মঙ্গলবার, এপ্রিল ২০
Shadow

হারানো জাতীয় পরিচয়পত্র ওঠাতে জিডি লাগবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

সাধারণ ডায়রি (জিডি) করার নামে পুলিশের উৎকোচ বাণিজ্য ও হয়রানি বন্ধ হচ্ছে। কারণ জাতীয় পরিচয়পত্র হারালে এখন থেকে থানায় জিডি করা লাগবে না। নির্বাচন কমিশন (ইসি) বাধ্যতামূলক এই বিধানটি তুলে দিয়েছে। ইসি-সংশ্লিষ্টরা বলছে, ভোটার পরিচয়পত্র হারালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাময়িক ভোগান্তি ছাড়া কোনো ঝুঁকি নেই। কিন্তু নতুন আরেকটি কার্ড ওঠাতে ঝক্কি যতটা কম থাকে, অনেক বেশি বিড়ম্বনা পেতে হয় থানায় গিয়ে জিডি করাতে। কারণ নগদ টাকা ছাড়া কোনো নাগরিক সহজ এই সেবাটি থানায় গিয়ে পান না। তাই পরিচয়পত্র বাহকদের ভোগান্তি কমাতে জিডি করার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে সচিবালয়সহ মাঠ অফিসকে এই আদেশ পালনের নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের যুগ্মসচিব ও এনআইডির পরিচালক (অপারেশন) আবদুল বাতেন বলেন, হারানো জাতীয় পরিচয়পত্র ওঠাতে থানায় জিডি করা বাধ্যতামূলক। প্রাথমিক এই কাজটি করার বিষয়ে দেশের অনেক নাগরিক সচেতন নয়। তাই কার্ডটি হারানোর পর জিডি না করেই অনেকে সেটি ওঠাতে নির্বাচন কমিশনে ছুটে আসেন। তখন পরামর্শ দেওয়া হয় থানায় জিডি করে তার অনুলিপি আবেদনপত্রের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য। এটিও গ্রাহকদের জন্য এক ধরনের ভোগান্তি।

পরিচালক বলেন, জিডির প্রয়োজনীয়তা আছে কি নেই কমিশনে আলোচনা করে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছে, একজন ব্যক্তির আইডি অন্য আরেকজন নিয়ে কারসাজি কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে তাকে বিপদে ফেলতে পারেন না। কারণ আইডি নিয়ে তার অপব্যবহার করার সুযোগ কম। কেননা সংশ্লিষ্ট নম্বরটি সার্চ দিলেই এই কার্ডটির বৈধ মালিককে তা ডাটাবেজ শনাক্ত করে থাকে। এছাড়া জিডি করতে গিয়ে অনেক সময় হয়রানির শিকার হন কিংবা পুলিশ এটি করা নিয়ে টালবাহানা করে থাকে বলেও অভিযোগ আছে। তাই হারানো কার্ডটি দ্রুত সময়ের মধ্যে পেতে জিডির বিধানটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে পুলিশের কাজ কিছু কমার পাশাপাশি আর্থিক বাণিজ্যের পথ বন্ধ হবে। পাশাপাশি হয়রানিও অনেকাংশে কমে আসবে বলে আমি মনে করি, যোগ করেন এনআইডির পরিচালক (অপারেশন)।

এনআইডির কর্মকর্তারা বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র হারালে অনেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কারণ দৈনন্দিন মানুষের জীবনে এটি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তবে হারানো কার্ড উত্তোলনের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ওয়াকিবহাল নেই। অনেকে এনআইডি কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটে এসে তাৎক্ষণিক এটি পেতে দৌড়ঝাঁপ করতে থাকেন। প্রাথমিক করণীয় সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনেকেই হোঁচট খায়। কারণ জিডি ছাড়া হারানো কার্ড পুনরায় তোলা যায় না। তবে জিডি করার ক্ষেত্রে অনেকে হয়রানির শিকার হন। কারণ পুলিশকে টাকা না দিলে জিডির নম্বর পড়ে না। ভুক্তভোগী অনেক নাগরিক এনআইডি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে থাকে বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।

এমনই একটি ঘটনার তথ্য জানালেন কুমিল্লা জেলা নির্বাচন অফিসের একজন অফিস সহকারী। নাম গোপন রাখার স্বার্থে তিনি বলেন, কুমিল্লার একটি থানায় জিডি করার নামে তার এক পরিচিতজন হয়রানির শিকার হয়েছেন। এমনকি এই কাজটির জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে পুলিশ হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় আড়াই হাজার টাকা।

জিডির নামে হয়রানির ঘটনা দু-একটি নয়, অহরহ। সম্প্রতি ভোটার নাগরিকদের ভোগান্তি নিরসনে জিডি ছাড়াই হারানো কার্ড উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে ঢাকা অফিসসহ সারা দেশের নির্বাচন অফিসকে তার অনুলিপি পাঠানো এবং এই আদেশ অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের হয়রানি বন্ধে জিডির বিধান তুলে দিয়ে হারানো কার্ড সহজে পেতে পদক্ষেপ গ্রহণকে ইতিবাচক সংস্কৃতির অংশ বলে মনে করছেন নির্বাচনসংশ্লিষ্টরা। কারণ দেশের ১৬ কোটি নাগরিকের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র বাহকের সংখ্যা সর্বশেষ হালনাগাদসহ ১০ কোটি ৫৬ লাখ। এসব ভোটের নাগরিকের মধ্যে কোনো না কোনো একজনের কার্ড হারাচ্ছেন।