মঙ্গলবার, এপ্রিল ২০
Shadow

ফিলিপিন্সে ভূমিধস ও বন্যায় নিহত ৯০

প্রাইম আন্তর্জাতিক  :

মৌসুমি ঝড়ের প্রভাবে ফিলিপিন্সে ব্যাপক ভূমিধস ও বন্যায় প্রায় ৯০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে। গত শুক্রবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। দেশটির পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বন্যা ও ভূমিধসে ৬৪ জন নিখোঁজ রয়েছে।

স্থানীয় একজন কর্মকর্তা রায়ান ক্যাবাস বলেছেন, কৃষি কাজই প্রধান, এমন একটি গ্রামে ভূমিধসের ঘটনায় কতজন হতাহত হয়েছে সেটি এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি আমরা। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

টুবোড শহরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, একটি কৃষিপ্রধান গ্রাম ভূমিধসের নিচে চাপা পড়েছে সংক্রান্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। ওই এলাকার বৈদ্যুতিক ও টেলিযোগাযোগ লাইনগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার প্রচেষ্টায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

দেশটির আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঝড়টি সুলু সাগর থেকে শক্তি সঞ্চয় করছে এবং ৮০ কিলোমিটার বাতাসের বেগ নিয়ে ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ঝড়ের পর জীবিতদের খুঁজে বের করা, আবর্জনা পরিষ্কার করা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য জরুরি বিভাগের কর্মী, সৈন্য, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিভিন্ন এলাকা থেকে নিহতদের বিষয়ে খবর পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম। এসবের মধ্যে লানাও দেল নোর্তে প্রদেশের টুবোড, এল সালভাদর ও মুনাই শহরে ৩৯ জন নিহত হয়েছেন।

জামবোয়াঙ্গা দেল নোর্তে প্রদেশের পুলিশ জানিয়েছে, সিবুকো শহরে ৩০ জন ও সালুগ শহরে ছয়জন নিহত হয়েছেন। বুকিদনোন প্রদেশে আরো তিনজন নিহত হয়েছেন। অপর দিকে লানাও দেল সুর প্রদেশের রাজনীতিকরা জানিয়েছেন, তাদের এখানে সাতজন আকস্মিক বন্যায় ডুবে মারা গেছেন।

পুলিশ ও কর্মকর্তাদের দেয়ার হিসাব অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসে মোট ৬৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন।

প্রতি বছর ফিলিপাইনে প্রায় ২০টি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এতে ব্যাপক ধ্বংস ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দরিদ্র লোকজনই এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার বেশি হন।

গত সপ্তাহে দেশটির মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানা অপর এক ঘূর্ণিঝড়ে ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। ২০১৩ সালে সুপার টাইফুন হাইয়ানের আঘাতে প্রায় আট হাজার লোক নিহত হয়। আর গৃহহীন হয় দুই লাখ মানুষ।