শনিবার, এপ্রিল ১৭
Shadow

যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পিছপা হবো না : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে শিখিনি। ফলে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা পিছপা হবো না।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নৌ সেনাদের আতœনিয়োগ করতে হবে। এ জন্য নৌ সদস্যদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে।

আজ রোববার চট্টগ্রামের বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ মিডশীপম্যান-২০১৫ পরিদর্শন এবং বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণে জাতির অস্তিত্বের ইতিহাস প্রতিফলিত হয়েছে।

আমার মা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব ভাষণ দিতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার প্রাক্কালে বাবাকে পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নয়, তার বিবেক যা বলে- সেই কথাগুলোই ভাষণে বলে আসতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মা বুঝতেন জাতির পিতাই বাঙালির আশা-আকাঙ্খা, দুঃখ-বঞ্চনার কথা সবচেয়ে ভালো জানেন। বাঙালি জাতির প্রতি তার মতো গভীর আন্তরিকতা আর কারো নেই। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ শোষণ-শাসনে জর্জরিত জাতির বেদনার উপাখ্যান।

জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্ট হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানে জাতি হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বে আরো মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী সালাম গ্রহণ করেন এবং কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তিন বছরে প্রশিক্ষণে সব বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনকারি ক্যাডেটকে সোর্ড অব অনার প্রদান করেন।

২০১৫ ব্যাচের সোহানুর রহমান সকল বিষয়ে সর্ব্বোচ্চ মান অর্জন করে প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে সোর্ড অব অনার লাভ করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে মিডশিপম্যান সীমান্ত নন্দী আকাশ নৌবাহিনী প্রধান স্বর্ণ পদক এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার অ্যাক্টিং সাব লেফটেন্যান্ট এ জেড এম নাসিমুল ইসলাম বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণ পদক গ্রহণ করেন।

পরে প্যারেড কমান্ডার নবীন অফিসারদের শপথ গ্রহণ করান। শীতকালিন এই কুচকাওয়াজের মধ্যদিয়ে ২১ জন মহিলা, একজন শ্রীলংকান, একজন মালদ্বীপসহ ৯২ জন মিডশিপম্যান এবং ১২ জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসারসহ
মোট ১০৪ জন কমিশন লাভ করেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে পৌছান। সেখান থেকে তিনি সড়ক পথে নেভাল একাডেমিতে যান। এ সময় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল এম আবু আশরাফ তাঁকে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, জাতীয় সংসদের সদস্যবৃন্দ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, কূটনৈতিকবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।