বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫
Shadow

পরকীয়া : ২ লাখ টাকার বিনিময়ে সাইদকে হত্যা করা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় কাঠ মিস্ত্রি হত্যার ক্লু উৎঘাটন করেছে পুলিশ। আসামিদের স্বীকারোক্তিতে পুকুর থেকে নিখোঁজ সাইদের মাথা উদ্ধার করা হয়েছে।

মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ২ লাখ টাকার চুক্তিতে খুন করা হয় সাইদকে। এ ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী ফখরুলসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এরা হলেন- উপজেলার বায়া গ্রামের ইকরামের ছেলে শামীম (২০), একই গ্রামের মোস্তফার ছেলে রাজিব (২৪) ও মঙ্গলগ্রাম গ্রামের মঈনুলের ছেলে ফখরুল (৪৩)।

বেড়া সার্কেলের এএসপি আশিস বিন হাসান জানান, সাঁথিয়া উপজেলার আটিয়া পাড়া গ্রামের মন্তাজ আলীর ছেলে কাঠ মিস্ত্রী আবু সাইদ গত ৩০ অক্টোবর করমজা বাজারে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় সাইদের বাবা মন্তাজ আলী গত ৪ ডিসেম্বর সাঁথিয়া থানায় একটি ডায়রি করেন। সাইদের মোবাইল নম্বর ট্রাকিং করে উপজেলার বায়া গ্রামের মোস্তফার ছেলে রাজীবের যোগসূত্র পাওয়া যায়। পরে ২০ জানুয়ারি রাজিবকে আটক করা হয়। রাজীবের স্বীকারোক্তি মোতাবেক হত্যার মূলহোতা মাদক ব্যবসায়ী ফখরুলকে ২১ জানুয়ারি আটক করা হয়। মঙ্গলবার ভোরে বায়া গ্রামের একরামের ছেলে শামীমকে (৩৫) আটক করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে তায়জাল বাজারের পাশের একটি পুকুর থেকে সাইদের মাথা ও খয়েরবাগান এলাকায় রফিকের মেহগনি বাগান থেকে কংকাল উদ্ধার করা হয়।

সাঁথিয়া থানার ওসি আ. মজিদ জানান, ফখরুলের বাড়িতে কাজ করতে যান কাঠ মিস্ত্রি সাইদ। ফখরুল মাদক মামলায় জেলে থাকায় তার স্ত্রীর সঙ্গে সাইদের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ফখরুল জেল থেকে বের হয়ে এসে বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়। সাইদকে হত্যার জন্য রাজীবের সঙ্গে ২ লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন ফখরুল। পরে রাজীব ও শামীম কৌশলে সাইদকে খয়ের বাগানে ডেকে নিয়ে যায়। প্রথমে শামীম রশি দিয়ে শ্বাসরোধে সাইদকে হত্যা করে। এরপর ফখরুলকে রাজিব ফোন করে জানায় সাইদকে মেরে ফেলা হয়েছে। ফখরুল বিশ্বাস করতে না চাইলে সাইদের মাথা কেটে ফখরুলের বাড়িতে নিয়ে যায় রাজীব। ফখরুল চুক্তির সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ না করায় তারা মাথাটি তার বাড়ির পাশে পুকুরে ফেলে রেখে আসে।