শনিবার, জানুয়ারি ১৬
Shadow

ভোটের রাজনীতিতে সুশীলরা অচল: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সুশীলের ব্যাখ্যা কী, অর্থ কী, কোন তত্ত্বে তারা সুশীল জানি না। তবে তাদের আকাঙ্খা ক্ষমতা যাওয়ার। একটি পতাকা পাওয়ার। কিন্তু তারা আমাদের দেশের জনগণের কাছে যেতে পারেন না। ভোটের রাজনীতিতে তারা অচল। ভোটের রাজনীতি করতে হলে জনগণের ভোট পেতে হয়। ভোট পেয়ে এই সংসদে বসতে হয় ও সরকার গঠন করতে হয়। যদি আমরা গণতান্ত্রিক ধারা অনুসরণ করতে চাই। কিন্তু এই একটি শ্রেণী আমাদের আছে তারা কিন্তু জনগণের কাছে যেতে চায় না। তারা ক্ষমতার বাকা পথ খুঁজে।

জাতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এই ধরনের কিছু মানুষ ক্ষমতায় যাওয়ার পথ পায়। এই ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য কিছু মানুষ খুঁজে নেয়। যারা সব সময় নিজেদের এইসব অশুভ শক্তির কাছে বিক্রি করতে প্রস্তুত। যেমন আমরা রাস্তার পাসে ডাস্টবিনে লেখা দেখি ‘ইউজ মি’। তারাও রাজনীতি বা ক্ষমতার ক্ষেত্রে বুকে ওরকম একটি সাইনবোর্ড লাগিয়েই বসে থাকে, ‘ইউস মি’ মানে আমাকে ব্যবহার করুণ। তারা সব সময় এরকম একটা আশায় বসে থাকে। তাদের এই যে না দেখাটাও কিন্তু ওই ধরনের একটা অসুস্থ্যতা। কারণ তাদের দৃষ্টিটা রয়ে গেছে ওই অবৈধ ক্ষমতার দিকে। এসময় তিনি স্পিকারের দিকে তাকিয়ে বলেন, মাননীয় স্পিকার আমাকে একটু সময় দিলে একটি গল্প শোনাই। স্পিকার এরপর বলেন, জ্বী বলুন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্কাসের একটি সুন্দরী মেয়েকে বারবার দড়িতে ঝুলিয়ে খেলা দেখানোর চেষ্টা করা হলেও, সে পারছিলেন না। তাই দেখে তার ইন্সট্রাকটর মেয়েটিকে সার্কাসের একটি গাধাকে দেখিয়ে বলল, এরপর যদি তুমি না পার, তাহলে ওই গাধার সঙ্গে তোমার বিয়ে দেব। একথা শুনে গাধা আশায় আশায় থাকে কখন দড়ি ছিড়ে ওই মেয়ে পড়ে যাবে, আর গাধা বিয়ে করবে। দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়- কিন্তু দড়িও ছিড়ে না আর গাধার স্বপ্নও পূরণ হয়না। আমাদের দেশের সুশীল সমাজের অবস্থা এরকম। এ সময় সংসদে হাস্যরোলের সৃষ্টি হয়। এমপিরা টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানান। এরপর শেখ হাসিনা বলেন, তবে আমি তাদের গাধা বলছি না। কারণ তারা সবাই জ্ঞানী-গুণী শিক্ষিত বিদেশি ডিগ্রিধারী। তবে তাদের আচরণগুলো যখন দেখি, আর ওই যে কবে দড়ি ছিড়বে, কবে কপাল খুলবে ওই আশায় যারা বসে থাকে স্বাভাবিকভাবে তখন তো একটু গাধার কথা মনে পড়েই। এ সময় আবার টেবিল চাপড়ে সোৎসাহে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করে সরকারি দলের এমপিরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের গতিধারায় এগিয়ে যাচ্ছে। সারা বিশ্ব স্বীকৃতি দিচ্ছে। এটা বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্য কারণ কিছু মানুষ তারা এই উন্নয়নটা চোখে দেখে না। বাংলায় তো একটা গান আছে- হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ। এসময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করেন। যারা চোখ থাকিতে অন্ধ, কান থাকতে বধির। তাদের তো হাজার বলেও দেখানোও যাবে না, শোনানোও যাবে না। যারা দেখতে পায় না, শোনতেই পায় না তাদের তো আমাদের বোঝানোর কিছু নেই।

সংসদ নেতা বলেন, আমার একটাই চিন্তা আমার বাংলাদেশের মানুষ কি পেল, তারা ভাল আছে কীনা, তারা খুশী আছে কি না। তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারছি কি না- এটাই আমাদের বিষয়। আমি জানি না এই সুশীলের ব্যাখ্যাটা কি, অর্থটা কি? কোন তত্ত্বের ভিত্তিতে তারা সুশীল- সেটা প্রশ্ন হয়েই দেখা দেয়, যখন তারা কোন কিছু দেখনও না শুনেনও না। তারা সুশীল না অসুশীল আমি জানি না। তবে একটা শ্রেণী আছে যাদের খুব আকাঙ্খা ক্ষমতায় যাবার। তাদের আকাঙ্খা তাদের একটি পতাকা পাওয়ার।

জাতীয় পার্টির এমপি ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গাড়ি একজনই চালায়। তবে সঠিকভাবে চালাতে হবে। নৌকা গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য একজন মাঝি লাগে। সেই মাঝি যদি সঠিকভাবে চালিয়ে নিয়ে যেতে চায় বা পারে তাহলে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারে। আর যদি সঠিকভাবে না চালাতে পারে তাহলে কিন্তু মাঝখানে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বঙ্গবন্ধু কণ্যা আরো বলেন, খুব স্বাভাবিকভাবেই একটি দেশ পরিচালনা তো আর কেউ এককভাবে করতে পারে না। তবে হ্যাঁ, একজনকে তো উদ্যোগ নিয়ে, ভালো-মন্দ সবকিছুর দায়িত্ব নিয়েই চলতে হয়। আমি সব সময় চেষ্টা করি সবাইকে নিয়েই চলতে। সবাইকে নিয়েই চলব। তবে এখানে একটা কথা আছে, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলরে।

তিনি বলেন, এই দেশটা আমাদের। দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ছোঁয়া যেন প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছায়। তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছায়- সেটাই আমরা চাই। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আজকের এই অর্জন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। আমরা সবাই মিলে কাজ করেছি বলে সম্ভব হয়েছে।

এ সময় সংসদ নেতা বর্তমান বিরোধীদল জাতীয় পার্টিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই সংসদে বিরোধীদল গঠনমূলক বক্তব্য রেখেছে, আলোচনা করছে। অন্তত বিএনপি যখন বিরোধীদলে ছিল, তখন যে খিস্তি-খেউর ছিল, হতো, যেসব আলাপ-আলোচনা হতো, কান পেতে শোনা যেত না। এখন সেসব নেই। অত্যন্ত গণতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে একটি গঠনমূলক আলোচনা করছে বিরোধীদল। সর্বক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে।

তিনি আরো বলেন, দেশবাসীর কাছ থেকে সর্বতভাবে সহযোগিতা পাচ্ছি। উন্নয়নের ফসল গ্রাম পর্যায়ে পাচ্ছে। আমরা বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জাতির পিতা যে সংবিধান দিয়ে গেছেন সেই সংবিধানে মানুষের মৌলিক চাহিদার কথা বলা আছে। আমরা সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।