সোমবার, জানুয়ারি ১৮
Shadow

আম বয়ানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমা শুরু

 

কালিমুল্লাহ ইকবাল, টঙ্গী থেকে :
রাজধানীর অদূরে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার প্রথম দিনে লাখো মুসলি­ একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেছেন। নিয়মিত তাবলিগ জামাতের জামাতবন্দী মুসল­ী ছাড়াও ঢাকা-গাজীপুর, উত্তরা, সাভার, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার লাখ মুসলি­ ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত জুম্মার নামাজে অংশ নেন। ইজতেমা ময়দানে দেশের সর্ববৃহৎ জুমার নামাজে খুতবা পাঠ শুরু হয় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। নামাজ শুরু হয় ১টা ৪০ মিনিটে। ইমামতি করেন রাজধানীর কাকরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের।
গতকাল শুক্রবার বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে উত্তরের হিমেল হাওয়া আর কনকনে শীত ও ঘনকুয়াশা উপেক্ষা করে লাখো লাখো মুসলি­ ছয় উসুলে বয়ান শুনেন এবং তাশকিল, তাসবিহ-তাহলিলে অংশ নেন। তীব্র শীতের কারণে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মুসলি­দের প্যান্ডেলের বাইরে যেতে দেখা যায়নি।
এদিকে মাওলানা সা’দ ইজতেমা ময়দানে আসছেন না এ খবর মুসল্লীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মাওলানা সা’দ ইজতেমা ময়দানে আসা না আসার কোন প্রভাবই ইজতেমা ময়দানে মুসল্লীদের মাঝে দেখা যায়নি।
এবারই প্রথমবারের মতো ইজতেমার আম বয়ান আরবিতে দেওয়া হয়। বয়ানের বাংলা তরজর্মা করেন, মাওলানা সালেহ। বাদ জুম্মা বয়ান করবেন বাংলাদেশের মাওলানা মোহাম্মদ হোসেন, বাদ আসর বয়ান করবেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল বারী ও বাদ মাগরিব বয়ান করবেন বাংলাদেশের মাওলানা মোহাম্মদ রবিউল হক। আগামী রোববার আখেরী মোনাজাতের পূর্ব পর্যন্ত প্রথম পর্বের তিনদিন ব্যাপী তাবলীগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বীরা ঈমান, আখলাকসহ আমলের ওপর বয়ান করবেন।
ইজতেমায় যোগদানকারী মুসলি­ ছাড়াও জুমার নামাজে অংশ নিতে ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার লাখ লাখ মুসলি­ ইজতেমাস্থলে হাজির হন। দুপুর ১২টার দিকে ইজতেমার পুরো ময়দান পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে স্থান না পেয়ে মুসলি­রা মহাসড়ক ও অলি-গলিসহ যে যেখানে পেরেছেন পাটি, চটের বস্তা ও খবরের কাগজ বিছিয়ে জুমার নামাজে শরিক হন।
জুমার নামাজে মুসল্লীদের সাথে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও গাজীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ হাসান রাসেল, সাবেক পৌর মেয়র এড. আজমত উল্ল খান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বাদ ফজর জর্ডানের মাওলানা শেখ ওমর খতিবের বয়ানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমার মূল কাজ শুরু হয়। তার বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মুরব্বি আব্দুল মতিন। প্রথম পর্বে দেশের ১৪ জেলার মুসলি­দের পাশাপাশি গতকাল পর্যন্ত ভারত, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক ও জর্ডানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১২ হাজার ৪শ’ মুসলি­ ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন।
ইজতেমা আয়োজক কমিটি সূত্র জানায়, ইজতেমার প্রথম দিনেই অংশ নিয়েছেন প্রায় ৪ হাজার বিদেশি মুসলি­। তাবলিগ জামাতের তিন দিনব্যাপী এই বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে প্রথম দিন শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৭৯টি দেশের বিদেশী মুসল­ী ইজতেমা মাঠে পৌঁছেছেন। ইজতেমায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য রক্ষায় প্রতিদিন দুই পর্বে ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিদেশি মুসলি­দের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে গাজীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ বলেন, বিদেশি মুসলি­দের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের জন্য রয়েছে আলাদা খিত্তার ব্যবস্থা। সিসি ক্যামেরায় বিদেশিদের জন্য ৪টি খিত্তা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাঁদের খিত্তায় গ্যাস, টেলিফোনসহ সুপেয় পানি সু-ব্যবস্থা করা হয়েছে।
টঙ্গী থানার অফিসার্স ইনচার্জ ফিরোজ তালুকদার জানান, টোকাই, হকার, পকেটমার, ফকির ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। গতকাল ১০/১৫জন ফকিরকে ইজতেমা ময়দান এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদের পরে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
প্রথম পর্বের ইজতেমায় রাজধানী ঢাকাসহ ১৪ জেলার মুসলি­রা ইজেতেমায় অংশ নিচ্ছেন। সকাল থেকেই সড়ক পথ, রেলপথ ও নৌপথসহ সব পথেই টঙ্গীর তুরাগ তীরে মুসলি­দের ঢল নামতে দেখা যায়।
এবারে প্রথম দফায় বিভিন্ন জেলার মুসলি­দের জন্য পুরো ময়দানকে ২৮টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট খিত্তায় নির্দিষ্ট জেলার মুসলি­রা অবস্থান নিচ্ছেন।
বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে প্রথম পর্বে অংশগ্রহণ করেছেন গাজীপুরের (টঙ্গী) একাংশসহ নারায়ণগঞ্জ, শেরপুর, নীলফামারী, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, গাইবান্ধা, লক্ষীপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, নড়াইল, মাদারীপুর, ভোলা, মাগুরা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠিী, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা, নরসিংদী এবং বগুড়া জেলার বাসিন্দরা। প্রতিটি জেলার জন্য রয়েছে নির্ধারিত স্থান। প্রত্যেকেই স্ব-স্ব খিত্তায় অবস্থান করবেন।
এ বছর ১৬৫ একর এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে বিশাল পাটের চটের সামিয়ানা। বিদেশি মেহমানদের জন্য ইজতেমা ময়দানের উত্তর পশ্চিম কর্ণারে তৈরি করা হয়েছে ৪ কামরা বিশিষ্ট টিনের ছাউনির আন্তর্জাতিক নিবাস।
এবারের ইজতেমা ময়দানের রয়েছে ১৭টি প্রবেশ পথ। ইজতেমা ময়দানের চারদিকে ১৫টি সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ারসহ সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। মাঠ জুড়ে রয়েছে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশের কড়া নজরদারি। আন্তর্জাতিক খিত্তাসহ ইজতেমা ময়দানের খিত্তায় খিত্তায় ২ সদস্য বিশিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।
গাজীপুরে মুসল্লীদের গাড়ি পার্কিং:
গাজীপুর জেলা তথ্য অফিসার এসএম রাহাত ও ট্রাফিক বিভাগের এএসপি মো. সালেহ উদ্দিন আহমদ জানান, ইজতেমা চলাকালীন সময় জয়দেবপুর চান্দনা-চৌরাস্তা হয়ে আগত মুসুল­ীদের বহনকারী যানবাহনের জন্য টঙ্গীস্থ কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিলস কম্পাউন্ড, মেঘনা টেক্সটাইল মিলের সামনের রাস্তার উভয় পাশে,সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি মাঠ প্রাঙ্গণ, জয়দেবপুর থানাধীন ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী কলেজ মাঠ, চান্দনা-চৌরাস্তা হাইস্কুল মাঠ, জয়দেবপুর চান্দনা-চৌরাস্তা ট্রাক স্ট্যান্ড এবং নরসিংদী-কালীগঞ্জ হয়ে আগত মুসল্লীদের বহনকারী যানবাহন টঙ্গীস্থ কে-টু নেভী) সিগারেট ফ্যাক্টরী সংলগ্ন খোলা জায়গায় গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ইজতেমা চলাকালীন গাজীপুরে যানচলাচল নির্দেশনা:
ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য ১১জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা হতে উত্তর বঙ্গ হতে আসা টঙ্গী-ঢাকাগামী যানবাহন চান্দনা-চৌরাস্তা হয়ে কোনাবাড়ি, চন্দ্রা-ত্রিমোড়, বাইমাইল, নবীনগর, আমিনবাজার হয়ে চলাচল করবে। এছাড়া ১১-১৩ জানুয়ারি ও ১৮-২০জানুয়ারি পর্যন্ত টঙ্গী বাস্তুহারা থেকে টঙ্গী ব্রীজ পর্যন্ত মহাসড়ক, স্টেশন রোড ওভারব্রীজ হতে টঙ্গী রেলগেট ও মন্নু ট্রেক্সটাইল মিল হতে কামারপাড়া ব্রীজ পর্যন্ত সড়কে মোটরযান ব্যাতীত রিকশা, ভ্যান ইত্যাদি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
আখেরী মোনাজাতের দিন:
আগামী ১৪ জানুয়ারী প্রথম পর্বের আখেরী মোনাজাতের দিন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া-চৌরাস্তা হতে টঙ্গী ব্রীজ পর্যন্ত কালীগঞ্জ-টঙ্গী সড়কের মাজুখান ব্রীজ হতে স্টেশন রোড ওভারব্রীজ পর্যন্ত এবং কামারপাড়া ব্রীজ হতে মন্নু টেক্সটাইল মিলগেট পর্যন্ত সড়কপথ বন্ধ থাকবে বলে জানান গাজীপুর জেলা ট্রাফিক বিভাগ। এরআগে ১৩জানুয়ারি এবং ২০ জানুয়ারি রাত ১০টা হতে টঙ্গীর নিমতলী রেলক্রসিং, কামারপাড়া ব্রীজ ও ভোগড়া বাইপাস দিয়ে ইজতেমাস্থলের দিকে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে ভোগড়া বাইপাস মোড় থেকে মুসল্লীদের নিয়ে ইজতেমাস্থলের দিকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত শ্যাটল বাস চলাচল করবে। তবে বিকল্প হিসেবে ভোগড়া বাইপাস দিয়ে কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা হয়ে এবং বিপরীত দিকে ৩০০ফুটের রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে।
নৌযান চলাচল নির্দেশনা:
বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে ১২ জানুয়ারী থেকে ২১জানুয়ারি পর্যন্ত কামারপাড়া সেতু থেকে টঙ্গী সেতু পর্যন্ত তুরাগ নদে সকল প্রকার নৌযান চলাচল ও নোঙ্গর বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে নৌযানসমূহ টঙ্গী সেতুর পূর্ব পাশে এবং কামারপাড়া ব্রীজের উত্তর পাশে নোঙ্গর করতে পারবে। নারায়নগঞ্জ ছাড়াও সদরঘাট থেকে ৬টি ওয়াটার বাস টঙ্গী পর্যন্ত মুসুল­ীদের পরিবহণ করতে পারবে।
এদিকে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল জানান, এবছর ১৫টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের অজু-গোসলের জন্য প্রতিদিন প্রায় চার কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া মুসল্লীদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক টয়লেট ও গোসলখানা স্থাপন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান, ইজতেমা এলাকাসহ আশেপাশের এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, অশ্লীল পোস্টার অপসারন এবং হোটেল রেস্তোরায় বিশুদ্ধ খাবার নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মুসুল­ীদের যাতায়তের জন্য তুরাগ নদের ওপর ৭টি ভাসমান ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। তুরাগে নৌটহল ছাড়াও ডুবুরীদল মোতায়েন করা হয়েছে। ইজতেমার পরিবেশ রক্ষায় প্রতিদিন ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই পর্বে পরিচালিত হবে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশীদ জানান, মুসল্লীদের নিরাপত্তা ও ইবাদত বন্দেগী নির্বিঘœ করতে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা এলাকায় ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিযুক্ত করা হয়েছে। তারা ৮ ভাগে ভাগ হয়ে মুসল্লীদের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন। মুসল্লীদের প্রবেশ পথে সন্দেহভাজনদের মেটাল ডিটেক্টর, ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার ও ৪১টি সিসি ক্যামেরা থেকে পুরো ইজতেমাস্থল পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়া রোহিঙ্গাদেরও ইজতেমা মাঠে প্রবেশে নজরদারি করা হচ্ছে। বিশ্ব ইজতেমা এলাকায় হকার ও ভিক্ষুক মুক্ত রাখা হবে। ইজতেমার শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাজীপুর জেলা পুলিশ সদস্যদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইজতেমা ময়দানগামী সড়কগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের ১৮শ সদস্য দায়িত্বপালন করছেন। এছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদাভাবে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এমএ মান্নান জানান, ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের ইবাদত বন্দেগী নির্বিঘœ করতে ২৬টি ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধনের ঔষধ ¯েপ্র করা হচ্ছে। ২১টি গার্বেজ ট্রাকের মাধ্যমে ইজতেমা ময়দান থেকে বর্জ অপসারণ, ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা ও ময়দান এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনী ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হচ্ছে। এখানে বিদেশী ক্যাম্পে রান্নার জন্য ১৩৬টি গ্যাসের চুলা স্থাপন করা হয়েছে।
ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মো. গাউস আল মুনির জানান, ইজতেমা চলাকালে বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে এবং প্রতিটি ট্রেন টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে দুই মিনিট করে যাত্রা বিরতি করবে।
বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ইজতেমা এলাকায় মুসল­ীদের মাঝে পাঁচটি ফিডারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
গাজীপুর সিভিল সার্জন মঞ্জুরুল হক জানান, টঙ্গী শহীদ আহসান উল­াহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে বার্ণ ইউনিট, অর্থোপেডিক ও ট্রমা, চর্ম-যৌন সার্জারী, অ্যাজমা, কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ ছাড়াও তাদের তিনটি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পে শতাধিক চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও অফিসসহায়ক ২৪ঘন্টা দায়িত্ব পালন করবেন। মুসুল­ীদের সেবা দিতে জরুরী ভিত্তিতে ১৪টি অ্যাম্বলেন্স স্ট্যান্ডবাই রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য ৪৫টি ফ্রি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব সেবা কেন্দ্র দুই পর্বের ইজতেমায় মুসল­ীদের ফ্রি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
বিশ্ব ইজতেমায় ২ মুসলি­র মৃত্যু : বিশ্ব ইজতেমা শুরুর আগের রাতে কাজী আজিজুল হক (৬৫) নামে এক মুসলি­র মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি মাগুড়া জেলার শালিখা থানার খরিশপুর গ্রামে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে আজিজুল হক ২৯নং খিত্তায় পেটের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। গতকাল শুক্রবার ফজরের নামাজের পর ইজতেমা ময়দানে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ পাঠানো হয় তার গ্রামের বাড়িতে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়িচাপায় নিহত হন (৩৩) বছর বয়সী আব্দুল মামুন মনা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল­াহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। গুরুতর আহত মনাকে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু ঢাকা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রাস্তায় তিনি মারা যান বলে জানা গেছে। নিহত মনা ঢাকার আগারগাঁও নিবাসী কেরামত আলীর ছেলে।
টঙ্গী আহসান উল­াহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে এবার ঠান্ডাজনিত রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে ডায়রিয়া, পাতলা পায়খানা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা, জ্বর। হোমিপ্যাথিক বোর্ডের চিকিৎসা কেন্দ্র জানায়, এজমা, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, ডিসেন্ট্রি ইত্যাদি। টঙ্গী ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি জানান, ঠান্ডা, জ্বর, পাতলা পায়খানা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি। ইবনে সিনা জানান, শরীর ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া রোগী বেশি আসছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন। হামর্দদ জানান, সর্দি, শরীর ব্যথা, ডায়রিয়া ও ডিসেন্ট্রিসহ ঠান্ডাজনিত রোগীই বেশি আসে।
রাজধানীর অদূরে শিল্পনগরীতে টঙ্গীর তুরাগ নদের পূর্ব তীরে ১৯৬৭ সাল থেকে বিশ্ব তাবলীগ জামাত আয়োজিত ৩দিনব্যাপী বার্ষিক ইজতেমা শুরু হয়। ওই বছর বিভিন্ন দেশের শতাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল­ী ইজতেমায় যোগ দেওয়া এবং আখেরী মোনাজাতে অংশ নেওয়ায় সে থেকে বার্ষিক ইজতেমাকে বিশ্ব ইজতেমার নামকরণ করা হয়। এর পূর্বে ১৯৬৫ ও ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর পাগাড় নামক স্থানের একটি খালি শিল্প প্লটে বার্ষিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। তার আগে ঢাকার কাকরাইল, ডেমরা, নারায়ণগঞ্জের ফতুল­া এবং চট্টগ্রামে বার্ষিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়।
এ বছর গতকাল শুক্রবার বাদ ফজর থেকে তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বীদের আম বয়ানের মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হয়েছে। আগামী ১৪ জানুয়ারী প্রথম পর্বের আখেরী মোনাজত অনুষ্ঠিত হবে। মাঝে ৪ দিন বিরতি দিয়ে আগামী ১৯ জানুয়ারী থেকে তিন দিনব্যাপী দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা শুরু হবে। ২১ জানুয়ারী রোববার আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ২০১৮ সালের বিশ্ব ইজতেমা।