বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫
Shadow

উপবৃত্তি প্রকল্পে লুটপাট

দেশে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে নানা উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবতা হল দুর্নীতিবাজরা অভিনব পন্থায় তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চ মাধ্যমিক উপবৃত্তি প্রকল্পে লুটপাট অব্যাহত থাকলেও তা দেখার কেউ নেই। ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে যেভাবে প্রকল্পের অর্থ হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে, তাতে শেষ পর্যন্ত এ প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জিত হবে কিনা, এটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে এখন। প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে নানা কৌশলে প্রকল্পের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। যেখানে স্বয়ং প্রকল্প পরিচালক অনৈতিকভাবে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করে থাকে, সেখানে তার অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নানাভাবে প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের চেষ্টা চালিয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। অফিসের গাড়ি প্রকল্প পরিচালকের পরিবারের সদস্যরাও ব্যবহার করে থাকেন, এমন অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া অফিসের কর্মচারীকে বাসার কাজে ব্যস্ত রাখার অভিযোগও রয়েছে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে। অফিসের গাড়ি ব্যবহার নিয়ে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ যে ভিত্তিহীন নয় তার প্রমাণও রয়েছে। সম্প্রতি প্রকল্প পরিচালক ভারতে ভ্রমণে থাকাকালীন তার পরিবারের এক সদস্য অফিসের কাজে ব্যবহৃত জিপ নিয়ে ভ্রমণে বের হয়ে এক ট্রাকের সঙ্গে দুর্ঘটনার শিকার হন। উল্লেখ্য, প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি মেরামত করা হয়। প্রকল্প পরিচালকের সব ধরনের অন্যায় কাজে উপপ্রকল্প পরিচালক সহযোগীর ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের সহযোগী উপপ্রকল্প পরিচালক তার পদে দীর্ঘদিন কী করে বহাল রয়েছেন এটাও এক বড় রহস্য। তাহলে কি শর্ষের ভেতরেই রয়েছে ভূত? এ অবস্থা চলতে থাকলে প্রকল্পের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লুটপাট বন্ধ হবে না।
উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণের সুবিধার জন্য বিপুল অংকের অর্থে একটি সার্ভার স্থাপন করে তা দেখাশোনার জন্য মাসিক ৪৫ হাজার টাকা বেতনে একজন কর্মীও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সার্ভার বক্সে একটি পরিত্যক্ত কি-বোর্ড ছাড়া অন্য কোনো যন্ত্রপাতি নেই। এমন আরও অনেক অভিনব দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে। আলোচ্য প্রকল্পের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনিয়ম খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। কিন্তু সে তদন্তে কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, এক্ষেত্রেও কি শর্ষের ভেতরে ভূত রয়েছে? আলোচ্য প্রকল্পের দুর্নীতির তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি করা জরুরি। সবধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নেবে, এটাই কাম্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.