মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯
Shadow

গণতন্ত্র পূনরুদ্ধারে গণজাগরণ সৃষ্টির ঘোষণা বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশে গণতন্ত্র পূনরুদ্ধারে গণজাগরণ সৃষ্টি করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার বিকালে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একদলীয় নির্বাচনের ৪র্থ বর্ষপূতির আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমাদেরকে এখন আজ জোট বেধে জেগে উঠতে হবে। মানুষকে জাগিয়ে তুলে হবে। মানুষকে জাগিয়ে  তোলার মধ্য দিয়ে একমাত্র গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। জনগনকে সঙ্গে নিয়ে আমাদেরকে গণতন্ত্র পূনরুদ্ধার করতে হবে। ২০১৮ হচ্ছে- বেগম খালেদা জিয়ার বছর, বিএনপির বছর। ২০১৮ সাল হচ্ছে জনগনের বছর, গণতন্ত্রের বছর। সেটা ইনশাল্লাহ আমরা প্রমাণ করবো আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, বিজয়ে মধ্য দিয়ে।
দেশের মানুষকে আন্দোলনে উদ্ধুদ্ধ করতে সকলকে গ্রামে-গঞ্জে’ ছড়িয়ে পড়ার আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের ‘শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে’ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে ‘৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়। আলোচনা সভায় গণতন্ত্র হত্যার প্রতিবাদে আইনজীবীরা কালো পতাকা প্রদর্শন করে।

বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতন, মিথ্যা মামলা এবং ৭৪৪ জন ‘গুম’ হওয়ার পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, এই রকম অচলায়তন থেকে মুক্তি সহজে হয় না, হবে না, ইতিহাসে নেই। ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে গণতান্ত্রিক শক্তির লড়াইটা এতো সহজ লড়াই নয়। অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, করেছি আমরা। এখন পর্যন্ত আমাদের বাংলাদেশে আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মামলা হয়েছে,৭ লক্ষ ৩৮ জন আসামী হয়েছে। আমাদের নেতা-কর্মীরা নিহত হয়েছে। ৭৪৪ জনের মতো ডিজএ্যাপিয়ার (গুম) হয়েছে। বিরোধী আইনজীবীদের এমন কেউ নেই যে তাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই।
মির্জা ফখরুল বলেন, ৫ জানুয়ারি একটি কলঙ্কিত দিন বটেই। আমরা কাছে দূঃখ লাগছে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান রাখা আওয়ামী লীগের জন্য এটি একটি সবচেয়ে কলঙ্কিত দিন। তারা (আওয়ামী লীগ) কোন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে যে তাদেরকে আজকে পুলিশ-র‌্যাব-বন্দুক-পিস্তলের সহায়তা নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হচ্ছে নির্বাচন না দিয়ে। নির্বাচন দিলে পরাজয় অবশ্যসম্ভাবী হবে, ভরাডুবি হবে তাদের।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ৪র্থ বর্ষপূর্তিতে ঢাকায় বিএনপিকে সমাবেশ করতে না দেয়ার ঘটনা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে আমি যখন এই অনুষ্ঠানে আসছিলাম তখন দেখলাম যে বনানী রোড়, গুলশান রোড় পুরো ব্লক। তারা ট্রাক দিয়ে, বাস দিয়ে লোক দিয়ে আসছে, সেটা(ক্ষমতাসীন দল) জায়েজ। আজকে একদলীয় চলছে ভিন্ন আঙ্গিকে। শুধু পোষাকটা আলাদা। পোষাকে গণতন্ত্র লেবাসেরর ছাপ দেয়া আছে। ভেতরে একদলীয় শাসন।
‘বর্তমানে দেশে ফ্যাসিস্ট শাসন চলছে’- অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রায় এক যুগ হতে চলেছে। আমরা একটা ফ্যাসিবাদের ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে বাস করছি। আমাদের রাষ্ট্র, আমাদের প্রশাসন, আমাদের আইন-বিচার- সব কিছুই ফ্যাসিস্টরা পরিচালিত করছে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা‘র পদত্যাগের প্রসঙ্গে টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সুপ্রিম কোর্টকে বলা হয়, সবচেয়ে পবিত্র জায়গা, সবচেয়ে নির্ভরশীল জায়গা। যেখানে গেলে আমি অত্যাচারিত হচ্ছি, নিপীড়িত হচ্ছে সেখানে গেলে আমি আশ্রয় পাবো। সেই জায়গার কী হাল হয়েছে? তার প্রধানকে কিভাবে চলে যেতে হয়েছে? পৃথিবীতে এই ধরণের নজির কম আছে। আজকে কোন জায়গা গেলে স্বস্তি পাওয়া যাবে। আমাদের মতো রাজনীতিবিদের কথা বাদ। সাধারণ মানুষজনের অবস্থা কেমন? একটা ফ্যাসিস্ট সোসাইটিতে ভীতি, ত্রাস গোটা সমাজকে এমন করে গিলে ফেলে যে সেখানে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। এটাকে সিকিউরিটি স্টেট বলা হয়।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব সানাউল্লাহ মিয়ার পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বোরহান উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য খোরশেদ আলম, ইকবাল হোসেন, জেড এম মূর্তজা চৌধুরী তুলা, মোহাম্মদ আলী, ওয়াহিদুজ্জামান দীপু, রফিক শিকদার, খালেদা পান্না, মিয়া খোরশেদ আলম মিয়া প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন ফকির, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজাসহ আইনজীবীরা অংশ নেন।