শুক্রবার, জানুয়ারি ২২
Shadow

বাহিনীর বন্ধনকে আরো দৃঢ় করুন: বিজিবি সদস্যদের প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ এবং সর্বোপরি শৃঙ্খলা ও সহানুভূতিশীলতার মাধ্যমে এই বাহিনীর বন্ধনকে দৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক ও সীমান্তে কার্যকর ভূমিকা রাখায় বিজিবি সদস্যদের প্রশংসা করেন তিনি।
আজ বুধবার সকালে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে ‘বিজিবি দিবস-২০১৭’ উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী  বলেন, ‘বিজিবির সদস্য হিসেবে আপনাদের পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, মানবিকতা, এবং সর্বোপরি পারস্পরিক সহানুভূতিশীলতাই এই বাহিনীর বন্ধন দৃঢ়তর করবে। কাজেই ভবিষ্যতে সবাই বাহিনীর নিজস্ব শৃঙ্খলার বিষয়টি ভালভাবে জেনে নিবে, চর্চা করবে এবং দেশের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের বিভিন্ন দুর্যোগের সময় মানুষের জানমাল রক্ষায় বিজিবি খুব আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বিজিবি নিজস্ব শৃঙ্খলা মেনে চলবে আশা করি। এ বাহিনী দেশের জন্য কাজ করে যাবে। এ সময় বিজিবিকে সময়োপযোগী করে গড়ে তোলার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ে দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রাখায় বিজিবিকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ছিটমহল বিনিময় সম্পন্ন করে আমরা সারা বিশ্বের মধ্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে বিজিবি। এজন্য বিজিবিকে অভিনন্দন।
এছাড়া দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে বিজিবি সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী বীর উত্তম আনোয়ার হোসেন প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল ও বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন তাকে স্বাগত জানান। পরে বিজিবি সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেন।
প্রধানমন্ত্রী বিজিবিতে বীরত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কর্মকর্তা এবং সদস্যদের পদক প্রদান করেন।
বিজিবি দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টাবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং কূটনৈতিক কোরের সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।
এর আগে সকাল ৮টায় বাহিনীর রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করেন বিজিবির মহাপরিচালক।
দিবসটি উপলক্ষে পিলখানা ছাড়াও ঢাকার বাইরে বিজিবির সব রিজিয়ন, বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ, সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে মিলাদ ও বিশেষ দোয়া, আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে বিশেষ দরবার, বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, প্রীতিভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।