বুধবার, মার্চ ৩
Shadow

শ্রীপুরে ফুটেছে নেদারল্যান্ডসের টিউলিপ ফুল

শ্রীপুর গাজীপুর :
তুরস্কের জাতীয় ফুল টিউলিপ যদিও নেদারল্যান্ডসে টিউলিপ ফুলের ব্যাপক আবাদ হয়। বর্তমান বিশ্বে নেদারল্যান্ডস টিউলিপ ফুল উৎপাদনকারী প্রধান দেশ। টিউলিপকে নিয়েই সেখানে গড়ে উঠেছে শিল্প। দেশটি প্রতি বছর উদযাপন করে টিউলিপ উৎসব। শীত প্রধান দেশ ছাড়া এশিয়া মহাদেশের ভারত ও আফগানিস্তান ছাড়া এমন দৃষ্টি জুড়ানো টিউলিপ ফুলের দেখা মেলে না। এই টিউলিপ ফুলের প্রতি সবার হৃদয়ে রয়েছে অগাধ ভালোবাসা।

ষড় ঋতুর বাংলাদেশে একসময় এই ফুল চাষের কথা কল্পনাও করা যেত না। মনের মাধুরী মেশানো এই ফুলের ছোঁয়া পেত না কেউ। তবে এখন এর দুয়ার খুলে দিয়েছেন গাজীপুরের এক ফুল চাষি। গত বছর প্রথমবারের মতো দেশে টিউলিপ ফুল ফুটিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছিলেন এই চাষী। এবারের শীতে ফের টিউলিপ ফুঁটছে দেলোয়ারের বাগানে।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ফুল চাষি দেলোয়ার হোসেনের বাগানে এখন স্বর্গীয় পরিবেশ বিরাজ শুরু হয়েছে। গত বারের মতো এবারও দৃষ্টিনন্দন এই টিউলিপ বাগানের ফুল দৃশ্য অবলোকন করতে উন্মোখ হয়ে রয়েছে দেশের মানুষ। বেশ কিছুদিন ধরেই তারা খোঁজ নিচ্ছেন কখন ফুঁটবে এই টিউলিপ।

দেলোয়ার হোসেন তার টিউলিপ ফুল বাগানের নাম দিয়েছেন ‘মৌমিতা ফ্লাওয়ারস’। এর আগে জার্বেরা, চায়না গোলাপ ও বিদেশি বিভিন্ন ফুল চাষে সফল হয়েছেন তিনি। সফল ফুল চাষি হিসেবে ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক পান দেলোয়ার। দেশে প্রথমবারের মতো ভাইরাসমুক্ত সবজির চারা উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেন তিনি।

ফুল চাষি দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের দেশে ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চাহিদা মিটাতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ফুল আমদানি করা হয়। ফুল চাষে জড়িয়ে আছে কৃষি অর্থনীতির একটি অংশ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ফুল চাষে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠলেও আমরা পিছিয়ে। অর্থনীতি ও চাহিদার কথা চিন্তা করে বিভিন্ন বিদেশি ফুল দিয়ে আমার স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়। নানা প্রতিবন্ধকতার পরও থেমে থাকিনি। এরই মধ্যে পেয়ে যাই একটির পর একটি সফলতা। জার্বেরা, চায়না গোলাপের পর টিউলিপ ফুল ফুটিয়ে গত বছর পেয়েছিলাম নতুন সফলতা।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির টিউলিপ থাকলেও গত বছরের মতো এবারও নেদারল্যান্ডস থেকে এক প্রজাতির চার রঙের বিশ হাজার টিউলিপ বাল্ব এনে ৩টি বাগানে রোপণ করি গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। গাজীপুরে সফল হওয়ার পর দেশের অন্যান্য স্থানে সম্ভাবতা যাচাইয়ের জন্য চুয়াডাঙ্গায় তিন হাজার ও ঠাকুরগাঁওয়ে সাড়ে তিন হাজার বাল্ব রোপন করা হয়। বাকী সাড়ে তের হাজার বাল্ব তার গাজীপুরের মৌমিতা ফ্লাওয়ার বাগানে রোপন করা হয়। কয়েকদিন পরিচর্যা শেষে চলতি সপ্তাহর প্রথম থেকেই গাজীপুরে টিউলিপ ফুল ফোটা শুরু হয়। যদিও অন্য দুটি স্থানে এখনও ফুঁটেনি। আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে ২০-২২ দিনেই ফুটে টিউলিপ ফুল। তিনি আরো বলেন, টিউলিপ ফুল ফুটতে সাধারণত ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় বিধায় শীত এলাকাগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ঠাকুরগাঁও ও চুয়াডাঙ্গায় পরীক্ষামূূলক বাগান করেছেন। গত বছর টিউলিপ ফুল ফুটিয়ে সফল হওয়ার পর এবারের মৌসুমে ব্যাপকভাবে টিউলিপ ফুল বাগান করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সেটা আর হয়ে উঠেনি। তবে তার আশা একসময়ে টিউলিপময় ভালবাসার ছোঁয়া সারাদেশেই ছড়িয়ে দেয়া।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্যানতত্ত¡ বিভাগের ফুল গবেষক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফারজানা নাসরিন খান বলেন, টিউলিপ সাধারণত শীতপ্রধান অঞ্চলের ফুল। আমাদের দেশে শীত মৌসুমে অনেকেই বাসাবাড়ির টবে বা শখের বশে টিউলিপ ফুলের চাষ করেন। তবে ফুল পাওয়া খুবই অস্বাভাবিক। তবে দেলোয়ারের বাগানে টিউলিপ ফুল ফোটায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দেশে বাণিজ্যিকভাবে এখনও এই ফুল চাষ শুরু হয়নি। তবে শীত মৌসুমে আবহাওয়া ফুলের অনুক‚লে থাকলে টিউলিপ ফুলের চাষ করা যায়। বিশেষ করে উত্তরের জেলাগুলোতে এই ফুল চাষ উপযোগী। দেশের কৃষকদের মনে নতুন করে টিউলিপ ফুল চাষের স্বপ্ন বুনে দিয়েছেন ফুল চাষি দেলোয়ার।
গাজীপুর জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাহবুব আলম বলেন, বর্তমানে উচ্চমূল্যে টিউলিপ ফুল আমদানি করে আমাদের দেশের চাহিদা মেটাতে হয়। সফল ফুল চাষি দেলোয়ারের বাগানে গত বছরের মতো এবারও টিউলিপ ফুল ফোটায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। টিউলিপ ফুল চাষ স¤প্রসারণের মাধ্যমে কৃষি অর্থনীতিতে দারুণ ছোঁয়া লাগবে।