শুক্রবার, মে ৭
Shadow

জাফলংয়ে পাথর কোয়ারিতে ধস, ৫ শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ের মন্দিরের জুম এলাকায় পাথর তুলতে গিয়ে মাটিচাপায় আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫-এ। নিহত সাদেক মিয়া (৪০) হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের মৃত তাজ উদ্দিনের ছেলে। এ ছাড়া অপর নিহতদের পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে। তারা হলেন- হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের ইব্রাহিম আলীর ছেলে জহুর আলী (৬৫), তার ছেলে মুজাহিদ (২১) ও মেয়ে সাকিরুন (২৬) এবং জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর গ্রামের মফিজ উল্লাহর ছেলে নুর মিয়া (৫০)।

এদিকে ৫ জন নিহতের ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিলেটের জেলা প্রশাসক কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল মানবকণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি (তদন্ত) হিল্লোল রায়  জানান, জাফলংয়ে পাথর উত্তোলনের সময় গর্তে মাটিচাপা পড়ে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় জমির মালিকসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার ভোরে নিহত জহুর আলীর মেয়ে জাকিরুন বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন আবদুুছ সাত্তার, আবদুুল আলিম, আবদুুল হামিদ, আবদুুল খালেক, আলী, শাহাবউদ্দিন, আহাদ মিয়া, মহরম আলী, আহম্মদ আলী, মুহিন মিয়া, সুবাহান মিয়া, সেলিম মিয়া, ইসহাক মিয়া, ইউসুব আলী ও আইয়ুব আলী। মামলার ৬নং আসামি শাহাবউদ্দিনকে গত মঙ্গলবার রাতেই পুলিশ আটক করে। আর গর্তের মালিক আবদুুস সাত্তার অন্য একটি মামলায় আগে থেকেই কারাগারে রয়েছেন। তাকে এ মামলায়ও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার বলেন, মন্দিরের জুম এলাকায় পাথর চাপায় ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিনুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুুলাহ ও আরডিসি আরিফুর রহমান।

গত বছর সিলেটের বিভিন্ন কোয়ারিতে পাথর তুলতে গিয়ে ৩২ শ্রমিক নিহত ও ১৭ জন আহত হন। অস্বাভাবিক মৃত্যু সিলেটের পাথর রাজ্যকে ঘিরে রাখছে দিনের পর দিন। একটা মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতে ঘটে আরেকটি ঘটনা। অকালে ঝরছে প্রাণ। নিহতদের স্বজনদের পাথর চাপা কষ্ট চোখের জল অঝোরে ঝরে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকালে ৩২ জন নিহত হন। এর মধ্যে গত বছরের ২৩ জানুয়ারি কোম্পানীগঞ্জের শারফিন টিলা ধসে ৫ জন, ১ ও ১১ ফেব্রুয়ারি একই টিলা ধসে ২ জন, ৬ জুন শারফিন ধসে ২ জন, ২০ জুলাই ও ২৬ অক্টোবর আরো ৪ জন মারা যান। ১৬ ডিসেম্বর কালাইরাগে ২ জন ও ২৩ ডিসেম্বর একই কোয়ারিতে আরেকজনের মৃত্যু হয়। গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দিতে পাথর উত্তোলনকালে গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারিতে নিহত হন ৩ শ্রমিক। একই উপজেলার জাফলংয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২ জন, ২১ ফেব্রুয়ারি ২ জন এবং ৮ ও ১৬ মার্চ ৩ জন শ্রমিক মারা যান। এ ছাড়া গত বছরের ৭ নভেম্বর কানাইঘাটের লোভাছড়ায় পাথর উত্তোলনকালে মারা যান ৬ জন। এর আগে এক শ্রমিক নিহত হন পাথর উত্তোলনকালে।