রবিবার, জানুয়ারি ১৭
Shadow

বরিশাল ও সিলেটে বিমান ঘাঁটি নির্মাণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

বিমান বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও সক্ষম করে তুলতে বরিশাল ও সিলেটে বিমান ঘাঁটি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার যশোরে বিমান বাহিনী একাডেমিতে নবীন অফিসারদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে তার বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বরিশাল ও সিলেটে নতুন দুটি বিমান বাহিনী ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। আমার বিশ্বাস, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আরও শক্তিশালী হবে এবং এর সক্ষমতা বাড়বে ।

শেখ হাসিনা বলেন, বিমান বাহিনীতে শিগগিরই বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী নতুন যুদ্ধ বিমান, উন্নত পরিবহন বিমান, আধুনিক প্রশিক্ষণ হেলিকপ্টার, প্রশিক্ষণ বিমান, সিমুলেটর, আন-ম্যানড এরিয়াল ভেহিকল সিস্টেম (ড্রোন), দীর্ঘ ও স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার এবং ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মাঝারি পাল্লার মিসাইল যুক্ত হবে।

এর আগে নবীন অফিসারদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং পদক, সনদপত্র ও ফ্লাইং ব্যাজ বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিমান বাহিনী সদস্যদের দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দেশ ও জাতির যে কোন প্রয়োজনে ভূমিকা রাখতে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি দেশে ও বিদেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা, উদ্ধার তত্পরতা ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে বিমানবাহিনীর অগ্রণী ভূমিকা পালনের কথা উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিমান বাহিনীর ‘তাত্পর্যপূর্ণ অবদান’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমান বাহিনী একাডেমির জন্য বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এই কমপ্লেক্সের কাজ শেষ হলে বিমান বাহিনী একাডেমির কর্মপরিধি বৃদ্ধিসহ প্রশিক্ষণের মান আরও বাড়বে।

সম্প্রতি বিমান বাহিনীতে কে-এইট ডব্লিউ জেট ট্রেনার, ওয়াই এ কে-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমান ও এল-৪১০ পরিবহন প্রশিক্ষণ বিমান সংযোজিত হওয়ার কথা মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি তরুণ অফিসারদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিমান বাহিনী একাডেমি থেকে যে মৌলিক প্রশিক্ষণ তোমরা গ্রহণ করেছ, কর্মজীবনে তার যথাযথ অনুশীলন ও প্রয়োগের জন্য সব সময় সচেষ্ট থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী সততা, একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, তোমরা নিজেদের এমনভাবে গড়ে তুলবে, যাতে তোমরা দেশ ও জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পার। ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর দক্ষতা অর্জনে বিমান বাহিনীর এই অফিসাররা সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।

তিনি তাদের বলেন, মনে রাখবে, ৩০ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময় আমরা আমাদের স্বাধীনতা পেয়েছি। নিজেদের কখনই সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন ভাববে না। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সব সময় চেষ্টা করবে।

বিমান বাহিনীর উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি শক্তিশালী এবং প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার জন্য জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেন। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সামরিক কৌশলগত দিক বিবেচনায় রেখে তিনি একটি আধুনিক বিমান বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে সে সময়কার অত্যাধুনিক মিগ-২১ জঙ্গী বিমান, এমআই-৮ হেলিকপ্টার স্কোয়াড্রন, এএন-২৪ পরিবহন বিমান এবং রাডার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে সংযোজন করেন।

তিনি মনে করেন, ১৯৭৫-এ জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর ১৯৯৬ সালে আমরা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে কেউ কোন কার্যক্রম গ্রহণ করেনি। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে চতুর্থ প্রজন্মের অত্যাধুনিক মিগ-২৯ জঙ্গী বিমান, বড় পরিসরের সি-১৩০ পরিবহন বিমান এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার সংযোজন করার কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে আমরা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করি। এই গোলের আলোকে আমরা ইতিমধ্যে বিমান বাহিনীতে সংযোজন করেছি বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ বিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, এমপি, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, একাডেমির কমান্ড্যান্ট এয়ার কমোডর এ এস এম ফখরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।