রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮
Shadow

কিশোরী ফুটবলারদের অভিনন্দন

বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবলাররা বেশ কিছুদিন ধরে সুখবর বয়ে আনছে। এবার অনূর্ধ্ব-১৫ কিশোরী ফুটবল দল বয়সভিত্তিক সাফ টুর্নামেন্টে বিজয়ী হয়েছে। কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন, অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা এবং পুরো দলকে জাতির অভিনন্দন। বাংলাদেশ প্রতিবেশী শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের কিশোরীদের অনেক অর্জন। তারা কেবল বেশিরভাগ ম্যাচ ও ফাইনালে জিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়নি, তারা এ টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বেও কোনো ম্যাচে হারেনি, এমনকি বাংলাদেশ দলের জালে পুরো টুর্নামেন্টে একটি গোলও ঢোকেনি। অধিকাংশ ম্যাচে আমাদের দক্ষ কিশোরী গোলরক্ষক মাহমুদাকে অলস সময় কাটাতে হয়েছে। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা কেবল রক্ষণব্যূহ আগলায়নি, তারা আক্রমণে উঠেছে এবং একাধিক গোলও করেছে। ফাইনালে একমাত্র গোলটিও করেছে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় শামসুন্নাহার। বাংলাদেশ দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের ফেয়ার প্লে ট্রফিও জিতেছে। ফাইনালসহ একাধিক খেলায় বাংলাদেশের মেয়েরা ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছে। বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা কেবল অনূর্ধ্ব-১৫ নয়, অনূর্ধ্ব-১৪ ও ১৬ টুর্নামেন্টেও দক্ষিণ এশীয় চ্যাম্পিয়ন। বয়সভিত্তিক বিভিন্ন টুর্নামেন্ট ছাড়াও সামগ্রিকভাবে নারী ফুটবলে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে, রেটিংয়েও তারা ছেলেদের তুলনায় সামনের কাতারে। বাংলাদেশে নারী ফুটবলের এই অগ্রগতির পেছনে কাজ করেছে দেশজুড়ে প্রতিবছর আয়োজিত বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা ফুটবল টুর্নামেন্টের ভূমিকা। এই টুর্নামেন্ট থেকেই অনূর্ধ্ব-১৪ সেরা খেলোয়াড়রা উঠে আসে এবং এর পর কোচ গোলাম মোস্তফা ছোটনের প্রশিক্ষণে এযাবৎ তারা দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে চমকপ্রদ সাফল্য দেখিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ করতে হবে, আমাদের ক্রীড়াপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উৎসাহের কথা। এভাবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে নারী ফুটবলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে তাতে সন্দেহ নেই।
আমরা জানি দক্ষিণ এশিয়া এমনিতেই ফুটবলবিশ্বে দুর্বল অঞ্চল। এশিয়ায় মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দূরপ্রাচ্যের দেশগুলো সাধারণভাবে ফুটবলে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। ফলে এ বিজয় আনন্দের সঙ্গে উদযাপনের পাশাপাশি আমরা যেন বাস্তবতা না ভুলি, আমাদের যে আরও অনেক দূর যেতে হবে তা যেন মনে রাখি। এর মধ্যে আনন্দের কথা হলো, আমরা জয়ী হতে শুরু করেছি, খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ও উদ্দীপনা বেড়েছে, মেয়েদের খেলাধুলায় পারিবারিক-সামাজিক বাধা অনেকটা কেটেছে, জাতি এ আনন্দে শরিক হচ্ছে এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা চলমান রয়েছে। আমরা দেশের নারী ফুটবলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী।