রবিবার, জানুয়ারি ২৪
Shadow

অসহায় মায়ের পাশে প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

তিন পুলিশ কর্তার মা ভিক্ষা করছে এমন প্রতিবেদনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অসহায় এ বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছেন বরিশালের প্রশাসন এবং স্থানীয় এমপি টিপু সুলতান। বৃদ্ধা মাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল কতৃপক্ষ নিয়েছেন চিকিৎসার সব দায়িত্ব। প্রশাসন থেকে দেয়া হয়েছে ৩৭ হাজার টাকা সাহায্য। তিন পুলিশ পুত্র এবং শিক্ষিকা কন্যার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে শিক্ষিকা কন্যাকে শোকাজ দিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তবে বৃদ্ধার জেষ্ঠ সন্তান অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেছেন এটি তার ছোট ভাইয়ের চক্রান্ত। তার মা কখনো ভিক্ষা করেননি। পিতার জমিজমা দখলের জন্য এ নাটক সাজানো হয়েছে।
তিন পুলিশ কর্তা ও শিক্ষকার মা ভিক্ষা করছে এমন ঘটনা বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় এবং ফেসবুকে ছবিসহ পোস্টে সারা দেশেই আলোড়ন সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রাম থেকে এক পুলিশ অফিসার বৃদ্ধা মায়ের দায়িত্ব নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে ঢাকায় অবস্থানরত এক যুবলীগ নেত্রীর অনুরোধে স্থানীয় এমপি টিপু সুলতান ছুটে যান অসহায় বৃদ্ধাকে মনোয়ারা বেগমকে দেখতে। বাবুগঞ্জ স্টিল ব্রীজের পশ্চিম পাশে একটি খুঁপড়ি ঘরে অনাহারে-বিনাচিকিৎসায় দিনাতিপাত করা হতভাগী মনোয়ারা বেগমের করুণ অবস্থা দেখে তাকে  শেরে-ই বাংলা মেডিকেলে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। শেবাচিম হাসপাতাল কতৃপক্ষও মানবিক কারনে বৃদ্ধার সব চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহন করে।
মঙ্গলবার হাসপাতালে ছুটে যান পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম বিপিএম। তিনি বৃদ্ধার হাতে ১০ হাজার টাকা তুলে দেন। গতকাল সকালে জেলাপ্রশাসক বৃদ্ধার হাতে তুলে দেন ১২ হাজার এবং ডিআইজি দেন ১৫ হাজার টাকা। জানা গেছে, বাবুগঞ্জের এমপি টিপু সুলতান বরিশাল পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে ঢাকায় যোগাযোগ করেছেন যাতে তিন পুলিশ পুত্রের (এএসআই ফারুক হোসেন (অব), এএসআই নেছার উদ্দিন, পুলিশ কনস্টেবল জসিম উদ্দিন) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। সুত্র মতে ঢাকা থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে বিধি মোতাবেক এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপর দিকে অসহায় মনোয়ারা বেগমের আর এক কন্যা বাবুগঞ্জে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তাকে গতকাল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শোকজ দিয়েছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কে এম তোফাজ্জল হোসেন মানবজমিনকে জানান, স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। বৃদ্ধার অবর্ণণীয় অবস্থা দেখে তারা ব্যাথিত হন। এজন্য তার কন্যা শিক্ষিকা মরিয়ম সুলতানাকে কারণ দর্শানো হয়েছে। চিঠিতে ঘটনাটি অমানবিক এবং অনৈতিক দাবি করে খোরপোষ না দেয়ার জন্য কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না জানতে চাওয়া হয়েছে।

মনোয়ারা বেগম বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামের মৃত আইয়ুব আলী সরদারের স্ত্রী। ২০১৪ সালের পহেলা অক্টোবর আইয়ুব আলী মারা যায়। তার ৬ সন্তানের মধ্যে, এএসআই ফারুক হোসেন (অব), এএসআই নেছার উদ্দিন, পুলিশ কনস্টেবল জসিম উদ্দিন একমাত্র মেয়ে মরিয়ম সুলতানা একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা। অন্য ২ সন্তানের মধ্যে শাহাবউদ্দিন ব্যবসা এবং ছোট ছেলে গিয়াস উদ্দিন নিজের মোটর সাইকেল ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। বাবার কাছ থেকে ৩ পুলিশ ছেলে বাড়ির সব জমি লিখিয়ে নেয়ায় স্বামীর মৃত্যুর পর মনোয়ারা তার ছোট ছেলেকে নিয়ে বাবুগঞ্জ স্টিল ব্রিজ এলাকায় নিজেদের এক টুকরো জমিতে খুপড়ি ঘরে বসবাস করছিলেন। সেখানে ছোট ছেলের আয়ে এবং নিজের ভিক্ষাবৃত্তিতে আয় হওয়া অর্থ দিয়েই তাদের কোনোমতে চলছিলো। ৪/৫ মাস আগে পড়ে গিয়ে কোমড়ে ব্যাথা পান বৃদ্ধা মা মনোয়ারা। কিন্তু বৃদ্ধা মা নানা রোগের চিকিৎসা করানোর সামর্থ ছিল না ছোট ছেলে গিয়াসের। এ কারনে অনেকটা বিনা চিকিৎসায় খুপড়ি ঘরে কাটছিলো তার মানবেতর জীবন। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানরা তেমন খোঁজ খবর না নেয়ায় তিনি ভিক্ষা বৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েন।
এদিকে বড় সন্তান এ এসআই ( অব) ফারুক হোসেন দাবি করেছেন এটি তার ছোটভাই  গিয়াসউদ্দিনের চক্রান্ত। পিতার রেখে যাওয়া জমি জমা এক ভোগ দখলের উদ্দেশ্যে তিন ভাইকে চাকুরিচ্যুত করতে এ ধরনের তথ্য সাংবাদিকদের দিয়েছেন। প্রকৃত পক্ষে তার মা কথা বলাতে পারেন না। এমনকি তার মা কোনোদিন ভিক্ষা করেননি বলেও তিনি দাবি করেছেন। তিনি তার মায়ের চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন যা তার ছোটভাই ফিরিয়ে দিয়েছে। এমন ঘটনার অনেক স্বাক্ষী আছে বলে তিনি দাবি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.