মঙ্গলবার, মার্চ ২
Shadow

৬৩৩ থানায় হচ্ছে শিশু সেল

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশের ৬৩৩টি থানায় শিশু সেল গঠন করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। যেসব শিশু ধর্ষণ, অপহরণ, হত্যা, পাচার, এসিড সন্ত্রাস এবং যৌন হয়রানির শিকার হবে তাদের বিষয়গুলো যথাযথ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে এই সেল। ওই মেয়ের তত্ত্বাবধানকারী হবেন জেলার সিনিয়র এএসপি। তিনি সেলের মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা এবং আসামি ধরা পড়েছে কী-না তার খোঁজ-খবর রাখবেন। এছাড়াও  ঠিকানাবিহীন অবস্থায় যেসব শিশুকে পুলিশ উদ্ধার করবে তাদের বাবা ও মাকে খুঁজে না পাওয়া গেলে তাদের সরকারি শিশু সদনে রাখা হবে। শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং শিশু নির্যাতনের ফলে রাষ্ট্রে কী-কী অসুবিধার মধ্যে পড়ে তার জন্য দেশব্যাপী প্রচার-প্রচারণা চালাবে পুলিশ।

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের আলোকে পুলিশের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) রৌশন আরা বেগম এনডিসি মানবজমিনকে জানান, শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে শিশু সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেল গঠনের ফলে শিশু নির্যাতন যেমন কমে আসবে, তেমনিভাবে শিশুর অধিকারের ব্যাপারে দেশের সকল নাগরিক সচেতন হবে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে ১০ বছর আগে শিশুর প্রতি সহিংসতার হার ছিল মারাত্মকভাবে। কিন্তু, দেশের সংশ্লিষ্ট নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়, দেশি ও বিদেশি এনজিও, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রচার ও প্রচারণার কারণে নির্যাতনের মাত্রা কমে এসেছে। ২০২৫ সালের মধ্যে শূন্যে নামিয়ে আনতে কাজ করছে পুলিশ। এ প্রকল্পটি জাতিসংঘের শিশু অধিকার তহবিল থেকে অর্থায়ন করা হবে। দরকার হলে পুলিশের পক্ষ থেকেও সেলে অর্থায়ন করা হবে।
সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দপ্তরের একটি জরিপে উঠে আসে শিশু নির্যাতনের প্রায় ৮০ শতাংশ ঘটে। গ্রামে এর হার কম। গৃহকর্মীর কাজে নিয়োজিত শিশুরা শহরাঞ্চলে নির্যাতনের শিকার হয়। তারা সবাই নিম্নবৃত্ত পরিবারের সন্তান। আবার ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের কারণেও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয় শিশুরা। যেসব শিশু নির্যাতনের শিকার হয় সেসব শিশুর প্রায় ৬০ শতাংশের কারও বাবা নেই, কারও মা নেই, আবার কারও বাবা ও মা ভিন্ন ভিন্ন সংসার করছেন। এতে করে ওইসব শিশুর আর্থিক সঙ্কটে পড়েন। জীবন ও জীবিকার তাগিদে তারা নির্যাতনের শিকার হলেও অনেক সময় কাউকে কিছু বলে না। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে সারা দেশের শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার মামলা হয়েছিল ১ হাজার ৫১০টি, ২০১৪ সালে ১ হাজার ৬৭৮টি, ২০১৫ সালে ১ হাজার ৭২৭টি, ২০১৬ সালে ১ হাজার ৮২৪টি এবং চলতি ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মামলা হয়েছিল ১ হাজার ৮৯০টি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দিন দিন মামলার সংখ্যা বাড়ছে। তবে বেসরকারি পরিসংখ্যানে এই সংখ্যা আরো বেশি হবে বলে জানা গেছে। শিশু অধিকার ফোরাম সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে সারা দেশে শুধু শিশু খুন হয়েছে ২০৯ জন, ২০১৩ সালে ২১৮ জন, ২০১৪ সালে ৩৬৬ জন, ২০১৫ সালে ২৯২ জন। এই ঘটনার সংখ্যা জিরো টলারেন্সে আনার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে এই শিশু সেল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, এই সেল দেশের প্রত্যেকটি থানায় স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও দেশে যদি কোনো নতুন থানা স্থাপন করা হয়, তাহলে সেই থানায়ও নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু হবে। থানায় এই সেলের ইনচার্জ হবেন মামলার তদন্ত করতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ১ জন এসআই। তার অধীনে ২ জন এএসআই এবং ২ জন কনস্টেবল থাকবেন। সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো শিশুর প্রতি থানায় অভিযোগ আসার পর সংশ্লিষ্ট সেলে বিষয়টি স্থানান্তর করবেন থানা পুলিশ। সেই সেল বিষয়টি তদন্ত করে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। সূত্র আরো জানায়, পুলিশ যেসব শিশুকে নির্যাতিত অবস্থায় রাস্তায় পাওয়া যাবে বা কারও যদি খোঁজ না পাওয়া যায় তাহলে তাদের জেলার শিশু সনদে রাখা হবে। তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় না পাওয়া পর্যন্ত সেখানেই তাদের রাখা হবে। সূত্রটি জানায়, কেউ যদি স্বপ্রণোদিতভাবে এই সেলে অভিযোগ করেন তাদের অভিযোগগুলো মনোযোগ সহকারে শোনা হবে। পরে পুলিশ তদন্ত করে কার্যকরী ব্যবস্থা নেবেন। যদি কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের খবর পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।