শুক্রবার, মে ৭
Shadow

রাজধানীর বেহাল সড়ক

রাজধানী ঢাকার রাস্তাগুলোর অবস্থা, গণপরিবহনের সঙ্কট, ট্রাফিক আইন ভাঙার সংস্কৃতি ইত্যাদি আন্তঃসম্পর্ক বিষয় নিয়ে প্রচুর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বছরভরই এসব সমস্যা রাজধানীবাসীর গলার কাঁটা হয়ে বিরাজ করে। ফলে অবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সম্পাদকীয় এবং উপসম্পাদকীয়ও লেখা হয় যথেষ্ট পরিমাণে। বছর শেষ হয়ে আসছে। অথচ পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটে, অবনতিই ঘটে চলেছে। সে কারণেই আমাদেরও বাধ্য হয়ে আরেকবার বিরক্তি, উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে হচ্ছে।

পৃথিবীর সকল উন্নত দেশে প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ার নিয়ে চলাচলের সুব্যবস্থা থাকে। আমাদের দেশের রাজধানীর সড়কগুলোর এমন দশা যে সুস্থ সচল ব্যক্তিও আকস্মিকভাবে চলৎশক্তিহীন হয়ে পড়তে পারেন। তার ঠাঁই হবে হুইল চেয়ারে। ঢাকার প্রধান সড়কগুলোয় অবশ্য এখন আর উন্মুক্ত ম্যানহোল নজরে পড়ে না। অলিগলিতেও অবস্থার উন্নতি হয়েছে। কিন্তু ব্যস্ত সড়কগুলোয় পা রাখলে বোঝা যায় কী বিপদ সেখানে অপেক্ষমাণ। রাস্তাগুলো অসমান। সুতরাং পা হড়কানোর সমূহ আশঙ্কা। পা মচকানো একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে এখন। বয়স্ক ব্যক্তিদের পা মচকানো থেকে আরও মারাত্মক কিছু হতে পারে। লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া, এমনকি হাড়ের অগ্রভাগ ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও হরদম ঘটে। ফুটপাথগুলো বেদখল হয়ে না থাকলে মূল সড়কে পথচারীরা যেতেন না। অনেকেই রাস্তায় আছাড় খান নাগরিক অসচেতনার কারণেও। কলার খোসা এখনও বহু লোকই ফেলেন রাস্তার ওপরে। ভাবলে অবাকই লাগে রাজধানীর নাগরিক হয়েও গ্রাম্যতা এবং অজ্ঞানতা এখনও দূর হলো না বহু মানুষের। যেসব জায়গায় ভাগ্যক্রমে নাগরিকরা ফুটপাথ ব্যবহারের সুযোগ পান, সেসব ফুটপাথে আবার মোটরসাইকেলঅলাদের উৎপাত উৎকট। ফুটপাথে মোটরসাইকেল চালানোর কোন সুযোগই নেই, নিয়মও নেই। তবু কে শোনে কার কথা। ট্রাফিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখানোতেই যেন মোটরসাইকেলঅলাদের আনন্দ। তাদের হর্নের উচ্চ শব্দে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। এ ধরনের শব্দদূষণ মনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। আইন করেও যানবাহনের হর্নের শব্দের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখা যাচ্ছে না।

যদি ঢাকার সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে হয় তাহলে সড়কগুলোর সুস্থতা ও স্বাভাবিকতা নিশ্চিত করতে হবে সবার আগে। রাস্তার ভেতর গর্ত থাকা চলবে না। উঁচু নিচু অসমান হবে না চলার পথ। মেরামতে ও রক্ষণাবেক্ষণে আমাদের সংস্থাগুলো একেবারেই সক্রিয় ও সচেতন নয়। এসব কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙাতেই হবে। এত গেল রাস্তা ঠিক রাখার প্রসঙ্গ। এরপরেই আসে রাস্তায় চলাচলের নিয়ম বা আইন মেনে চলার বিষয়টি। এজন্য শুধু ট্রাফিক সপ্তাহ পালন কিংবা মাসে দু’মাসে একবার ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি সাধন অসম্ভব। এজন্য বিশেষ টহল টিম প্রয়োজন। যাদের কাজই হবে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ। ঢাকার প্রতিটি বড় বা প্রধান সড়কে মাত্র সাতদিন দিনভর, এমনকি রাতের বেলায়ও এ ধরনের সড়ক টহলের উদ্যোগ নেয়া হলে চালক-পথচারী সব পক্ষই সোজা হয়ে যাবে। তবে বাঙালীকে দৌড়ের ওপর না রাখলে সে ঝিমিয়ে পড়ে, করণীয় ভুলে যায়। সে কারণেই মাঝেমধ্যে এই টহল অভিযান চালাতে হবে। মানুষের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং শহরের সত্যিকারের নাগরিক চেহারা আনার জন্য সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নতি অপরিহার্য।