মঙ্গলবার, মার্চ ২
Shadow

গফরগাঁওয়ে ব্রক্ষপুত্রের চরে বিষমুক্ত সবজির বাম্পার ফলণ

 

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :

তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার চাদর উপেক্ষা করে সবজি চাষে ব্যস্ত ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার ব্রহ্মপুত্র নদীর বুকে জেগে ওঠা টাঙ্গাব ব্রাম্মন খালী চরের কয়েক হাজার কৃষক। কৃষকের বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন সবুজ ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, মিস্টি কুমরা, টমেটো , কাঁচা মরিচ , মিস্টি আলু, গোল আলু , বেগুন, শীত লাউ, মাস ডাউল, মুগ ডাউল ও ধনেপাতার সমারোহ। মাঠে শীতের সবজির সমারোহ প্রকৃতিকে জানান দিচ্ছে এখন চলছে মাঘ মাস। এবার শীতের সবজির ভাল দাম ও বাম্পার ফলন পাওয়ায় কৃষকের চোখে এখন নতুন দিনের স্বপ্ন ।

ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার বুকচিড়ে পাগলা থানার দত্তেরবাজার এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদ দুই ভাগ হয়ে মধ্যবর্তী স্থানে জেগে উঠেছে বিশাল চর। যার তিনদিকে তিনটি জেলার অবস্থান। যার পশ্চিম দিকে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা পূর্ব দিকে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানা, আর দক্ষিণ পাশে রয়েছে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানা । বিশাল এই চরাঞ্চলে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও কৃষকেরা ব্যস্ত রয়েছে শীতকালীন সবজি চাষে ।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফারহানা হোসেন বলেন, উপজেলার পাগলা থানাধীন ব্রহ্মপুত্র নদীর বুকে জেগে ওঠা টাঙ্গাব ব্রাম্মন খালী চরে ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিশাল আয়াতনে ১১শত একর জমিতে এবার শীতকালীন সবজির চাষ হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, মিস্টি কুমরা, টমেটো , কাঁচা মরিচ , মিস্টি আলু, গোল আলু , বেগুন, শীত লাউ , মাস ডাল, মুগ ডাল সহ বিভিন্ন জাতের শাক সবজি । স্থানীয় কৃষি অফিসের তত্ত¡াবধানে গত কয়েক বছর যাবৎ কৃষকদের বিষমুক্ত সবজি চাষে প্রশিক্ষণ দেওয়ায় এখন গফরগাঁওয়ে উৎপাদিত অধিকাংশ সবজিই বিষমুক্ত।

এ এলাকার এখনো রাস্তা ঘাঠের উন্নতি না হওয়ায় , কৃষকের উৎপাদিত শাক-সবজি ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । তবে অর্ধেক দামে পাইকারেরা কৃষকের উৎপাদিত সবজি রাতে রাতেই পাশর্বতি জেলা গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা ও চান্দনা চৌরাস্তা সহ কয়েকটি আড়ৎ হয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ হচ্ছে। এখনকার গ্রামীণ অনেক পরিবার বাড়ির আঙিনায় বিষমুক্ত নানা ধরনের শাক সবজি চাষ করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছে।

ব্রাম্মন খালী গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন জানান, ১০ হাজার টাকায় ১০ কাঠা জমি বর্ঘা নিয়ে কাঁচা মরিচ ও টমেটোর চাষ করে এপর্যন্ত ৪০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন, আরো এক লক্ষ টাকা বিক্রির আশা তাঁর।

বটতলা গ্রামের গৃহবধূ হাজেরা বলেন দৈনিক ২৫০টাকা মুজুরীর নির্ধারিত থাকায় প্রতিদিন কাজ করতে পারছেন। অন্যান্য সময় কাজ না থাকায় এই শীতকালিন সময়টার উপর নির্ভর করতে হয়। এ কাজের উপরই তাঁর পুরো পরিবার নির্ভর করে।

টাঙ্গাব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোফাজ্জল হোসেন (সাগর ) জানান, ব্রাম্মন খালী চর অত্র এলাকায় এবছর আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে । তবে টাঙ্গাব ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পুলের ঘাট বাজার পর্যন্ত ৭ কিলোমিটরি রাস্তা পাকা হলেই, কৃষকরা উৎপাদিত শাক-সবজিা ন্যায্য মূল্য পাবে।

টাঙ্গাব গ্রামের ছাইফুল ফকির জানান, বিগত বিএনপি জামায়াতের টানা অবরোধে তাঁর ক্ষতি হয়েছিল তিন লক্ষ টাকা। বিভিন্ন কারণে নিঃস্ব হওয়ার পথেই আবারো ধার দেনা করে কয়েক বছর কোন রকমে কৃষিতে টিকে থেকেছেন। এবার দশ বিঘা জমিতে শীত লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, কাঁচা মরিচ ও টমেটোর চাষ করেছেন। দুই লাখ টাকা খরচ হলেও এখন পর্যন্ত বিক্রি চার লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আরো ছয় লক্ষ টাকা বিক্রির আশা তাঁর। ধার দেনা শোধ হওয়ার মধুর স্বপ্নের হাতছানি এখন তাঁর সামনে।

টাঙ্গাব গ্রামের গৃহবধু রোকছানা জানান, তিনি নিজের শ্রমেই বাড়ির পাশের অব্যবহৃত বিশ শতাংশ জমিতে শীত লাউ ও টমেটোর চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত বাজারে ৩০ টাকা দরে প্রায় দুইশত পিছ লাউ, টমেটোর বিক্রি করেছেন। এতে তাঁর মাচা তৈরী ও আনুষাঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে বিশ হাজার টাকা আয় হয়েছে।