুল কাদের প্রধান উচ্চ বিদ্যালয়কে গ্রীণ ক্যাম্পাসে পরিনত করেছেন শিক্ষক কর্মচারীরা। করোনাকালে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তেমন কোন কাজ ছিল না শিক্ষকদের,এ সুযোগ ও মুজিব বর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপনের আহবানে এ সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তুলেন তারা। বিদ্যালয় জুড়েই এখন সবুজের সমারোহ। দেশী বিদেশী ফুল, ফল ও ঔষধি উদ্ভিদে পরিপূর্ণ এ বিদ্যালয়ের ছাদ বাগানের নজর এখন সবার দৃষ্টি জুড়েই।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য মতে, জেলার শ্রীপুর উপজেলার হায়াতখার চালা গ্রামে এই বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।  বর্তমানে ৬৭৩ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ণরত রয়েছে এ বিদ্যালয়ে। অবকাঠামোগত তেমন উন্নয়ন না হলেও শিক্ষক, কর্মচারীদের প্রচেষ্ঠায় গত ২ বৎসর পূর্বেই বিদ্যালয়টি শতভাগ তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় চলে আসে। শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের বায়োমেট্রিক হাজিরা, প্রযুক্তি ব্যবহার করে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান, পুরো ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরায় নজরদারী সহ বিদ্যালয়ের যাবতীয় হিসাব নিকাশেও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। উপজেলার একমাত্র বিদ্যালয় হিসেবে এই বিদ্যালয়ে শতভাগ স্কাউটিং রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি সৃষ্টিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রচেষ্টা দীর্ঘদিনের।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভাষ্য মতে, তারা যখন ব্যাপক ভাবে মুজিব বর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সেসময় করেনার কারনে বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। তবে প্রধানশিক্ষকের নেতৃত্বে একদল উদ্যোমী শিক্ষক সেসময় শুরু করেন গ্রিণ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার কাজ। বিদ্যালয়ের চারপাশের কিছুু জায়গা বাদে অন্য কোন জায়গা না থাকায় বিদ্যালয় এক তলা ভবনের প্রায় ৪ হাজার বর্গফুটের ছাদে বাগান গড়ে তুলেন। আম, জামরুল, আনার, আতাফল,   আলুবোখরা, আপেল, রামবুটান, কদবেল, সফেদা, বেলী    বেল, কমলা, ত্বীনফল, জামরুল, তেতুল, মালবেরী, লটকন, সুইট  লেমন, করমচা, ড্রাগন, স্ট্রবেরী, পেয়ারা, পারসিমন, পেপিনোমেলন, জাম্বুরা, কমলা,  মাল্টা, করছুল, কাঠাল লেবু, আমড়া, গোলাপ, গাদা, কসমস, হুরহুরিয়া, স্টার,  রজনীগন্ধ্যা, হাইড্রেনজিয়া,সিজিয়াম,  বলকামিনী, পাতাবাহার, রঙ্গন, মাধবীলতা, জবা, টমেটো, জাম,  বেগুন, শিম, বরবটি গাজর, ক্যাপসিকাম সহ  ৭৫ প্রজাতির প্রায় হাজারের উপর উদ্ভিদের সমারোহ এখন এই ছাদ বাগানে।
এসব উদ্ভিদের মধ্যে দেশী বিদেশী সহ অধিকাংশই রয়েছে বিপন্ন তালিকায় । দেশী বিদেশী এসব উদ্ভিদ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন। ভবিষ্যতে এই বিদ্যালয় থেকেই উৎপাদিত বিভিন্ন উদ্ভিদের চারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরন করা
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা পুরো ক্যাম্পাসটিকেই সবুজে পরিপূূর্ণ করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য ডিজিটাল গ্রীন ক্যাম্পাসে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা  পাঠদানে অংশ নেয়ার সময় যেন নির্মল বায়ু পেতে পারে। গ্রীন ক্যাম্পাসের ছাদ বাগানের হাজারো উদ্ভিদ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার একটি বিষয় হবে। তারা ছোট বয়সেই এসব উদ্ভিদের সাথে পরিচিত হয়ে উঠবে। আমরা গ্রাফটিংএর মাধ্যমে নানা ধরনের উদ্ভিদের চারা নিজেরাই উৎপাদন করে আসছি, সে হিসেবে শিক্ষার্থীরা হাতে কলমে শিক্ষার একটি সুৃুযোগ পেয়ে নিজেরাই বৃক্ষ রোপনে উৎসাহিত হবে। মূলত আমাদের পুরো আয়োজনটা শিক্ষার্থীদের ঘিরেই।
গাজীপুর জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, জেলায় এ বিদ্যালয়টি একটি মডেল। বিভিন্ন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিদ্যালয়টি পরিদর্শণ করে গ্রীণ ক্যাম্পাসে রুপান্তরিত করতে পারেন। তিনি আরো বলেন, নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকার পরও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিতৃত্বে শিক্ষকরা মিলে গ্রীণ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। আমি বেশ কয়েকবার বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে মুগ্ধ হয়েছি।